ঢাকা, সোমবার,২৪ এপ্রিল ২০১৭

স্বাস্থ্য

কোমর ব্যথার জাদুকরি সমাধান!

ডা: মোহাম্মদ আলী

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:১২


প্রিন্ট

সারজিল রহমান (ছদ্মনাম), বয়স ৪৭। প্রখ্যাত ব্যাংকার। নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল যান প্রতি কর্মদিবসেই। যানজটের কারণে প্রতিদিনই প্রায় দুই থেকে চার ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে হয়। অফিসে গিয়েও বসে থাকার কাজ- কমপক্ষে আট থেকে নয় ঘণ্টা। ফলে তিনি দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান। শারীরিক পরিশ্রম হয় না বললেই চলে। তিন চার সপ্তাহ ধরে সামান্য কোমর ব্যথা অনুভব করছিলেন। ব্যথা তেমন তীব্র না হওয়ায় ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়েই সব সামলে নিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন। তেমন সমস্যাও হয়নি। সম্প্রতি তার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, যদিও খুব কম মাত্রার।
গত মাসের এক সকালে উঠে গোসল সেরেছেন। পোশাকও পরেছেন। কিন্তু সামনে ঝুঁকে মোজা পরতে গিয়ে তিনি কোমরে তীব্র খিঁচুনি অনুভব করলেন। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে পড়ে গেলেন মেঝেতে। পরিবারের সদস্যরা ধরে তুললেন। এতক্ষণে ব্যথা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপায়ান্তর না দেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে জানালেন; তিনি সম্ভবত ডিস্ক প্রল্যাপ্সে আক্রান্ত। এমআরআই রিপোর্টও একই বর্ণনা দিলো। যদিও তার ডিস্কটি ছিঁড়ে যায়নি। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় protrusion বলে। কোমরের দু’টি কশেরুকার মধ্যবর্তী চাকতিটি বের হয়ে স্নায়ুর গোড়ায় চাপ দিলেই সেটি ডিস্ক প্রল্যাপ্স। প্রল্যাপ্স মূলত দুই ধরনের Protrusion and extrusion. প্রথম ধরনটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
চিকিৎসক সারজিল রহমান হাসপাতালে ভর্তি করে ইন্টিগ্রেটেড পেইন ম্যানেজমেন্টের আওতায় চিকিৎসা দিলেন। দুই সপ্তাহের কম সময়ে রোগী পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারজিল রহমান এখন দিনে নিয়মিত এক ঘণ্টা হাঁটেন, ব্যায়াম করেন। দিব্যি সুস্থ আছেন তিনি।
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে কী ঘটতে পারত?  আমাদের দেশের রোগীরা অতি মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। ব্যথা হলেই রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে ব্যথাকে দমিয়ে ফেলে। ফলে সামান্য সমস্যাই পড়ে গুরুতর আকার ধারণ করে। সারজিল রহমান চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বিশ্রাম নিয়ে সঠিক চিকিৎসা না নিয়ে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নিজের কাজ চালিয়ে গেলে বিপদে পড়তে পারতেন। তার বের হয়ে যাওয়া ডিস্কটি অধিক চাপে ছিঁড়ে গিয়ে (Extrution) সমস্যা আরো জটিল করে তুলতে পারত। সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ায় তার ব্যথা দ্রুত কমে গেছে। ফলে তিনি অধিক চিকিৎসা খরচ ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
কোমর, ঘাড়, হাঁটুসহ সব শারীরিক ব্যথাই রোগীর উদাসীনতায় জটিল ও দীর্ঘ মেয়াদি রোগে পরিণত হয়। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা সব সময়ই কম ব্যয়বহুল ও অধিক কার্যকরী। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কখনই দ্রুত সমাধান দেয়া সম্ভব নয়।

লেখক : ইন্টিগ্রেটেড পেইন ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট
হাসনাহেনা পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি রিসার্চ সেন্টার
বাড়ি ১, শায়েস্তা খান রোড, সেক্টর-৪, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন : ০১৮৭২৫৫৫৪৪৪।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫