ঢাকা, মঙ্গলবার,৩০ মে ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

অটো ট্্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম এখনো আঁতুড়ঘরে

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

চট্টগ্রামে দুই যুগ পরও অটো ট্্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম চালু করতে পারেনি সিএমপির ট্্রাফিক বিভাগ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ হাতের ইশারার পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতির অটো ট্্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম চালুর জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তা থেকে গেছে আঁতুড়ঘরেই।
সিএমপি সূত্র জানায়, নগরীর ৪২টি মোড়ে চসিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৯-৯০ সালে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়; কিন্তু চসিক ও ট্্রাফিক বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এ সিগন্যাল কার্যকর করা হয়নি। এরপর ম্যানুয়েল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতির অটো সিগন্যালিং ট্্রাফিক সিস্টেম চালু করতে ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে জরিপ কার্যক্রম শুরু করে। একই মাসে লেন মার্কিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। তখন বলা হয়, ঈদুল আজহার আগেই লেন মার্কিং শেষ হবে এবং অক্টোবরেই শুরু হবে অটো ট্্রাফিক সিগন্যালিং সিস্টেম।
সেই সিদ্ধান্তের সূত্র ধরে জানা যায়, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ইস্পাহানি মোড়, টাইগারপাস, বাদামতলী মোড়, বারিক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা, নেভি হাসপাতাল গেট, সিইপিজেড, সিমেন্ট ক্রসিং, কাজীর দেউড়ি, জামাল খান, আলমাস সিনেমা মোড়, চট্টেশ্বরী মোড়, গণি বেকারি মোড়, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ চৌমুহনী, এ কে খান গেট, সাগরিকা মোড়, এক্সেস রোডের মুখে ও আর্টিলারি সেন্টারের মোড়ে নগরীতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হবে অটো সিগন্যালিং বাতির মাধ্যমে। এ জন্য বন্দরনগরীর প্রধান সড়কগুলোর এক মোড় থেকে অপর মোড়ের দূরত্ব এবং এ দূরত্ব অতিক্রম করতে যানবাহনের সময় কতটুকু প্রয়োজন হয় তার জরিপকাজ চলছে। আরো বলা হয়েছিল, সব ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ সিগন্যাল বাতির দ্বারা হলেও প্রতিটি পয়েন্টে ট্্রাফিক পুলিশ থাকবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৮৯-৯০ সালে গুরুত্বপূর্র্ণ মোড়গুলোয় সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়। সর্বশেষ গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় কয়েকটি মোড়ে সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম শহরে এখন ৪২টি মোড়ে সিগন্যাল বাতি রয়েছে; কিন্তু বর্তমানে তার প্রায় সবই অচল।
এ দিকে যুগোপযোগী আইন ও আধুনিক ডিজিটাল ট্্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। যানজট নিরসনে লাল-সবুজ আর হলুদ সঙ্কেতে কাজ না হওয়ায় অনেক স্থানে হাতের ইশারায় চলছে ট্্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।
যানজট পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে চট্টগ্রাম মহানগরকে দুই জোনে (বন্দর ও উত্তর) ভাগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করে ট্্রাফিক বিভাগ। পরীামূলক নগরীর দু’টি ব্যস্ততম সড়ক মোড়ে শতভাগ ডিজিটাল-ব্যবস্থা ও পাইলট প্রকল্প নেয়া হয়; কিন্তু লোকবল সঙ্কট, নানা সীমাবদ্ধতায় শুরুতেই থমকে গেছে এ উদ্যোগ। অবশ্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ জন্য আইন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন।
১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ট্্রাফিক পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। তখন বর্তমানে ৬০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নগরীতে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম ছিল। যানবাহনের সংখ্যাও বর্তমান সময়ের তুলনায় ছিল নগণ্য। ফলে হাতের ঈশারায় নিয়ন্ত্রণ করা যেত ট্্রাফিক-ব্যবস্থা; কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘ সময় পার হয়ে এলেও ডিজিটাল ট্্রাফিক-ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি এ মহানগরীতে। গত এক বছর আগে ব্যস্ততম জিইসি মোড়কে পরীামূলকভাবে ডিজিটাল ট্্রাফিক সিস্টেমের আওতায় আনা হয়। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে পরিকল্পনাটি ওই একটি সড়ক মোড়েই এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫