ঢাকা, রবিবার,২৩ এপ্রিল ২০১৭

ঢাকা

চান্দিনায় প্রধান শিক্ষককে ইউপি চেয়ারম্যান পুত্রের চড়

চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ১৪:১১


প্রিন্ট

 

কুমিল্লার চান্দিনায় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কানে-গালে চড় মারলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গিয়াস!
সোমবার রাতে উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
এতে প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম এর বাম কান ও চোখে আঘাত প্রাপ্ত হন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. সাজেদুল রশিদ এর কাছে চিকিৎসা নেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের নিজস্ব দোকান ভাড়া চায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভায়রার ছেলে ও নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মাস্টারের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন।
এ নিয়ে কয়েক দিন যাবৎ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে ঝামেলা করছিল গিয়াস। সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় দিকে প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম নবাবপুর বাজার সংলগ্ন মসজিদের এশার নামাজ আদায় করে ফেরার সময় ৪-৫জন যুবক এসে বড় ভাই (গিয়াস উদ্দিন) ডেকেছে বলে নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ডেকে নিয়ে যায়।
এসময় প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের কথায় রাজি না হওয়ায় গিয়াস উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের কানে-গালে চড় মারা শুরু করে। ঘটনার পরপর উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে বিদ্যালয় চত্তরের বাস ভবনে পৌঁছে দেন।
মঙ্গলবার সকালে তার বাম কান ও বাম চোখে আঘাত জণিত কারণে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হলে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নেন।
এব্যাপারে ভূক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এখানে এসে চাকুরী করি। ২০০৯ সালে নবাবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এ এলাকায় আমার অনেক ছাত্র। এ ঘটনায় লজ্জায় আমি মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ মহোদয় বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন বলেন, গিয়াস উদ্দিন স্থানীয় এমপি’র আত্মীয় ও নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে। সে নিজেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সে কখনও বিদ্যালয়ে যায় কি-না আজও কেউ দেখেনি। এর আগেও তিনি আরও ২জন শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
এব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হেতে (সে) কারো কথাই শুনে না, হেতে মানুষের মানুষ মনে করে না, ঘুষ খোর। কথা কাটাকাটি হইছে, তার কানে ও মুখে রক্ত বাহির হইছে না। এমন প্রমান দিতো পারব না’।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫