ঢাকা, শুক্রবার,২৪ মার্চ ২০১৭

শেষের পাতা

টঙ্গীতে কাল শুরু বিশ্ব ইজতেমা তুরাগতীর প্রস্তুত

শেখ আজিজুল হক টঙ্গী

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা : নয়া দিগন্ত

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা : নয়া দিগন্ত

টঙ্গীর তুরাগতীরে তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এ উপলে গতকাল থেকেই তুরাগতীরে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দুই পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা শরিক হচ্ছেন। প্রথম পর্বে ১৬ জেলা ও দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন। এ উপলে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মুসল্লিদের জন্য ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ইজতেমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়।
ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। গতকাল থেকেই লাখ লাখ মুসল্লি তাদের খিত্তায় অবস্থান করেছেন। এ ছাড়া অনেক বিদেশী মুসল্লি তাদের কামরায় অবস্থান নিয়েছেন।
এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন : প্রথমপর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫), টাঙ্গাইল (খিত্তা নং-৬, ৭, ৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা নং-৯, ১০, ১১), মৌলভীবাজার (খিত্তা নং-১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা নং-১৩), মানিকগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪), জয়পুরহাট (খিত্তা নং-১৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা নং-১৬), রংপুর (খিত্তা নং-১৭), গাজীপুর (খিত্তা নং-১৮, ১৯), রাঙ্গামাটি (খিত্তা নং-২০), খাগড়াছড়ি (খিত্তা নং-২১), বান্দরবান (খিত্তা নং-২২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা নং-২৩), শরীয়তপুর (খিত্তা নং-২৪), সাতীরা (খিত্তা নং-২৫), যশোর (খিত্তা নং-২৬,২৭) এবং দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭), মেহেরপুর (খিত্তা নং-৬), লালমনিরহাট (খিত্তা নং-৮), রাজবাড়ী (খিত্তা নং-৯), দিনাজপুর (খিত্তা নং-১০), হবিগঞ্জ (খিত্তা নং-১১), মুন্সীগঞ্জ (খিত্তা নং-১২, ১৩), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪, ১৫), কক্সবাজার (খিত্তা নং-১৬), নোয়াখালী (খিত্তা নং-১৭, ১৮), বাগেরহাট (খিত্তা নং-১৯), চাঁদপুর (খিত্তা নং-২০), পাবনা (খিত্তা নং-২১, ২২), নওগাঁ (খিত্তা নং-২৩), কুষ্টিয়া (খিত্তা নং-২৪), বরগুনা (খিত্তা নং-২৫) ও বরিশাল (খিত্তা নং-২৬) মুসলিমরা অংশ নেবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্লিরা ইজতেমার দুই পর্বেই অংশ নেবেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দণি দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।
আগামী ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতিমার প্রথম পর্ব। মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে ইজতিমার দ্বিতীয় পর্ব।
দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হওয়া মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় তাবলিগ জামাতের শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ভাগে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গত বছর যে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন এ বছর তারা ইজতেমায় অংশ নেবেন না। অবশ্য যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন না তারা নিজ নিজ জেলায় ইজতেমার আয়োজন করেছেন।
গতকাল ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে, তুরাগ তীরে ১৬৫ একর বিশাল ময়দানজুড়ে চটের সামিয়ানা তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। জামাতবন্দী মুসল্লিরা ছাড়াও টঙ্গীর আশপাশের এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ইজতেমা ময়দানের অসমাপ্ত কিছু আংশিক কাজ করছেন।
ময়দানে দেখা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতির সাথে। তিনি বলেন, এবারের ইজতেমা সফল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ইজতেমার প্রস্তুতির সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দলীয়কর্মী ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান মতিউর রহমান মতি।
বিশ্ব ইজতেমার তদারকি কমিটির সদস্য ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন সরকার বলেন, আগত লাখো মুসল্লির সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক ৩০০ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর ৯টি ভাসমান সেতু ইতোমধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ ময়দানে প্রবেশের পুরনো রাস্তাগুলো মেরামত, সংস্কার এবং সুপেয় পানিসহ ওজু, গোসলের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, টয়লেট ইত্যাদি সব কাজ সম্পন্ন করেছেন।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় পাঁচ স্তর নিরাপত্তা বলয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। ৯টি ওয়াচ টাওয়ারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে র‌্যাবের গোয়েন্দারা নজরদারি রাখছেন। আকাশপথে টহলে থাকবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। নদীপথে থাকবে বোর্ড পেট্রল। এ ছাড়া যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে র‌্যাবের স্পেশাল কুইক স্টপ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য কাজ করবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫