ঢাকা, সোমবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৭

রাজনীতি

নন-এমপিও শিক্ষকদের কর্মসূচিতে আবারও পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৮:৫৫


প্রিন্ট

পুলিশের বাধার কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পূর্ব ঘোষিত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে পারেনি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

পরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী।

বিকেলে পুলিশী নির্দেশনার কারণে শিক্ষক-কর্মচারিরা প্রেস ক্লাব চত্বর ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আগামীকাল আবারও একইস্থানে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন এশারত আলী।

তিনি বলেন, এমপিওভূক্তির দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না থাকার দোহাই দিয়ে এবং ব্যস্ততম স্থানের কথা বলে অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দেয়। পুলিশ এসময় অবস্থান কর্মসূচির জন্য আনা মাইক নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, পরে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতির জন্য আমরা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে যাই এবং লিখিত আবেদন করি। জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়ে শাহবাগ থানাকে টেলিফোনে জানান। বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অনুমতি দেয়া হয়। পুলিশ বেলা সাড়ে ১২টায় অবস্থান কর্মসূচিতে বসতে দেয়।

অবস্থানকালে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার (নিম্ন মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা) ৯৮ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। বিভিন্ন স্তরে ৫-৬ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারি ২০ লাখের অধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বা তারও অধিককাল বিনা বেতনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাদান কঠিন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করা না হলে একে একে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটি ঘটলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসবে।

তারা আরো বলেন, এমপিওভূক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই নিয়ম নীতিতে পরিচালিত এবং একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ নির্মম পরিহাস হলো, এসব চাকরিজীবীদের কোনো বেতন নেই। কবে যে বেতন হবে তাও অজানা। দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বেড়েছে। প্রতি গ্রেডে বেতন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেই সাথে যোগ হয়েছে বৈশাখী ভাতা। বেতন বৃদ্ধির এ প্রেক্ষাপট স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের দুঃখ-বঞ্চনাও বেড়েছে।

সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় সারাদেশ থেকে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান। সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী আগামীকাল সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারিদের যোগদানের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি শিক্ষক-কর্মচারিরা এমপিওভূক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ৯ জানুয়ারি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষক-কর্মচারিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্মারকলিপি দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১৬৭/২-ই, ইনার সার্কুলার রোড, ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৭১৯১০১৭-৯, ৭১৯৩৩৮৩-৪

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫