ঢাকা, বুধবার,২৫ জানুয়ারি ২০১৭

নগর মহানগর

তরুণেরাই দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে : মঞ্জু

বিশেষ সংবাদদাতা

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু   : নয়া দিগন্ত

সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু : নয়া দিগন্ত

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দেশের উন্নয়নে তরুণদের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তারাই দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। এ জন্য তিনি তরুণদের গবেষণা কাজে যুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বাইরের কেউ নয়, বাংলাদেশের সমস্যার কথা তারাই ভালো জানে। তাদের গবেষণালব্ধ ফল দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
গতকাল রাজধানীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘কনফারেন্স ফর রিচার্স অন কাইমেট চেঞ্জ অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা নামক একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমান, আইসিসিসিএডির পরিচালক ড. সলিমুল হক, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি এম ওমর রহমান এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাশেদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জন্মলগ্ন থেকে পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে আসছে। এর সাথে খাপ খাইয়ে চলছি আমরা। তবে বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবীব্যাপী আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এমন কোনো প্রকল্প নেই যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত, অনুন্নত এবং স্বল্পোন্নত সব দেশই কমবেশি দায়ী। এ জন্য কোনো একক দেশকে দোষারোপ করে লাভ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ নিজস্ব ফান্ড থেকে বেশ কিছু কাজ করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এ কাজ হয়তো কম। তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং গবেষণা করা গেলে অর্থ বড় সমস্যা নয়। দেশীয় গবেষণার ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সমস্যা দেশীয় গবেষকেরা ভালো বুঝবেন। তরুণ গবেষকেরা এ কাজে এগিয়ে আসতে পারেন। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব ঝুঁকির মধ্যে আছে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, বাংলাদেশের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় এ সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গবেষণার ওপর জোর দিয়ে বলেন, উন্নতমানের গবেষণা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা যাবে।
ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন একে অন্যের সাথে জড়িত। যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়েনের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের ধারায় এখন সব দেশ চলছে। বাংলাদেশকে পিছিয়ে পড়লে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন খাতে অনেক গবেষণার সুযোগ আছে। শুধু দেশীয় নয়, এ খাতে বিদেশেও চাকরির সুযোগ আছে।
ড. সলিমুল হক তরুণ শিার্থীদের গবেষণার বিষয়ে উল্লেখ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন খাতে কিভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে তার বিশদ বিবরণও দেন তিনি। সচেতনতা এসেছে, এখন কাজ করার সময়
এ দিকে গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অন্য অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা এসেছে। এখন সবার কাজ করার সময়। তিনি বলেন, অনেকে জাতিসঙ্ঘকে খাটো করে কথা বলেন। কিন্তু তাদের মনে রাখতে হবে এটি কোনো ছোট কাব নয়। জাতিসঙ্ঘের কারণে অনেক বড় বড় কাজ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কইয়োকো ইউকোসুকা বলেন, বাংলাদেশ অনেক বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা একটি। এ খাতে বাংলাদেশ বেশ কাজ করেছে। যার কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ার অব আর্থ পুরস্কার পেয়েছেন।

বাংলাদশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবাট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে বাংলাদেশ সরকার খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার সব খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রইছ উল আলম মণ্ডল, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নরুল করিম, অতিরিক্তি সচিব নুুরুল কাদির, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো: জিয়াউল হক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫