স্বল্পমূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন ডিএনসিসি মার্কেট ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পমূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন গুলশানে আগুনে তিগ্রস্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেটের দোকানিরা। এসব জিনিস স্বল্পমূল্যে কিনতে ডিএনসিসি মার্কেটের আশপাশে ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ক্রেতাদের বেশির ভাগই হলেন অফিস-ফেরত। দোকানে আগুন লাগার পর বেঁচে যাওয়া ও কালি লাগা জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন মার্কেট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সবই তো শেষ। বেঁচে যাওয়া কিছু নষ্ট হওয়া বা কালি লাগা এসব জিনিস বেচে দিয়ে যা পাওয়া যায় সেটাই লাভ। এ দিকে স্বল্পমূল্যে ভালো মানের জিনিস একটু কালি লাগলেও কিনে সন্তুষ্ট ক্রেতারা।
গতকাল দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের সামনে ফুটপাথ, পেছন ও পাশের সীমানা দেয়াল এবং সামনের খোলা জায়গায় তিগ্রস্ত দোকানিরা নানা ধরনের জিনিস বিক্রি করছেন। এর মধ্যে আছে শিশুদের খেলনা, শিশুদের ব্যবহারের জিনিসপত্র, প্যাম্পাস, সাইকেল, কাচের তৈজসপত্র, প্লাস্টিকের ফুল, তোয়ালেসহ সব ধরনের গৃহস্থালি ব্যবহার্য জিনিস।
মার্কেটের বাইরে ‘কিডস কাবের’ কয়েকজন কর্মচারী শিশুদের সাইকেল, বেবিসিটার, খেলনা গাড়ি বিক্রি করছিলেন। সেখান থেকে একটি সাইকেল তিন হাজার টাকায় কেনেন এক ব্যক্তি। তিনি এই বলেন, সাইকেলটিতে একটু কালি লেগেছে। কিন্তু বাকি সব ভালো। অন্য দোকান থেকে নিতে গেলে আরো বেশি টাকা দিয়ে নিতে হতো। তাই নিয়ে নিলাম।
এ দোকানের কর্মচারী আলমগীর হোসেন জানান, এ সাইকেলটি অন্য সময় ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন যা পাচ্ছি তাই লাভ। তাই দিয়ে দিচ্ছি।
‘ব্রাইট ওয়াচ’ নামের একটি দোকানের অ্যান্টিক ডিজাইনের দেয়ালঘড়ি বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার দিন ৪০০ থেকে ৫০০ ঘড়ি বের করে আনতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেগুলোতে কালি লেগে গেছে। তাই এখানে বিক্রি করে দিচ্ছি। একটি মাঝারি আকারের দেয়ালঘড়ি এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। আগুন লাগার আগে এ ঘড়ি বিক্রি করতাম দুই হাজার টাকায়।
তুহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে বিক্রি হতো ঘরের প্রয়োজনীয় (হোম অ্যাপ্লায়েন্স) প্রেসার কুকার, রাইস কুকার, ইস্তিরি, ব্লেন্ডার মেশিন ইত্যাদি। ওই দোকানের বিক্রেতারা জানান, তারা যা দাম চাইছিলেন, ক্রেতারা তার কাছাকাছি দাম বললেও তা দিয়ে দিচ্ছেন। যেমন চপারসহ ব্লেন্ডার আগে বিক্রি করতেন পাঁচ হাজার টাকায়। কিন্তু আজ দরদামের একপর্যায়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.