খুলনা সিটি করপোরেশন

বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সড়কে জ্বলবে সোলার এলইডি-নন এলইডি বাতি

খুলনা ব্যুরো

কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস ব্যবহার নিশ্চিত করার ল্েয ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৩ কিলোমিটার সড়কে সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এসব সড়কবাতি জ্বলবে। করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়সহ খুলনা মহানগরীর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তীব্র আলোয় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাত্রাও অনেকাংশে কমে আসবে। কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ৩৩ কিলোমিটার সড়কে সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার সড়কের আওতায় ৭৯টি স্থানে একটি পরিপূর্ণ সেট অর্থাৎ এলইডি লাইট, খুঁটি, সৌরশক্তিচালিত ডিভাইস ও সহজে বহনযোগ্য আয়তাকার আকারের সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে শিববাড়ি মোড়ে ৪টি, রূপসাঘাটসংলগ্ন এলাকায় ২টি, আট থানায় ৮টি, রূপসা ব্রিজ, রয়্যাল মোড়, গল্লামারী মোড়, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, সোলার পার্ক, গোয়ালখালী মোড়, নতুন রাস্তার মোড়, দৌলতপুর, রেলিগেট মোড়, ফুলবাড়ী গেট, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি করে, পাওয়ার হাউজ মোড়ে, ডাকবাংলা মোড়ে, পিকচার প্যালেচ মোড়ে, সার্কিট হাউস ময়দানে, নগর ভবনের সামনে, শহীদ হাদিস পার্কে, নতুন বাজার মোড়ে, কেএমপি, টুটপাড়া কবরখানা, পিটিআই মোড়, জাতিসঙ্ঘ পার্কে, ময়লাপোতা মোড়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে, বয়রা মোড়, বয়রা গার্লস কলেজ, জোড়াগেট রেল ক্রসিং, বৈকালী রেল ক্রসিং, মুজগুন্নি রেলক্রসিং, গোয়ালখালী রেল ক্রসিং, নয়াবাটী রেল ক্রসিং, দৌলতপুর রেল ক্রসিং, আড়ংঘাটা বাইপাস, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা বাইপাস, জয় বাংলার মোড়, ময়ূর নদীর ব্রিজ-সংলগ্ন, মিলেরডাঙ্গার আইডি হাসপাতাল, টিবি হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতাল, বৈকালী মোড়, আবু নাসের হাসপাতাল মোড়, মহসিন স্কুল, ফুলবাড়ী গেট শহীদ মিনার, পিটিআই মোড়, নিউজপ্রিন্ট মিল, গোয়ালপাড়া পাওয়ার স্টেশন, পলিটেকনিক কলেজ মোড় ও রেলস্টেশনে একটি করে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বাকিগুলো করপোরেশনের কাছে মজুদ থাকবে। অপর দিকে, নগরীর কাস্টমঘাট থেকে বাদামতলা পর্যন্ত, খানজাহান আলী সড়ক, শের-ই-বাংলা রোড, শিপইয়ার্ড সড়ক, খালিশপুর ১৮ নম্বর সড়ক, গোয়ালখালী রোডসহ প্রধান ৩১ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ শ’ পোল ও ৩ হাজার নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
ওই সূত্র আরো জানায়, ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি করপোরেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব সোলার এলইডি ও নন এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় হাইড্রলিক ল্যাডার ও তিনটি জিপ ও পিকআপ কেনা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থে চলতি বছরের মধ্যেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন শেখ বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এসব সড়কবাতির সেটগুলো কিনে আগামী মার্চের শেষের দিকে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর করপোরেশন পর্যায়ক্রমে এগুলো স্থাপন করবে। সোডিয়াম সড়কবাতির স্থলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসব সোলার সড়কবাতি স্থাপন করা হচ্ছে। এতে আরো থাকবে রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ব্যাটারিটি সূর্যালোকের পাশাপাশি মাইক্রোইউএসবি পোর্টের মাধ্যমেও চার্জ করার ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ পরিবেশবান্ধব উপায়ে সড়কবাতি জ্বলবে। সড়কবাতিগুলোতে মধ্যরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলোর তীব্রতা কমিয়ে ড্রিম লাইটে পরিণত করার ব্যবস্থাও থাকবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খরচ সাশ্রয়সহ নগরীর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি তীব্র আলোয় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির পরিমাণও অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে; কিন্তু অর্থায়নসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি হতাশাব্যঞ্জক হয়ে পড়ে। বর্তমানে অর্থের সংস্থান হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.