ঢাকা, মঙ্গলবার,১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সম্পাদকীয়

মিয়ানমারের দূত ঢাকায়

নিপীড়ন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ^ব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বিশেষ দূত ঢাকা সফরে এসেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক এখন অবনতিশীল। মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা নৃশংস নির্মূল অভিযানে নেমে পড়েছে। এবার এই অভিযানে কয়েক শ’ রোহিঙ্গা নাগরিককে হত্যা করা হয়। বহু নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ছাড়া অনেক আগে থেকে বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থী এ দেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের কারণে তারা যখন প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে আসছিল, তখন মিয়ানমারের সাথে আলোচনার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সে প্রস্তাব মিয়ানমার সরকার শুধু প্রত্যাখ্যানই করেনি, সে দেশে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তারা সমুদ্রে অজানার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছে। এদের অনেকে ক্ষুধা ও পিপাসায় সমুদ্রে মারা গেছে; আবার কেউ কেউ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে। এ ধরনের চরম নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার কারণে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিবাদ জানায়। অনেক মানবাধিকার সংগঠন অং সান সু চির শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এ ছাড়া আসিয়ান দেশগুলোর পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অং সান সু চির বিশেষ দূত ঢাকা সফরে এসেছেন। নিশ্চয়ই তিনি রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। এমনকি ‘রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত’ এমন অভিযোগ তোলা হতে পারে। রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্ট। তারা মিয়ানমারের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে ভালো বা খারাপ প্রতিটি কাজের দায় মিয়ানমার সরকারের। সন্ত্রাসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করা কিংবা তাদের সীমান্তের বাইরে ঠেলে দেয়ার এখতিয়ার কোনো দেশের নেই। কেউ যদি অপরাধ করে থাকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ কারণে অন্য দেশের ওপর এই জনগোষ্ঠীর দায় চাপানো সম্পূর্ণ অন্যায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে, জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করে যারা এ দেশে এসেছে তাদের ফেরত নিতে হবে। এর মাধ্যমেই কেবল রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫