ঢাকা, সোমবার,১৬ জানুয়ারি ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বিদায়ী বছরে আমরা কেমন ছিলাম

হারুন-আর-রশিদ

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৮:০৩


হারুন-আর-রশিদ

হারুন-আর-রশিদ

প্রিন্ট

২০১৬ সালের ৩৬৫ দিনের বাংলাদেশ কেমন ছিল- বিশেষ করে রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি, শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি- বিশ্লেষকেরা তুলে ধরেছেন। দৃশ্যত পরিবেশ মোটামুটি শান্ত ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণে’ ছিল। বৃহত্তম বিরোধী দল থেকে কোনো বড় ধরনের কর্মসূচি আসেনি। তারা কর্মসূচি দিলেও মাঠে নামতে পারেনি সরকারের কঠোরতার কারণে। নানা চাপের মধ্যে বিএনপিকে ১২টি মাস পার করতে হয়েছিল। ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’টিকে মনে হচ্ছিল সরকারেরই অঙ্গসংগঠন। গত বছর দেশের কতজন মানুষ গুম হয়েছে, ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে, কত মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট হয়েছে এবং কতজন নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছে- এক দিনও তার হিসাব তুলে ধরা হয়নি জাতীয় সংসদে। কেন মানুষ বেওয়ারিশ লাশ হয়, বিনা বিচারে খুন হয়, পুলিশ হেফাজতে নিহত হয়, এসব ব্যাপারে কথিত বিরোধী দলের কোনো জোরালো বক্তব্য সংসদে ছিল না। ৪৫ টাকা কেজি চিনি কেন ৮০ টাকা হলো, লবণের দাম কেন এত বাড়ল, দুই দফা গ্যাসের দাম কেন সরকার বাড়াল এবং বিদ্যুৎ, পানি, হোল্ডিং ট্যাক্স বিগত এক বছরে দেড় গুণ কেন বাড়ল; বাসের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি কেন হলো- এসব ব্যাপারে কথিত বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য ছিল না। সেহেতু বিগত এক বছরের মধ্যে এক দিনও জাতীয় সংসদ কার্যকরি গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালন করেনি। সংসদকে মনে হয়েছিল ব্যক্তিগত বৈঠকখানা। এ সংসদে জনগণের কথা থাকে না- থাকে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি আর মাঠের বিরোধী দলের অহেতুক সমালোচনা। এই সংসদকে কর্তৃত্ববাদী একদলীয় সংসদ হিসেবে ধরে নেয়া যায়।
বিদায়ী বছরের ঘটনাবলি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে কথা বলেছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পুরো বছর ধরে দৃশ্যত দেশে শান্ত অবস্থা বিরাজ করলেও মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও গুমোট পরিস্থিতি ছিল। কার্যকর বিরোধী দল সংসদ ও সংসদের বাইরে না থাকায় জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বলার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি বলেছেন, দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত হয়েছে।
মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করেছে। জনগণকে অনেকটা অসহায় অবস্থায় দেখা গেছে পুরো বছরজুড়ে। দেশের সামাজিক ও নৈতিক চিত্র অনেক খারাপ হয়েছে। কুমিল্লা সেনানিবাসে তনু হত্যা বছরজুড়ে পুরো দেশবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কয়েকটি শিশু হত্যা করাকে মানবতার চরম লঙ্ঘন বলে নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে।
এ নিয়ে কথিত বিরোধী দল নীরব। তাদের হাবভাবে মনে হচ্ছিল, এ রকম ঘটনা ঘটতেই পারে। এভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র চলে না। সুশাসন ও জবাবদিহির অভাব প্রায় সর্বত্র। প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র থাকলে, দেশে অবশ্যই প্রকাশ্য ও অবাধ রাজনীতি থাকবে। মিটিং, মিছিল ও সমাবেশ করার নির্বিঘ্ন পরিবেশ থাকবে। রাজনীতি থাকবে রাজপথে ও সংসদে। এসবের কিছুই দেখা যায়নি। পুরো মাঠ ও সংসদ সরকারি দলের জবরদখলে ছিল।
রাজনীতিতে নতুন উপসর্গ ছিল জঙ্গিবাদ। ইংরেজি শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা এবং বিত্তবান পরিবারের সন্তানেরা এতে জড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জঙ্গিবাদ উত্থানের কারণ হিসেবে বলেছেন- প্রকাশ্য রাজনীতি না থাকলে দেশে অদৃশ্য ঘটনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নেই। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নেই, সেই অর্থে ছাত্ররাজনীতিও নেই। এসব কারণে নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকছে না। তরুণেরা মতপ্রকাশ, তার অনুশীলন ও চর্চার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের সামনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নেই। বীরত্ব প্রকাশের সব সম্ভাবনাময় পথ রুদ্ধ দেখে অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে। তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, বিচ্ছিন্নতা, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফি এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে, যা জাতির সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বিগত বছর কিছু টাআশার সঞ্চার করেছে দৃশ্যমান পদ্মা সেতু। এ দিকে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপের সূচনা করেছেনÑ যা জাতিকে আশান্বিত করেছে। এই সংলাপ কতটুকু সফল হবেÑ নাকি একেবারেই হবে না তা দেখার জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে উন্নয়ন টেকসই হয়। রাজনীতি গণতন্ত্র ছাড়া অচল। রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরে এলে দেশটাও বিপদমুক্ত হবে। জঙ্গিবাদের বিস্তার ওই সব দেশেই হয়েছে, যেখানে গণতন্ত্র ও সুশাসন অনুপস্থিত। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে জঙ্গিবাদের রঙ্গমঞ্চে পরিণত হওয়ার নেপথ্য কারণ গণতন্ত্রহীন সমাজকাঠামো।
আওয়ামী লীগ সরকার বিতর্কিত নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের এক মাস পরই দেশব্যাপী কয়েক ধাপে ৪৭১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু করে। এরপর ঢাকার দু’টি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন। উপজেলা পরিষদের প্রথম দুই পর্ব এবং নাসিক নির্বাচন বাদ দিলে বাকি সব নির্বাচনে জাল ভোটের মহোৎসব পরিলক্ষিত হয়। জবরদস্তি, সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও শত শত আহত মানুষের আহাজারির ঘটনা ঘটে। একতরফা এসব নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা নজিরবিহীন। স্থানীয় সরকারও এখন আওয়ামী লীগের কব্জায়। দেখা গেছে, স্থানীয় সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ শতাংশ শীর্ষ পদ এখন আওয়ামী লীগের দখলে। এর সাথে ‘বিদ্রোহী’ যোগ করলে দেখা যায়, প্রায় ৮৩ শতাংশ শীর্ষ পদই দলটির একক নিয়ন্ত্রণে।
বিদায়ী বছরে খুনোখুনি নিজেদের মধ্যে এবং বিপক্ষ গ্রুপকে উদ্দেশ করে কী পরিমাণ হয়েছে তার একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরছি। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রাম নগরীতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ১০ মাসে ৭৭ জন খুন হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ১০ মাসে খুন হয়েছে ৫২৩ জন। ধর্ষণসহ নারী-শিশু নির্যাতন হয়েছে ২৮২টি। ঢাকা মহানগরীতে যানজটে প্রতি মাসে ক্ষতি হয়েছে ২২৭ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে (২০১৬) ক্ষতি হয়েছে (২২৭ী১২) = দুই হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে ‘নগর পরিস্থিতি ২০১৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষক দল এ তথ্য তুলে ধরে।
২০১৬ সালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল- ভারতীয় চ্যানেলের আগ্রাসন এবং বিজ্ঞাপন বাবদ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সংবাদ। একটি জাতীয় দৈনিকের হেড লাইন ছিলÑ প্রতি বছরে চার শত কোটি টাকার বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে বিদেশী চ্যানেল কর্মকর্তাদের পকেটে। ২০১৬ সালে নিখোঁজ ও গুমের পরিসংখ্যান দীর্ঘ। ৬-১২-২০১৬ পত্রিকার নিউজÑ নাটোরে নিখোঁজ তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ মিলল দিনদুপুরে। কোথাও কোথাও হিন্দুদের ওপর ২০১৬ সালে অত্যাচার চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। মদদপুষ্ট এসব লোক সরকারি দলের। বহু জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, পূজামণ্ডপ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ৯৮ জন সংখ্যালঘুকে খুন করা হয়েছে। দুই হাজার ৩২৮টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এবার আসুন দেশের সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং খাতের দিকে দৃষ্টি দেই। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার চুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগে বাধ্য হনÑ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান। বরখাস্ত করা হয় দুই ডেপুটি গভর্নরকেও। চুরি হওয়া অর্থের কিছু ফেরত পাওয়ার পর বাকি রয়েছে ছয় কোটি ৫৮ লাখ ডলার। তা ফেরত পাওয়া নিয়ে অগ্রগতি লক্ষণীয় নয়। এ ঘটনার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশ দায়ী করেছে বিদেশীদের আর বিদেশীরা বাংলাদেশের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ২৯ জুন দুর্নীতির দায়ের অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ এবং ডিএমডি মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি তিন ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
২০১৬ সালে আলোচনায় ছিল বিচার বিভাগ দুই মন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দণ্ড। তার পরও মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেননি। ইতিহাসে এ ঘটনা বিরল। প্রধান বিচারপতির দেয়া একাধিক বক্তব্য এবং অবসরে গিয়ে রায় লেখা নিয়ে প্রচণ্ড বিতর্ক হয়। একাধিক মন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার বিষয়ে আপিল বিভাগের নীতিমালা, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল, বিনা বিচারে দীর্ঘ দিন কারাভোগÑ এসব বিষয় নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে আসে উচ্চ আদালত। ২০১৬ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৫৭ জন নিহত এবং দুই হাজার ৪২৯ জন নির্মমভাবে খুন হয়। ২০১৬ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধায় ঘরে ঢুকে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ দিনই খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করতে গিয়ে খুন করা হয় পথচারী এক নারীকে।
২০১৬ সালে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক গতিতে বেড়ে যায়। গত ২৫ বছরে ঢাকা নগরীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। এ সময়ে নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে ২০০ শতাংশের ওপর। বড় বড় শহরের বাস্তবতা একই রকম ছিল। ২০১৬ সালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল, সেই অনুপাতে বিনিয়োগ বাড়েনি। বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে; কিন্তু কমেছে সরকারি বিনিয়োগ। বিনিয়োগ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম ভারী শিল্পে। তারা সস্তা আয় যেখানে বেশি সেখানেই তারা বিনিয়োগ করছে। ফলে বেকারত্ব হ্রাস না পেয়ে বেড়েছে। ২০১৬ সালে রাজধানীর তেমন উন্নতি হয়নি। পরিচ্ছন্ন বছরের ঢাকঢোল যেভাবে পেটানো হয়েছিল, সেটি ঘোষণাই থেকে গেছে। বর্জ্যব্যবস্থাপনায় নেয়া বেশির ভাগ পরিকল্পনাই বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি ডিএসসিসি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাই বলেছেন, বর্জ্যব্যবস্থাপনায় তারা ৭৫ শতাংশ ব্যর্থ। দলীয়ভাবে আয় রোজগারের চিরবন্দোবস্ত রূপ ধারণ করেছে- ঢাকা সিটির মূল সড়কের দুই পাশের রাস্তাজুড়ে।
২০১৬ সালের রাজনীতির উত্তাপ ও নিরুত্তাপ নিয়ে কিছু বলতে হয়। প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি কোনো বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। একটি কাউন্সিল অধিবেশন করেছে যা ছিল অগোছালো। ৬৪ জেলার তিন ভাগের এক ভাগেও কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই বললেই চলে। ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগ চার টার্মে ক্ষমতায় এসে পাকাপোক্তভাবে জেঁকে বসতে পারলে, জনসমর্থনপুষ্ট বিএনপি কেন ব্যর্থ হলো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, কেন্দ্রে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এতই দুর্বল ছিল যে, ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে খালেদা জিয়াকে ঘরের বাইরে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বড় বড় নেতা সে দিন একেবারই নীরব ছিলেন। অনেকের মুখে শুনেছি ওই দিন বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো দলীয় সমর্থকেরা গুলশান অভিমুখে যাত্রা করত যদি কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামতেন। রাজনীতিতে বিএনপির প্রথম ভুলটি হলো- জনসমর্থনপুষ্ট কর্মসূচি যথাসময় না নেয়া। শুধু গণতন্ত্রের কথা বললেই হবে না। গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে জনগণের অবস্থান। তাদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে মাঠে কর্মসূচি দিলে জনগণ রাস্তায় নামত। বিএনপি অদ্যাবধি তার আমলের শেষ সময় ২০০৬ সাল এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বর, এই ১০ বছরে দ্রব্যমূল্যের বৈষম্য বা মূল্যবৃদ্ধির একটি লিফলেটও বিতরণ করেনি। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারেও ততটা সরব নয়।

লেখক : গ্রন্থকার ও কলামিস্ট
harunrashidar@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১৬৭/২-ই, ইনার সার্কুলার রোড, ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৭১৯১০১৭-৯, ৭১৯৩৩৮৩-৪

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫