ঢাকা, বুধবার,২৪ মে ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ট্রাম্পকে আরেক দফা বকলেন ওবামা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৫:৩৬


প্রিন্ট

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার মতো নয় বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার চলার পথ আলাদা।
এবিসি নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে ওবামা বলেন, ‘হোয়াইট হাউজ পরিচালনা করা পারিবারিক ব্যবসা চালানোর মতো নয়। শপথ নেয়ার পর এই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ চালানোর দায়িত্ব আপনার।’ প্রেসিডেন্ট ওবামা আরো বলেন, প্রচার আর শাসনকাজ পরিচালনার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ এবং সব পুঁজি ও আর্থিক বাজারে তার (ট্রাম্প) কথার গুরুত্ব অনেক। সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার কথিত সাইবার হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলেন, ওই সাইবার হামলাকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিপদে পড়ে গিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সমস্যা হলো, মস্কোর সাইবার হামলার কথা স্বীকার করায় নিজের নির্বাচনে জয় প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যদিকে সিআইএ, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ও এফবিআইয়ের যৌথ সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার অর্থ দাঁড়াবে নিজ দেশের গোটা গোয়েন্দা সম্প্রদায়কে অগ্রাহ্য করা। যদিও মার্কিন গোয়েন্দাদের যৌথ প্রতিবেদনের পর মস্কো মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করতে সাইবার হামলা করার কথা আবারও অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে হবু প্রেসিডেন্টের মনোনীত চিফ অব স্টাফ রেইনস প্রিবাস জানিয়েছেন, নির্বাচনে রাশিয়া সাইবার হামলা করেছে—গোয়েন্দাদের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজ সানডে অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান প্রিবাস বলেন, ট্রাম্প এটা বুঝতে পেরেছেন যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিরুদ্ধে সাইবার হামলার পিছনে মস্কোর হাত ছিল। তিনি বলেন, এই সাইবার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ দেয়ার জন্য গোয়েন্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই সুপারিশের ভিত্তিকে ‘ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মস্কো ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছে বলে শুক্রবার মার্কিন গোয়েন্দা মহল সম্মিলিতভাবে কাগজে-কলমে জানিয়ে দিয়েছে তাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। গোয়েন্দাপ্রধানেরা প্রমাণপত্র হাজির করার পর তিনি নিমরাজি হয়ে বলেন, ব্যাপারটা তদন্ত হোক, সেটা তিনি চান। তবে একই সঙ্গে এ দাবিও করেন, নির্বাচনে হ্যাকিং হলেও তাতে ফলাফল প্রভাবিত হয়নি। একদিন পরই অবশ্য তাঁর সুর বদলে যায়। শনিবার তিনি নতুন এক টুইটার বার্তায় অভিযোগ করেছেন, শুধু ‘বোকা লোকেরাই চায় না মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ভালো হোক।’ তাহলে কোনদিকে যাবেন ট্রাম্প। এই একটা প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে গোটা মার্কিন রাজনীতিতে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রুশ আইন পরিষদের সিনেটর আলেক্সি পুশকভ বলেছেন, মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মস্কো দায়ী নয়, এর জন্য দায়ী ওবামা প্রশাসন। পুশকভ বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা খোলামেলাভাবে হিলারিকে সমর্থন করার ফলে সেই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখনই হবু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবং দেশের গোয়েন্দা মহলের মধ্যে চাপানউতরের ছবিটা বদলাচ্ছে না। দুই সপ্তাহ পরই গোয়েন্দা দপ্তরগুলি হবে তার প্রশাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের হেয় করা নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। অন্যদিকে গোয়েন্দাদের বক্তব্য স্বীকার করলে তার নির্বাচনী জয় নিয়ে ইতিমধ্যে ওঠা প্রশ্নের তির আরও তীক্ষ্ণ হয়ে তার দিকে ছুটে আসবে।

নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্প পুতিনের পক্ষ নিয়ে শুধু ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে নয়, তার নিজের দলের রক্ষণশীল নেতাদের সঙ্গেও বচসায় লিপ্ত হন। উদারনৈতিক মহল থেকে তো খুব কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের পুতিন-প্রীতির সমালোচনা হচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ক্যাথলিন পার্কার মন্তব্য করেছেন, পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের ভালোবাসা দেখে সন্দেহ জাগে, তিনি রাশিয়ার পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করছেন না তো?

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫