ঢাকা, সোমবার,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

প্রথম পাতা

পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ মানবে না হকাররা

কর্মদিবসে রাস্তা-ফুটপাথে হকার বসতে দেয়া হবে না : সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার রাস্তা ও ফুটপাথে আগামী রোববার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। ছুটির দিনে সারা দিন এবং কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর হকররা বসতে পারবেন। তবে হকাররা জানিয়েছেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করলে তারা মানবেন না।
গতকাল নগরভবন মিলনায়তনে হকার সমিতির নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এমকে বখতিয়ার, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
মেয়র বলেন, সাপ্তাহিক কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে আমরা কাউকে ফুটপাথ ও সড়কে বসতে দেবো না। সড়কে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। এ কর্মসূচির আওতায় গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, জিরো পয়েন্ট, বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাথ ও সড়ক থাকবে। আগামী রোববার থেকে কার্যকর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। এ কাজে ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
মেয়র বলেন, যারা তালিকাভুক্ত হকার, তারা যদি পেশা পরিবর্তন করে চাকরি বা বিদেশে যেতে চান, তারা আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। আমরা সরকার বা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো।
সাঈদ খোকন বলেন, এ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হকারদের আইডি কার্ড চালুর বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
তবে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বা অন্য সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন হকার নেতারা। ঢাকা দেিণ পাঁচ থেকে ছয় লাখ হকার রয়েছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরাও চাই রাস্তায় কোনো হকার না থাকুক। কিন্তু রাস্তার ওপরে যে জায়গাটা আছে, সেখানে কিছু স্থান দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, একটা স্থান নিতে এক লাখ, দুই লাখ টাকা দিতে হয়। এটা কারা নেয় চিহ্নিত করেন। হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন মজুমদার বলেন, হকার পুনর্বাসন একটা কঠিন কাজ। আমরা বলেছিÑ ঢাকাকে তিলোত্তমা শহর বানাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। রাস্তা দখলের জন্য হকাররা দায়ী নন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে দৃষ্টি দিতে হবে। আগে হকার পুনর্বাসন করেন। এরপর উচ্ছেদ।
জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ চৌধুরী বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হলিডে মার্কেট নিয়ে হকারদের মধ্যে একটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হকাররা হলিডে মার্কেটে গেলে ফুটপাথে বসতে পারবে কি না?
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, প্রতিটি ফুটপাথে একজন করে চাঁদাবাজ থাকে। একটা ফুটপাথে ১০০ জন থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন একজন লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজ। এ লাইনম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করেন কথিত প্রশাসনের লোক। এ লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, হকার ট্রাফিক পুলিশ গঠন করতে হবে। তাকে আইডি কার্ড দিতে হবে। তারা সিটি করপোরেশন থেকে কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবে। এ জন্য একটা আইন করতে হবে। যদি আইন তৈরি করা না যায় তাহলে দিন দিন হকার বাড়বে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫