ঢাকা, মঙ্গলবার,২৭ জুন ২০১৭

রাজশাহী

সাঁথিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ৮ লাখ টাকা আত্মসাত

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৪:১৬


প্রিন্ট

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সমিতির প্রায় ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেছেন, সাঁথিয়া গালর্স হাই স্কুল রোডে সমিতির অফিস ভবন অবস্থিত। সেখানে সমিতির দু’টি পাঁকা দোকান ও একটি টিনের তৈরি গুদাম ঘর ভাড়া দেয়া হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে দোকান ও গুদাম ভাড়ার প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হয়নি। একই ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক, বার্ষিক এবং মডেল টেষ্ট পরীক্ষায় শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রশ্নপত্র বিক্রির লভ্যাংশের ৩ লাখ টাকা ২০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নানা টালবাহানা করে শিক্ষকদের এই টাকার হিসাব দেয় হচ্ছে না। ফলে এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাঁথিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম রিপন ও সাধারন সম্পাদক আলতাব হোসেন ও তাদের সিন্ডিকেট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নিয়ন্ত্রনের কারণে অফিসটি দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। উৎকোচ ছাড়া এখানে কোন কাজই হয় না। এখানে অনিয়মই নিয়মে পরিনত হয়েছে। শিক্ষকদের ভয়ভীতি মাধ্যমে জিম্মি করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কথা বলে নানা কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেট সদস্যদের কথা মতো কাজ না করলে অফিসে রক্ষিত সার্ভিস বইসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ উৎকোচ দিলে অল্প সময়েই সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ২০০৮ সালে ৩ বছর মেয়াদী সাঁথিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদউর্ত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সমিতির কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে সমিতির কার্যকরী কমিটির কোন মিটিং হয়নি। এছাড়া সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে অসহায় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক এবং মৃত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়নি। শিক্ষকদের এডহক কমিটি গঠনের দাবী মানা হয়নি। এমন কি যারা এডহক কমিটির দাবি তুলেছিল তাদের নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমির হোসেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের পক্ষে থাকায় শিক্ষকরা শাস্তির ভায়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
১৭২টি স্কুলের কন্টিজেন্সি বিল, বই পরিবহন বিল, বিদ্যুৎ বিল, উপকরণ ক্রয় বিল, টিএ বিল স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খাতে জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হিসাব খাতে জমা না দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে। এসংক্রান্ত খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে পাবনা এনএসআইসহ একাধিক তদন্দ কমিটি সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনিয়ম দূর্নীতির তদন্ত করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি কমিটির তদন্তে আসার কথা রয়েছে বলে শিক্ষা অফিসের একটি সুত্র জানিয়েছে। পাবনা এনএসআইয়ের এডি মোশারাফ হোসেন তদন্তের কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে ওই টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খাতে জমা না হওয়ায় ১৭২টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন। তারা এর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাএবং প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে দায়ী করেছেন।
সাঁথিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম রিপনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দোকান ভাড়ার টাকা রশিদের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে। সমিতির টাকা খরচের বিল ভাউচার আছে, এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, যথাযথ তদন্ত হলেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫