ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

শেষের পাতা

নন-এমপিও শিকদের কর্মসূচিতে আবারো পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি : নয়া দিগন্ত

এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি : নয়া দিগন্ত

পুলিশের বাধার কারণে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে পূর্ব ঘোষিত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে পারেননি নন-এমপিও শিাপ্রতিষ্ঠানের শিকেরা। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন, নন-এমপিও শিাপ্রতিষ্ঠান শিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্য মো: এশারত আলী। বিকেলে পুলিশি নির্দেশনার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রেস কাব চত্বর ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আজ আবারো তারা একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির দাবি আদায়ের ল্েয সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অংশ নিতে শিক্ষকেরা জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না থাকার দোহাই দিয়ে এবং ব্যস্ততম স্থানের কথা বলে অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দেয়। পুলিশ এ সময় অবস্থান কর্মসূচির জন্য আনা মাইক নিয়ে যায়। তিনি বলেন, এই অবস্থার কারণে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতির জন্য আমরা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে যাই এবং লিখিত আবেদন করি। জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়ে শাহবাগ থানাকে টেলিফোনে জানান। বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অনুমতি দেয়া হয়। অনুমতি নিয়ে এলে পুলিশ বেলা সাড়ে ১২টায় অবস্থানে বসতে দেয়।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার (নিম্ন মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা) ৯৮ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। বিভিন্ন স্তরে পাঁচ-ছয় হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে, যা এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজারের অধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লাখের অধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদানে নিয়োজিত। কিন্তু ১০-১৫ বছর বা তারও অধিককাল বিনা বেতনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাদান কঠিন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা না হলে একে একে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটি ঘটলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই নিয়মনীতিতে পরিচালিত এবং একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। সে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ নির্মম পরিহাস হলোÑ এসব চাকরিজীবীর কোনো বেতন নেই। কবে যে বেতন হবে তাও অজানা। দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বেড়েছে। প্রতি গ্রেডে বেতন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেই সাথে যোগ হয়েছে বৈশাখী ভাতা। অথচ সেই সাথে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুঃখ-বঞ্চনাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সারা দেশ থেকে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়।
গত ৮ জানুয়ারি শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৯ জানুয়ারি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্যণ করে পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্মারকলিপি দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫