ঢাকা, শুক্রবার,৩১ মার্চ ২০১৭

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য

বেড়েই চলেছে পুঁজিবাজার সূচক

ডিএসইতে লেনদেন হলো প্রায় ১৭ শ’ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১১ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মাঝখানে এক দিন কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও আবার পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচকের উন্নতি ঘটেছে। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারে লেনদেনে বড় ধরনের উন্নতি ঘটে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাম্প্র্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ লেনদেন হয় গতকাল। এখানে এক হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।
২০১১ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর আর এ পর্যায়ে পৌঁছেনি ডিএসইর লেনদেন। ২০১০ সালের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর ওই দিন সর্বশেষ ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় ৪৮০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় লেনদেন।
লেনদেন বৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই)। দীর্ঘ দিন পর গতকাল সেখানে লেনদেন ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। গতকাল ১০৮ কোটি টাকা লেনদেন হয় পুঁজিবাজারটিতে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৫ কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে পুঁজিবাজার সূচকও। ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সোমবার ৫৫ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বৃদ্ধির পর গতকাল আবার ৬২ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বেড়েছে। পাঁচ হাজার ২১৪ দশমিক ৬০ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে পাঁচ হাজার ২৭৭ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে স্থির হয়। এভাবে মাত্র দুই দিনে ১২৮ পয়েন্টের বেশি উন্নতি ঘটে সূচকটি। এর আগে দশ কার্যদিবস সূচকটির টানা ২৫৮ পয়েন্ট উন্নতির পর গত রোববার মাত্র ২৫ পয়েন্ট অবনতি ঘটে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে তুলনামূলকভাবে বেশি। গতকাল সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ২২২ দশমিক ০৭ ও ১৩৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সিএসই-৫০ ও শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৭৪ ও ১৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট।
গতকাল দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। তবে দর হারায় সিমেন্ট, খাদ্য, পাট ও টেলিকমিউনিকেশন খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি। অন্য খাতগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল বেশি। এতে দুই বাজারেই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে বেশির ভাগ কোম্পানি। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২১৮টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। বিপরীতে দর হারায় মাত্র ৭৫টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির দর। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৬৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৯২টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। দর হারায় ৬০টি। অপরিবর্তিত ছিল ১৭টি সিকিউরিটিজের দর।
প্যাসিফিক ডেনিমসের আইপিওর ড্র
প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) লটারির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই লটারি অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় কোম্পানির চেয়ারম্যান মো: সাদেকুল আলম ইয়াসিন লটারির ড্র অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্র জানায়, এই কোম্পানির আইপিওতে ৭৫ কোটি টাকার বিপরীতে আবেদন পড়েছে এক হাজার ৫৮৩ কোটি ৩৯ লাখ এক হাজার ৮০০ টাকার; যা কোম্পানির চাহিদার তুলনায় ২১.১১ গুণ বেশি।
এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪৬৯ কোটি ৫৫ হাজার টাকার, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৪ কোটি ১০ লাখ পাঁচ হাজার টাকার, এনআরবি কাছ থেকে ৪৪ কোটি ছয় লাখ টাকার, মিউচুয়াল ফান্ডের কাছ থেকে ২৮৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭৩২ কোটি ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকার আবেদন পড়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৮২তম সভায় এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আইপিও আবেদন গ্রহণ করা হয়।
আইপিওর মাধ্যমে প্যাসিফিক ডেনিমস পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা তুলেছে। এর বিপরীতে কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে ১০ টাকা দরে সাত কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করেছে। পাওয়া তথ্য মতে, ব্যবসায় সম্প্রসারণ (পূর্ত নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়), ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ বাবদ এই টাকা ব্যয় করা হবে।
কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ শেষ হওয়া হিসাব বছরে প্যাসিফিক ডেনিমসের শেয়ারপ্রতি আয় দুই টাকা ৬৩ পয়সা; আর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২২ টাকা ৫৯ পয়সা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫