ঢাকা, রবিবার,২২ জানুয়ারি ২০১৭

সম্পাদকীয়

বাণিজ্যমেলায় অব্যবস্থাপনা

ভিুক, হকার ও অঙ্কন শিল্পীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

১২ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই বাণিজ্যমেলা জমে ওঠেনি। সপ্তাহান্তে এসে মেলায় ভিড় বাড়ছে। ভোগান্তিও বাড়ছে। ৩২ একর জায়গাজুড়ে মেলার আয়োজন করা হলেও দর্শনার্থী এবং মেলায় কেনাকাটায় আগ্রহীদের বিশ্রামের কোনো জায়গা নেই। বসে একটু কান্তি দূর করারও ব্যবস্থা নেই। মেলায় প্রবেশ করতেই ভিুকের ভিড় লেগে আছে। ভ্রাম্যমাণ হকারদের আচরণ উৎপাত বলেই মনে হয়। সবচেয়ে অশোভন কাজটা করে কিছু অঙ্কন শিল্পী। এরা শুরু করেছে নতুন ধরনের চাঁদাবাজি। কথিত এই স্ট্রিট শিল্পীরা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করছে। তার ওপর ধুলাধূসরিত মেলা প্রাঙ্গণ যেন সাধারণ হাট। এটা আন্তর্জাতিক মানকে শুধু ব্যঙ্গ করছে নাÑ দেশের ভাবমার্যাদাও ুণœ করছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বাইরে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ভ্রাম্যমাণ হকারদের দখলে রয়েছে। ভেতরে ধুলাবালি উড়ছে। মেলার প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে ছোটও আছে বড়ও আছে। কিন্তু কোথাও কোনো দৃষ্টিনন্দন ভারসাম্য নেই। মনে হবে, এর ভেতর কোনো রুচিশীলতা ও সুন্দর পরিকল্পনা কাজ করেনি। কেনাকাটায় দোকানিরা বাড়তি টাকা আদায়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ছাড় দেয়ার বা দাম কমানোর সাইনবোর্ডগুলো যেন ধোঁকাবাজদের ফাঁদ।
বাণিজ্যমেলা আয়োজনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ব্যতিক্রম ছাড়া ফিবছর বাণিজ্যমেলা বসে। প্রায়ই দর্শনার্থী ও দোকানিদের দাবির মুখে সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু গেল বারের মেলা থেকে এবারের মেলা সমৃদ্ধির ছোঁয়া পাবে, রুচির পরিচয় বেশি পাওয়া যাবে, অতীতের ভুল ও সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠা যাবেÑ তার কোনো নজির মেলে না। এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এর ফলে মেলাজুড়ে এমন এক ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় হয়ে আছে যা শিশুদের বেশি ভোগাচ্ছে। পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর-নোংরা। বাতাস দূষিত হচ্ছে।
আমরা মনে করি, নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় নেয়া উচিত। হকার ও অঙ্কন শিল্পীদের উৎপাত ও বাড়াবাড়ি দ্রুত বন্ধ করুন। ভিুক সামাল দেয়া জরুরি। ধুলাবালি ঠেকাতে ত্রিপলের কার্পেটিং কিংবা ঘন ঘন পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কেনাকাটায় ঠগবাজ ও প্রতারণা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় হতে পারে। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাগুলো মেলা থেকে সরেজমিন নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।
এই মেলা অনেকের জন্য আকর্ষণীয় বিষয়। কেউ কেউ এই মেলার জন্য অপেক্ষাও করেন, তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মেলার নামকরণের সার্থকতা ধরে রাখতে হলে ইমেজ সঙ্কট কাটাতে হবে। সেটা করতে হবে দ্রুত। আশা করি, ফেলে আসা ক’টা দিনের অভিজ্ঞতা ব্যবস্থাপকদের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫