ঢাকা, শুক্রবার,২৮ এপ্রিল ২০১৭

থেরাপি

মতলব মিয়ার শীতনিরাময় কেন্দ্র

শামসুল হক শামস

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

হারু আর পারু দুই ভাইবোন। বয়সে বছর দেড়েকের তারতম্য থাকলেও দুইজন একই কাসে পড়ে। গেল বছর এক সাথে পিইসি পাস করেছে। দুইজনেই জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার মানে পড়ালেখায় ভালো। কিন্তু বছরের শুরু থেকে শীত তাদের পিছু ছাড়ছে না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে কষ্ট লাগে। খেতে মন চায় না। পানি পান কমে গেছে। শরীরের ওজনও কমতে শুরু করেছে। একটা কিছু করা দরকার। বিল্লাল মামা সেদিন হারু আর পারুকে ডেকে বললেন, আমার প্রিয় ভাগ্নে আর ভাগ্নী, শোনো, আমি তোমাদের একটা কথা বলি। দেশে শীতকাল চলছে।
এই বলে বিল্লাল মামা থেমে গেলেন। কয়েক সেকেন্ড পর আবার শুরু করলেন, দেখলে তো আমার ঠোঁট কেমন ফেটে গেছে? এই ফাটা ঠোঁট নিয়ে বেশি কথা বলতে পারি না। সে জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি শীতকালে কথা বলব অল্প। মানে শর্টকাট কথোপকথন। তোমাদের নাম হারুনুর রশিদ ও পারুল আক্তারকে শর্ট করে হারু ও পারু রেখে দিলাম। এবার বলো নতুন নাম পছন্দ হয়েছে?
হারু ও পারু এক সাথে বলল, জি, বিল্লু মামা। নতুন নাম অত্যধিক পছন্দ হয়েছে।
বিল্লাল মামার নাম বিল্লাল হোসেন থেকে বিল্লু নামে ডাকায় বেশ খুশি হয়েছেন। ভাগ্নে-ভাগ্নী দুটো বয়সে ছোট হলেও বুদ্ধিতে পাকা।
বিল্লু মামা বলল, এখন থেকে তোমাদের নতুন নামে ডাকব আর তোমরা তো আমাকে বিল্লু মামা ডেকেই ফেলেছ। তবে খবরদার শীতের শেষে কিন্তু এসব নাম চলবে না।
হারু-পারু জবাব দিলো, জি মামা।

২.
বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মতলবের অবতারণা করেন এলাকার মোতালেব ভাই। সে জন্য সবাই তাকে মতলব নামেই ডাকে। মতলব ভাই এই শীতে জনগণের শান্তির কথা বিবেচনা করে খুলে বসলেন, মতলব শীতনিরাময় কেন্দ্র। এখানে শীত নিরাময়ের পরামর্শ, কৌশল ইত্যাদি হাতেকলমে শিা দেয়া হয়। কিছু উপকরণও বিতরণ করা হয়। আর সব কিছুই সম্পূর্ণ ফ্রিতে। কারণ মতলব ভাইয়ের ভবিষ্যতে এলাকায় নির্বাচন করার একটা গোপন মতলব আছে। অল্প সময়ে চার দিকে বেশ নামডাক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে তার। অনেকে জরুরি কাজকর্ম ফেলে ফ্রিতে শীত নিরাময়ের টিপস নিতে ছুটে আসছে। আর মতলব ভাই দিনরাত বাইশ ঘণ্টা ঠিকঠাক সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুই ঘণ্টা সময় ব্যক্তিগত সময় হিসেবে হাতে রেখেছে।

৩.
বিল্লু মামা হারু আর পারুকে নিয়ে মতলব শীতনিরাময় কেন্দ্রে এলেন। মতলব ভাই তাদের স্বাগত জানিয়ে বসতে বললেন। বিল্লু মামা কী দিয়ে কথা শুরু করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। বিল্লু মামা কথাবার্তা তেমন গুছিয়ে বলতে পারেন না। কী বলতে কী বলে ফেলবে, শেষে মতলব যদি রেগে যায়! ঝামেলা বেধে যেতে পারে। কোনো দরকার নাই। বিল্লু মামা হারুকে ইশারা দিলো। হারু শুরু করল, আচ্ছা মতলব ভাইয়া, এই শীতে আমি গোসল করতে ভয় পাই। গোসলখানায় গিয়ে বসে থাকি। মাঝে মধ্যে গোসল না করে শুধু চুল ভিজিয়ে কাপড় পাল্টিয়ে চলে আসি। কিন্তু আম্মুর কাছে ধরা পড়ে যাই। এমতাবস্থায় আমি কী করব?
হারুর কথা শেষ হতেই পারু বলে উঠল, আমিও তাই করি, এটার সমাধান চাই মতলব ভাইয়া।
মতলব বেশ বিজ্ঞের মতো কপাল ভাঁজ করে বলতে শুরু করল, ‘এটা কোনো সমস্যাই না। আমি সমাধান দিয়ে দিচ্ছি। প্রথমে হারুকে বলছি। একটা ছোট কৌটা বের করলেন মতলব ভাই। ওটা দেখিয়ে বললেন, এটা হচ্ছে অ্যান্টি ওয়াটার জেল। পানি আমাদের শত্রু নয়, পানি জীবনও বাঁচায়, কিন্তু শীতকালে আমরা পানি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখি। অর্থাৎ জীবনকে মরণের কাছাকাছি নিয়ে যাই। আমার এই অ্যান্টি ওয়াটার জেল ব্যবহারে যেমন পানির ব্যবহার বাড়বে তেমনি শীত থেকেও বাঁচা যাবে।
হারু জিজ্ঞেস করল, কিভাবে?
দাঁড়াও বলছি। বহু সাধনা করে আমি এই অ্যান্টি ওয়াটার জেল আবিষ্কার করেছি। এতে আছে দু’টি উপাদান। গ্রিজ আর কচুপাতা বাটা। গোসলের আগে সারা গায়ে এটা মেখে নিতে হবে। তারপর পুকুর বা নদীতে ঝাঁপাঝাঁপি করলেও এক ফোঁটা পানি গায়ে মিশবে না। পানি গায়ে না মিশলে ঠাণ্ডাও লাগবে না। ব্যস, হয়ে গেল ঝটপট গোসল।
পারু একটা ঢোক গিলে বলল, আমিও কি তাই করব?
জি না, তোমাকে তা করতে হবে না। তোমার জন্য ব্যবস্থা আলাদা। মতলব ভাই দেরাজ থেকে একটা বড় সাইজের পাতলা পলিথিনের বস্তা বের করে পারুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এই নাও, এটা তোমার জন্য।
বাথরুমে ঢুকে এই বস্তার ভেতরে ঢুকে যাবে। তারপর ঝর্ণা ছেড়ে যতণ ইচ্ছা গোসল করবে। শীত লাগার কোনো সম্ভাবনা নাই।
পারুকে দেয়া মতলব ভাইয়ের পরামর্শটা বিল্লু মামার একদম পছন্দ হয়নি। তাই তিনি খানিকটা রেগে উত্তেজিত স্বরে বললেন, এবার আমারটা বলেন তো। শীত নিবারণে আমি কী করব?
মতলব ভাই ঠাণ্ডা মাথায় বললেন, এক কাজ করেন, আপনি দ্রুত একটা পাসপোর্ট করেন।
মানে? শীতের সাথে পাসপোর্টের সম্পর্কটা কী শুনি?
সম্পর্ক অবশ্যই আছে। আপনি আফ্রিকায় চলে যান। সেখানে শীত নেই। আর আপনার চেহারা সুরতের সাথে আফ্রিকানদের যথেষ্ট মিল আছে। আশা করি সমস্যা হবে না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫