ঢাকা, সোমবার,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দেশ মহাদেশ

মোদির চ্যালেঞ্জ

মীম ওয়ালীউল্লাহ

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দেশটির সীমান্তবর্তী এবং বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো সবসময় তীè নজর রাখে। সম্প্রতি এর অভ্যন্তরীণ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে কাশ্মির পরিস্থিতি, পাকিস্তান সীমান্তে হামলা পাল্টা-হামলা, চীন-পাকিস্তান করিডোরকে রাশিয়ার সমর্থন এবং সর্বশেষ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রসঙ্গ বিভিন্ন পর্যয়ের আলোচনায় জোরেশোরে উঠে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঞ্জাবের আসন্ন প্রাদেশিক নির্বাচনে ফলাফল কোন দিকে গড়াবে তারও হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বদলে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কটের ঘূর্ণাবর্তেই থাকতে হয়েছে দেশটিকে। স্বাধীনতার ৭০ বছরেও এর সামাজিক ব্যবস্থায় উল্লেখ করার মতো স্থিতিশীলতা আসেনি। রাজ্যগুলোর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নে মনোযেগ দেয়ার চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিভিন্ন সীমান্ত পাহারা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।
নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাশ্মির পরিস্থিতিই তাদের কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। গত ৮ জুলাই কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী তরুণ নেতা বুরহান রাব্বানী ওয়ানীকে পুলিশ হত্যার পর সেখান এখনো প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। শতাধিক প্রতিবাদকারীকে হত্যা করা হয়েছে। উত্তপ্ত কাশ্মিরকে সামাল দিতে মোদি সরকার এখনো হিমশিম খাচ্ছে।
দণি-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান-ভারত সঙ্ঘাত নতুন নয়। ভারত বিভক্তির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই খণ্ডযুদ্ধ লাগে। ভারতের সাথে পাকিস্তানের সঙ্ঘাতের মূল কারণ কাশ্মির। কোরিয়া, ভিয়েতনামে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা নিজেদের শক্তিশালী করতে সম হয়েছে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ছাড়া সমস্যা সমাধানের বিকল্প কোনো পথ আবিষ্কার করতে পারেনি। স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে হয়। পররাষ্ট্র নীতির দিক থেকে, ভারত প্রথম থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলে। চীনের সাথে বৈরী সম্পর্কের কারণে ওই সম্পর্ক আরো পরিপক্ব হতে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার সময় ভারত নিজেকে সব দিক থেকে শক্তিশালী করার চেষ্টা শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতার পর দেশটির সাথে আমেরিকার কখনোই খুব একটা বৈরী সম্পর্ক ছিল না। ভারতের মতো বিশাল ও শক্তিশালী দেশকে আমেরিকা কোনো সময় দূরে ঠেলে দিতে চায়নি।
এ দিকে, ইতোমধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকে (সিপিইসি) সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এই তিন দেশের বোঝাপড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। পাকিস্তানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি দেদভর সমর্থনের এ ঘোষণা দেন। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে পাকিস্তানের গিলগিট বালটিস্তান হয়ে করিডোরটি গোয়াধরে গিয়ে ঠেকবে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ করিডোর নির্মিত হলে সীমান্তে পাকিস্তান ও চীনের দিক থেকে আরো চাপে পড়বে ভারত।
গত ৮ নভেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির হঠাৎ ঘোষণা গোটা ভারতে জনগণের ঘুম কেড়ে নেয়। তিনি ঘোষণা দিলেন, ভারতের ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা হয়েছে। এর পর থেকে ওই দুই নোটে সব ধরনের কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। আর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির রূপ পেতে থাকে নতুন মাত্রা।
নোট বাতিলের ধাক্কায় সাধারণ মানুষ কতটা বিপন্ন তার একটা ফলাফল হয়তো উত্তর প্রদেশের বিধানসভার নির্বাচনে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া এ পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কংগ্রেসের, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর। বর্তমান টালমাটাল অবস্থায় হয়তো রাহুলই হতে যাচ্ছেন মোদির বিকল্প।
ভারতের রাজনীতিতে এখন গুঞ্জন চলছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয় ছাড়িয়েছিল ‘১০ হাজার কোটি’ টাকা। ওই নির্বাচনকে ‘করপোরেট’ নির্বাচন বলে অভিহিত করা হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হয়েই ‘ঘর ওয়াপসি’ আন্দোলনের নামে নির্বিচারে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু হিন্দু মৌলবাদী দল বিজেপি নেতাদের কিছু আসে-যায়নি।
মূলত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঐতিহ্যকেই ভারতের প্রাচীন ইতিহাস বলে মনে করেন বেশির ভাগ বিজেপি নেতা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিন পরই বলেন, দেবতা গণেশকে দেখেই পরে মানুষ প্লাস্টিক সার্জারির গবেষণা শুরু করে।
তবে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, সীমান্তে যুদ্ধের ডামাডোল এবং নোট বাতিল ২০১৯ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবেই সাজানো হচ্ছে। এখন দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে, আরো কত ঘটনার ধারাবাহিকতা অপেক্ষা করছে ভারতের রাজনীতিতে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫