ঢাকা, শুক্রবার,২১ জুলাই ২০১৭

রাজশাহী

বগুড়ায় কবর থেকে কঙ্কাল তুলে মাজার তৈরী

বগুড়া অফিস

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৭:৩০


প্রিন্ট

বগুড়ার শেরপুরে রাতের বেলা কবরস্থান থেকে কঙ্কাল তুলে মাজার তৈরী করেছে পরিবার। সংঘবদ্ধ একটি চক্র গাড়ীদহ ইউনিয়নের বনমরিচা গ্রামে এই মাজার শরীফ তৈরী করে নাম দিয়েছে দরবেশ আশরাফী আল চিশতি পাগলার মাজার।

জানা গেছে, গত রোববার মধ্যরাতে শেরপুর উপজেলা শহরের হাসপাতাল রোডের পাশে অবস্থিত কবরস্থান থেকে একটি পুরাতন কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করা হয়। পরদিন দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে শহরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার সংবাদ গতকাল মঙ্গলবার একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর পুলিশও নড়েচড়ে বসে। কঙ্কালটি উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে থানায় সংবাদ আসে চুরি যাওয়া সেই কঙ্কালটি দাফনের মাধ্যমে বনমরিচা গ্রামে মাজার তৈরী করা হয়েছে।

শেরপুর উপজেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে এই গ্রামটির অবস্থান। পৌরশহরের টাউন কলোনিপাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ মারা যান। পরে হাসপাতাল রোডের পাশে অবস্থিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২২ মাস পর মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেওয়া ও তার ভক্তরা রাতের আঁধারে কবরটি খুঁড়ে মতিয়ার রহমানের কঙ্কাল নিয়ে গিয়ে এই মাজার বানান।

মরিয়ম বেওয়া জানান, তার স্বামী মৃত্যুর সময় বলেছে তার কবরটি যেন চিশতিয়া পাগলা মাজার শরীফ বানানো হয়। তাই বনমরিচা গ্রামে দেড়শতক জমি ক্রয় করে সেখানে এই মাজার করা হলো। আর কবরস্থান থেকে দিনের বেলায় লাশ তুলতে লোকজনের ঝামেলা হতে পারে, তাই রাতের আধাঁরে কবরটি খুঁড়ে লাশ স্থানান্তর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, স্বামী মতিয়ার রহমান একজন আওলিয়াভক্ত ছিলেন। তাই কবর স্থান থেকে তার লাশ স্থানান্তর করার জন্য বার বার স্বপ্নে দেখায়। কিন্তু নিজস্ব জায়গা জমি না থাকায় এতদিন স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আগামী বছর থেকে মৃত্যুবার্ষিকীর ওরস মাহফিলের আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, মতিয়ার রহমানের লাশটি স্থানান্তরের জন্য গত ৫ জানুয়ারি তার স্ত্রী মরিয়ম বেওয়া পৌরসভার মেয়র বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরিবারের লোকজন লাশটি স্থানান্তর করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে এই কাজটি সম্পন্ন করায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫