ঢাকা, সোমবার,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

শেষের পাতা

১/১১’র ধারাবাহিকতা এখনো চলছে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১/১১-এর সরকারের ধারাবাহিকতা এখনো বজায় আছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার মানে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং বেআইনিভাবে একটি সংবিধানসম্মত সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে খাটো করে দেখলে চলবে না। সেদিন গণতন্ত্রকে নির্মূল করে দেশকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দেশপ্রেমিক জনগণ বিশেষ করে বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।
গতকাল রাজধানীর কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। কালজয়ী চলচ্চিত্রকার মরহুম চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট। বিশিষ্ট সাংবাদিক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেনÑ কবি আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতা জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজেদুর রহমান সাজু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতা রফিকুল ইসলাম। এ সময় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, মরহুম চাষী নজরুল ছিলেন আপাদমস্তক একজন গণতন্ত্রকামী মানুষ। তিনি রাজনীতি, সমাজ ও জাতি গঠনে বিশেষ অবদান রেখেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে একত্রিত করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। এ ছাড়া তাকে স্থায়ীভাবে স্মরণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিএনপি তাতে সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এক-এগারোর ঘটনা গোটা জাতির জন্য কলঙ্কময় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করা। দুর্ভাগ্য আজকে এক-এগারোর ১০ বছর পরও ভিন্ন আঙ্গিকে বিরাজনীতিকরণের আরেক প্রক্রিয়া দেখছি। সে সময় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কিভাবে নিঃশেষ করে দেয়া যায় তার প্রক্রিয়া চলেছে। এক-এগারোর ষড়যন্ত্রের সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।
বিএনপি অনুমতি না পেলেও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেখানে সমাবেশ করতে আমরা অনুমতি চেয়েছিলাম, পাইনি। এটা নতুন কিছু নয়। ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপি সাতবার সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছে, সরকার দেয়নি। সারা দেশে এখন দুটো আইন। আওয়ামী লীগের জন্য একটি আইন আর অন্য সবার জন্য আরেকটি আইন।
তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল ও মতকে রাজপথে নামতে দেয়া হয় না। তেল গ্যাস খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির যারা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে, তাদেরও একই অবস্থা। এরা আবার গণতেন্ত্রর কথা বলে!
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকারের প্রধান। নির্বাহী বিভাগের প্রধান। একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় অনুসন্ধানের পর বিচারের কার্যক্রম চলছে। আপনি ইতোমধ্যে অনুসন্ধানও করে ফেলেছেন, অভিযুক্তও করেছেন, ট্রায়ালে নিয়েছেন; আবার বলেও দিচ্ছেন চুরি করেছে। অর্থাৎ বিচারকের রায় দেয়ার আর প্রয়োজন আছে? সেই মামলা কোন দিকে যাবে, সহজেই বুঝতে পারি।
সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, এভাবে সরকারপ্রধান হয়ে যদি আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলায় কথা বলতে থাকেন, সেই মামলার রায় কী হবে আমরা জানি। মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং মামলাকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, সেগুলো কোথায়? আর খালেদা জিয়ার নামে পাঁচটি মামলা ছিল। এখন তা ২৯টিতে রূপ নিয়েছে। দেশ গভীর সঙ্কটে রয়েছে উল্লেখ করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, এই যে রাজনৈতিক সঙ্কট তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে জনগণকে আস্থায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন, যাতে সব দল অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচিত একটি সরকার ছাড়া এই সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব নয়।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির সংলাপপ্রক্রিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সহায়ক সরকারের অধীনে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি সংলাপ করছেন, এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। শেষ পর্যন্ত তিনি কী করবেন তার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ। আর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর।
জঙ্গিবাদের উসকানিদাতাদের গণ-আদালতে বিচার করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরাও চাই যারা উসকানি দিচ্ছে তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করুন। কিন্তু আপনারা তো সেটি করছেন না। জঙ্গিবাদে যারা অভিযুক্ত হচ্ছে, তাদের সাথে সাথে মেরে দিচ্ছেন। কোনো তদন্ত হচ্ছে না। সম্ভবত এ কারণে যে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এবং সত্য উদঘাটিত হলে আপনাদের চেহারা পাল্টে যাবে, মুখোশ উন্মোচিত হবে? কেন তদন্ত করছেন না? কেন বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না?

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫