ঢাকা, রবিবার,৩০ এপ্রিল ২০১৭

প্রথম পাতা

ইসি গঠনে আইন ও ই-ভোটিংসহ চার প্রস্তাব আওয়ামী লীগের

রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:৩৭


প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় প্রতিনিধিদল গতকাল রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সাথে সংলাপে অংশ নেন : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় প্রতিনিধিদল গতকাল রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সাথে সংলাপে অংশ নেন : পিআইডি

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১১টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাষ্ট্রপতিকে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতায় থাকা দলটি। রাষ্ট্রপতির কাছে আওয়ামী লীগের দেয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে : ক. সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারকে নিয়োগদান করবেন। খ. রাষ্ট্রপতি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারকে নিয়োগ দেবেন। গ. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ল্েয সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা। আর সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব না হলে পরের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় তা বাস্তবায়ন করা এবং ঘ. ই-ভোটিং প্রবর্তন।
নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সাথে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নিতে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। দরবার হলে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের সাথে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু হয় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে। চলে ৫টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। শুরুতে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ দেন। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বেশ কিছু বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে : ১. একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচনী প্রশাসন। ২. নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা। ৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপে আচরণ। ৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা। ৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবল প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ। ৬. আইনশৃঙ্খলা রায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপে ও দায়িত্বশীল আচরণ। ৭. দেশী-বিদেশী পর্যটক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা। ৮. নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। ৯. নির্বাচনের আগে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১০. নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। ১১. নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবল আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
রাষ্ট্রপতির কাছে আওয়ামী লীগের উপস্থাপিত প্রস্তাব ও সুপারিশমালা সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে আগামী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের েেত্র সম্ভব না হলেও পরবর্তী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সে উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। ই-ভোটিংয়ের প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপে নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধিবিধানের সাথে জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং প্রবর্তন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধান ও বিরাজমান সব আইনকানুনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির গৃহীত যেকোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি এই দলের পরিপূর্ণ সমর্থন থাকবে। এর আগে বৈঠক শেষে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতির সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫