ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ মে ২০১৭

ঢাকা

কাওড়াকান্দি ফেরী ও লঞ্চঘাট স্থানান্তরিত হচ্ছে কাঁঠালবাড়িতে

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:১৯


প্রিন্ট
উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট

অবশেষে দীর্ঘদিন পর দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা পারাপারে দূরত্ব ও সময় একবারেই কমে যাচ্ছে। কেননা শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের শিমুলিয়া ঘাটের অপর প্রান্ত কাওড়াকান্দি ফেরী ও লঞ্চঘাট আর থাকছে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের ১৫ তারিখের দিকে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তরিত হচ্ছে এ ঘাটটি। এতে করে বর্তমানে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এ নৌরুটের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৫কিলোমিটার কমে হবে মাত্র ৮ কিলোমিটার।

তবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কাঁঠালবাড়ি নতুন এ ঘাটটি পদ্মাপাড়ে কখনো শরীয়তপুর ঘাট আবার কখনো ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাট হিসেবে অনেকটাই পরিচিত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের ১৫ তারিখের দিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এ ঘাটটি উদ্বোধন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার পদ্মা পারাপারের যাত্রীরা কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া ফেরীঘাট ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছে। মাত্র দেড় মাস আগেও কাওড়াকান্দি থেকে শিমুলিয়া নৌপথের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার ছিল। গত ১৪ নভেম্বর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ মূল পদ্মায় চর কেটে প্রায় ৩ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করে সরাসরি নতুন একটি চ্যানেল খুলে দেয়ায় শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার কমে আসে।

এই নৌপথ পারাপারের জন্য বর্তমানে ৮৬টি লঞ্চ, ২শতাধিক স্পীডবোট ও ১৮টি ফেরী রয়েছে। পদ্মা পার হতে লঞ্চ ও ফেরীতে প্রকারভেদে নৌযাগুলোর দেড় ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। বৈরী আবহাওয়ায় কখনো কখনো দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে থাকে।

দীর্ঘ এই নৌপথের দূরত্ব কমিয়ে আনতে ঘাট স্থানান্তরের কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্ত আগে থেকেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান দূরত্ব কমিয়ে আনার বিষয়টি যাত্রীদের আশ্বাস দিয়েছেন। অবশেষে কর্তৃপক্ষ কাওড়াকান্দি ফেরীঘাটটি স্থায়ীভাবে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে নতুন এ ঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড,লঞ্চ জেটি, প্যাসেঞ্জার লোডিং, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট কমপ্লেক্স, পুলিশ বক্স, ব্যাংক প্রটেকশন, লঞ্চ জেটি, আভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে কাঁঠালবাড়ীতে পদ্মা সেতুর জন্য সেতু বিভাগ যে দুইটি অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরী করেছে সেগুলো দিয়েই এ ঘাট থেকে ফেরীর যানবাহন পাঁচ্চর পৌঁছাবে ও ঘাটে আসবে। অ্যাপ্রোচ রাস্তা দুইটি হচ্ছে নাওডোবা-পাঁচ্চর ও বাংলাবাজার-পাঁচ্চর অ্যাপ্রোচ সড়ক। এছাড়া রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপন প্রক্রিয়ার কাজও প্রায় সম্পন্ন হচ্ছে।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশল ও বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ রুটটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার কমবে। এতে করে নদী পারাপারে যাত্রীদের লঞ্চ বা ফেরিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হবে না। প্রতিটি নৌযানের ক্ষেত্রে ৩০/৩৫ মিনিট সময় কম লাগবে। অন্যদিকে ফেরীসহ সকল নৌযানের চলাচলের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের জ্বালানী সাশ্রয়ের সাথে সাথে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে এসেছে।

এদিকে ঘাটটি স্থানান্তরে জন্য বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিআইডব্লিউটিসি রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপনসহ ও বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের পৃথক ব্যয় রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ অপু নয়া দিগন্তকে জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের ১৫ তারিখের দিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এ ঘাটটি উদ্বোধন করবেন। মৌখিকভাবে এরকমই নির্দেশনা রয়েছে। এতে করে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দূরত্ববিশিষ্ট এ নৌরুটের দৈর্ঘ্য হবে মাত্র ৮ কিলোমিটার। একইসাথে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে। এরই মধ্যে নতুন এ ঘাটের আভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রো রো ফেরী পন্টুন ও অন্যান্য ফেরী পন্টুন স্থাপন প্রক্রিয়ার কাজও প্রায় সম্পন্ন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক খন্দকার খালিদ নেওয়াজ নয়া দিগন্তকে জানান, কাওড়াকান্দি থেকে ঘাট সরিয়ে কাঁঠালবাড়ীতে স্থানান্তর করা হলে ফেরীসহ সকল নৌযানের চলাচলে সময় প্রায় ৩০/৩৫ মিনিট কম লাগবে। এতে বিপুল অঙ্কের জ্বালানী সাশ্রয়ের সাথে সাথে ঘাট এলাকার যানজটও অনেক কমে যাবে। তখন যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে স্বল্প সময়ে পদ্মা পারাপার হতে পারবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫