ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

বিডিবিএল ফান্ডের লেনদেন শুরু আজ

নতুন রেকর্ডের দিকেই এগোচ্ছে পুঁজিবাজার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

লেনদেন ও সূচকের অব্যাহত উন্নতি দেশের পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিদিন যেন নতুন রেকর্ডের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজারের লেনদেন ও সূচক। ২০১০ সালের বিপর্যয়ের পর ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে যেন নতুন করে জোয়ার এসেছে। ছয় বছর পর বিপর্যয় কাটিয়ে আবার আগের ধারায় ফিরছে পুঁজিবাজার। সংশ্লিষ্টদের অনেকে এটাকে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরে আসার বহিঃপ্রকাশ মনে করলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় কেউ কেউ বাজারের চলমান প্রবণতাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের শঙ্কা এটা পুঁজিবাজারে আবার নতুন বিপর্যয়ের হাতছানি।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিএসইএক্স যাত্রা শুরু করেছে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। বিপর্যয় পরবর্তী সূচক পুনর্বিন্যাসের দাবি উঠলে ডিএসই সাধারণ সূচক বাদ দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মানের এ সূচক বিন্যাস করা হয়। ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এ সূচক এর মধ্যে ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর সর্বোচ্চ ৫৩৩৪.০৪ পয়েন্টে উঠেছিল। আর গতকাল লেনদেন শেষে এ সূচক ৫৬.৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৩৩.৮৮ পয়েন্ট। ফলে ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ সূচকের রেকর্ড গড়তে প্রয়োজন মাত্র ০.১৭ পয়েন্ট। গতকাল লেনদেনের একপর্যায়ে এ রেকর্ড ভাঙলেও দিনশেষে তা ধরে রাখতে পারেনি ডিএসই।
ডিএসই-৩০ সূচকটিও নতুন করে একই দিন বিন্যস্ত করা হয়। ২৭ জানুয়ারি ১ হাজার ৪৬০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করা সূচকটি ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর পৌঁছে যায় ২ হাজার ২ দশমিক ০৩ পয়েন্টে। এরপর আর এ পর্যায়ে পৌঁছেনি। গতকাল দিনশেষে ১ হাজার ৯০৮ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই-৩০ সূচক।
অন্য দিকে ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি চালু হয় ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি। ওই দিন ৯৪১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে সূচকটি। যাত্রা শুরুর পর থেকে সূচকটি ১৫ অক্টোবর ২০১৫ সালে একবার ১ হাজার ২৪৮ দশমিক পয়েন্টে ওঠে। গতকাল ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি দিনশেষে ১ হাজার ২৪৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে স্থির হয়। আর মাত্র ৩ পয়েন্ট বাড়লে তৈরি হবে ডিএসই শরিয়াহ সূচকে নতুন রেকর্ড।
এ দিকে লেনদেনেও নতুন রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজারটি। গতকাল ১ হাজার ৭০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে ডিএসই। ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর বাজারে যে ধস নামে তাতে টানা অবনতি ঘটে লেনদেনেও। বিপর্যয় পরবর্তী বিগত ছয় বছরের মধ্যে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই একবারই ডিএসইর লেনদেন ১ হাজার ৯৫৭ কোটিতে পৌঁছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনের যে গতি তাতে লেনদেনেও নতুন রেকর্ড গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সম্প্রতি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের লেনদেন আজ শুরু হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি দুই পুঁজিবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ফান্ডটির আবেদনপত্র ও চাঁদার টাকা জমা নেয়া হয়। আইপিওর মাধ্যমে ফান্ডের জন্য ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা। প্রতি ৫০০ ইউনিট নিয়ে আইপিও লট। আইপিওতে বরাদ্দযোগ্য ইউনিট সংখ্যা হচ্ছে ৭ কোটি।
সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এতে ফান্ডের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) দিয়েছে ১০ কোটি টাকা। আর প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ২০ কোটি। গত ১ সেপ্টেম্বর আলোচিত ফান্ডটির প্রসপেক্টাস অনুমোদন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড একটি মেয়াদি ফান্ড। এর মেয়াদ ১০ বছর।
ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক ক্যাপিটাল অ্যান্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (সিএপিএম)। ফান্ডটির ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি।
গতকাল দুই পুঁজিবাজারে সূচকের উন্নতিতে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এ চারটি বড় মূলধনী খাতই মূল বাজার সূচককে এগিয়ে নেয়। এদের মধ্যে ব্যাংকিং খাতে দর বেড়েছে শতভাগ কোম্পানির। আবার মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও বীমা খাতে ৯০ শতাংশের বেশি কোম্পানির ছিল মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়।
তবে সূচকের বড় রকম উন্নতির এ দিনে বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয় বেশি কয়েকটি খাত। এদের মধ্যে ছিল প্রকৌশল, রসায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা, চামড়া ও বিনোদন খাত। অন্য দিকে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায় সিমেন্ট, সিরামিকস, পাট, টেলিকমিউনিকেশন ও বিবিধ খাতে। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩২৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ১৯৪টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১১৭টি। অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৭১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৬৮টির দাম বাড়ে, ৯৬টির কমে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫