ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা থামছে না

লেনদেনে কড়াকড়ি

আশরাফুল ইসলাম

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

খালিদ সাইফুল্লাহ নামে বিকাশের একজন ব্যক্তিগত গ্রাহক জানান, গতকাল রাত ৩টা ৫২ মিনিটে ০১৯২০৩৬৯৫৭৯ নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে একটি মেসেজ আসে। এতে জানানো হয়, ‘অভিনন্দন, আপনি পাচ্ছেন বিকাশ ও ব্র্যাক এনজিওর পক্ষ থেকে স্টুডেন্ট স্কলারশিপ ১০ হাজার ৪৯৯ টাকা। আপনার অ্যামাউন্ট আইডি ১৫১৫। এখন আপনি আপনার প্রার্থী নির্বাচিত করুন। বিস্তারিত জানতে কল করুন ০১৯২০৩৬৯৫৭৯ নম্বরে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে অথবা ওকে লিখে এসএমএস করুন। আমরা আপনার কাছে কল করব। নিজের একটা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।’ মেসেজটি দেখার পর সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে তিনি ‘ওকে’ লিখে ওই মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠান। বেলা ৩টা ৩৬ মিনিটে ওই মোবাইল নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি ব্র্যাকের মহাখালী অফিস থেকে ফোন করেছি। আপনি আমাদের মেসেজ পেয়ে ওকে লিখে ফিরতি মেসেজ পাঠিয়েছেন। এখন আপনি আপনার পরিচিত কোনো শিক্ষার্থী থাকলে তার নাম, ঠিকানা লিখে নিজস্ব বিকাশ নাম্বার দিয়ে মেসেজ পাঠান। তাহলে আমাদের অফিস থেকে আপনাকে আবার ফোন দেয়া হবে।’ এ পর্যায়ে তিনি তাকে বলেন, ‘আপনি ব্র্যাকের সঠিক প্রতিনিধি কি না আমি তা বুঝতে পারছি না। মহাখালী ব্র্যাকের অফিস আমি চিনি, সেখানে কার কাছে গিয়ে দেখা করব বলেন।’ তখন তিনি দ্রুত মোবাইল ফোনটি কেটে দেন। এরপর কয়েকবার চেষ্টা করেও ওই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং কলের জন্য প্রতিবার টাকাও কেটে নেয়া হয়।
এভাবেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা চলছে হরহামেশাই। অনেকেই এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সচেতন হওয়ায় প্রতারকচক্র অর্থ হাতিয়ে নিতে পারছে না। প্রতারণার এ চিত্র পত্রিকার পাতায় খুব কমই আসে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকও অবহিত আছে; কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালা বারবার পরিবর্তন করেও এসব প্রতারণা ঠেকানো যাচ্ছে না।
গতকাল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা বন্ধে লেনদেনে আরো কড়াকড়ি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিয়ে দেয়া হয়েছে লেনদেনের সীমা। পাশাপাশি দিনে উত্তোলনের সীমাও কমানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারবেন। আগে যা ছিল ২৫ হাজার টাকা। আবার আগে দিনে পাঁচবার টাকা জমা দেয়া যেত। এখন থেকে তা দুইবারে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ দিনে দুইবারের বেশি গ্রাহক তার নিজের অ্যাাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন না। আগে গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ লেনদেন করতে পারতেন দেড় লাখ টাকা। এখন তা কমিয়ে এক লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অপর দিকে আগে দিনে সর্বোচ্চ তিনবার ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা যেত। এখন তা কমিয়ে দুইবারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস একটি দ্রুত বিকাশমান সেবা, যা অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশেষত নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে; কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটির অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অপব্যবহার রোধের জন্য এ সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা এবং তদূর্ধŸ নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলন করার ক্ষেত্রে গ্রাহক তার পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি এজেন্টকে প্রদর্শন করতে হবে এবং এজেন্টকে জাতীয় পরিচয়ত্র নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। তদারকির স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে প্রতিদিনের যাবতীয় তথ্য মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫