ঢাকা, শনিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

এখনো ব্যাপক জনপ্রিয় ওবামা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:৪৮


প্রিন্ট

আমেরিকার দাসপ্রথা বিলোপের ১৪৩ বছর পর ইলিনয়ের এক তরুণ বিশ্বের মহাশক্তিধর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন সেই বারাক ওবামা। এই সময়ের মধ্যে তিনি এমন কিছু পদক্ষেপ করেছেন, যা তাকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওবামাকে তার প্রথম মেয়াদের পুরোটা সময় আর্থিক মন্দার পাগলা ঘোড়ার সঙ্গে লড়াই করে এগতে হয়েছে। আবাসন ব্যাবসায় ধস নামার পর সেই আঘাত লাগে ওয়ালস্ট্রিটের ব্যাংক আর ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর। ওবামার সাফল্য এই যে, এর মধ্যেও গত ৭৫ মাসে আমেরিকার একটানা কর্মসংস্থান বেড়েছে।

২০১১ সালের ২ মে। গোটা দুনিয়া অবাক করে ওবামা ঘোষণা করেছিলেন, মার্কিন কমান্ডোদের গোপন অভিযানে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন। ৯/১১ হামলার হোতা দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মার্কিন নাগরিকদের মনে যে ক্ষোভ ছিল, ওবামার ঘোষণায় তার অবসান ঘটে। একইসঙ্গে সিরিয়ায় সেনা অভিযান না চালানোর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে ওবামা প্রশংসা ও নিন্দা দুই-ই কুড়িয়েছেন। এক পক্ষ বলছে, সিরিয়ায় আমেরিকার উপস্থিতি না থাকার সুযোগে সেখানে আইএসের প্রভাব বেড়েছে এবং বাশার আল-আসাদের বেপরোয়া অভিযানে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। অপর অংশ মনে করছে, মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় গেলে সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ত।

ওবামা তার বিদায়ী স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বলেছেন, সরকারি ও বিরোধী দলের তিক্ততা কমার বদলে বেড়েছে। এটি তার দায়িত্বকালের অন্যতম আক্ষেপ। ওবামা নির্বাচিত হওয়ার মুহূর্তেই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা তাকে আপাদমস্তক অসহযোগিতা করবেন বলে ঘোষণা করেন। গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধ এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সেই বিরোধিতা ছিল মারাত্মক প্রবল।

পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগে ইরানের ওপর আমেরিকার দুই দশক ধরে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া ওবামার সাহসী পদক্ষেপের একটি। আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখা সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। এতে ইরানের দুই শত্রু দেশ ইসরাইল ও সৌদি আরব ক্ষুব্ধ হয়।

ওবামা ক্ষমতায় এসেই পরিবেশ রক্ষা, সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে বেশ কিছু আইন পাস করেন। রিপাবলিকানরা এই বিষয়ে তাঁর নীতির বিরোধিতা করে এসেছেন। ওবামার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপের একটি হল ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। এর আওতায় কয়েক কোটি স্বল্প আয়ের নাগরিককে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে। অবশ্য নতুন ট্রাম্প সরকার এটি বাতিল করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে ওবামা কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেন। কিউবার বিপ্লবের পর থেকে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি হাভানা সফর করেন। তিনি ভেনেজুয়েলার পরলোকগত প্রেসিডেন্ট আমেরিকার সমালোচক উগো সাভেজের সঙ্গে করমর্দন করেছেন। দেখা করেছেন নিকারাগুয়ার ড্যানিয়েল ওর্তেগার সঙ্গেও।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫