আইনমন্ত্রীর দাবি বিষয়ে ইউনূস সেন্টারের প্রতিবাদ

গত ৭ জানুয়ারি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ করেছে ইউনূস সেন্টার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদটির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এ সংবাদ অনুযায়ী আইনমন্ত্রী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এই মর্মে মন্তব্য করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি কিনটনের নির্বাচনী তহবিলে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ‘চাঁদা প্রদানের’ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। আইনমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী প্রফেসর ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই কিনটন ফাউন্ডেশনে এ অনুদান দিয়েছিলেন, যা পরে হিলারি কিনটনের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হলেও প্রফেসর ইউনূস এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি আরো বলেন, হিলারি কিনটন এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে প্রফেসর ইউনূস এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর স্বপ্ন দেখছিলেন।
একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আইনমন্ত্রীর অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও নির্জলা মিথ্যা। কোনো প্রচারমাধ্যমেই প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে এ রকম কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। তিনি কখনোই হিলারি কিনটনের নির্বাচনী তহবিলে কিংবা দেশে বা বিদেশে কারো নির্বাচনী তহবিলে কখনো কোনো চাঁদা দেননি। প্রফেসর ইউনূস এ অভিযোগ অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি দেননি বলে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যও সঠিক নয়। গত ২০ এপ্রিল ও ৩১ আগস্ট ইউনূস সেন্টার থেকে প্রদত্ত দু’টি বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়, প্রফেসর ইউনূস হিলারি কিনটনকে বা তার নির্বাচনী প্রচারণায় বা কিনটন ফাউন্ডেশনকে কখনোই কোনো অর্থ দেননি।
এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি কিনটনের নির্বাচনী তহবিলে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ‘চাঁদা প্রদানের’ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যটি একান্তই কল্পনাপ্রসূত ও ভিত্তিহীন। ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের কোনো ঘোষণাই দেয়নি।
হিলারি কিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে বাংলাদেশের কোনো সরকারকে বা পৃথিবীর কোথাও কোনো সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর কোনো চিন্তাও প্রফেসর ইউনূস কখনো করেন না।
আমরা আশা করব, দেশের সর্বোচ্চ আইন রক্ষাকারী হিসেবে আইনমন্ত্রী হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতির সামনে তার অভিযোগগুলো প্রমাণ করবেন অথবা তার মিথ্যা বক্তব্যগুলো প্রত্যাহার করে নেবেন। বিজ্ঞপ্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.