ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

সাতরঙ

ফ্রিজ কিনতে জেনে নিন

আপনার প্রয়োজনে

সাতরঙ প্রতিবেদক

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রেফ্রিজারেটর এখন আর বিলাসী পণ্য নয় বরং জীবনযাপনের কিংবা ঘরের অপরিহার্য অংশ। বাজারে রয়েছে নানা ধরনের, রঙের ও মডেলের ফ্রিজ-রেফ্রিজারেটর। রেফ্রিজারেটর কেনার আগে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে এই আয়োজনে।
ফ্রিজ কেনার আগে এর দীর্ঘস্থায়িত্ব ক্ষমতা, আকার, ডিজাইন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুবিধা ও প্রযুক্তির ওপর জোর দেয়া উচিত। দাম কিছুটা বেশি হলেও এ বিষয়গুলোতে আপস করা উচিত নয়। সাধ্যের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ কেনা হবে সঠিক কাজ।
রেফ্রিজারেটর কেনার আগে বিবেচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে এলজি ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশের হেড অব রেফ্রিজারেটর মনোয়ার হোসেন বলেন, রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো কম্প্রেসার, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ক্ষমতা, ফ্রিজের ভেতরের জায়গা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
সাধ্য অনুযায়ী সর্বশেষ প্রযুক্তির ফ্রিজ কেনা উচিত। ভালো ফ্রিজ শুধু খাবারের পুষ্টিমানই রক্ষা করে না, জীবনযাপনেও অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনে।
কম্প্রেসার : ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কম্প্রেসার। এটি যত বেশি আধুনিক প্রযুক্তির হবে ততটাই তাড়াতাড়ি ও সুষমভাবে ঠাণ্ডা হবে ফ্রিজ। ইনভার্টার কম্প্রেসার রয়েছে এমন ফ্রিজ কেনাই সঙ্গত, যা দীর্ঘস্থায়িত্বের গ্যারান্টি দেয়। একই সাথে কম্প্রেসার বিদ্যুতের ওঠানামাতেও কুলিং স্থিতিশীল থাকে।
জ্বালানিসাশ্রয়ী : বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে খরচ কম। তাই যত বেশি সম্ভব জ্বালানিসাশ্রয়ী রেফ্রিজারেটর কেনা উচিত। ঘরের ফ্রিজটি জ্বালানিসাশ্রয়ী হলে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল কমে যাবে। এমনকি ফ্রিজ কেনার প্রাথমিক খরচও এই সাশ্রয়ের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। ফ্রিজের গায়ে স্টার চিহ্ন দিয়ে এর জ্বালানি সাশ্রয় ক্ষমতা বোঝানো হয়। তাই কোন ফ্রিজে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হয় তা অবশ্যই দেখে কিনতে হবে।
ভেতর বাইরে : বাসাবাড়িতে বা রান্নাঘরের কোথায় ফ্রিজ রাখবেন সে অনুযায়ী ফ্রিজের আকার ও মডেল পছন্দ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে বাইরে থেকে বড় দেখা গেলেও ফ্রিজের ভেতরে কতটুকু জায়গা রয়েছে তাও বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য নো ফ্রস্ট বা বরফ জমে না এমন রেফ্রিজারেটর কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা ফ্রস্ট ফ্রিজে বরফ জমে ভেতরে খাবার রাখার জায়গা কমে যায়। পাশাপাশি ফ্রিজের ভেতরের আইস ট্রেসহ অন্য ট্রেগুলো সরানো কিংবা সুবিধামতো নড়ানো যায় কি না তাও দেখতে হবে। ট্রে সরানো ও নড়ানোর মাধ্যমে ফ্রিজের ভেতরেই আরো জায়গা বের করা যায়।
সজীবতা : ফ্রিজ এখন শুধু খাবারের পচন রোধেই কেনা হয় না, বরং খাবারের সজীবতা রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই খাবারের আর্দ্রতা ও সজীবতা দীর্ঘ দিন ধরে রাখতে নো ফ্রস্ট ফ্রিজ সবচেয়ে কার্যকর। কেননা পরিষ্কার করার জন্য আপনাকে কখনোই ফ্রিজ বন্ধ করতে হবে না। তা ছাড়া সবজির সজীবতা রক্ষার জন্য ফ্রিজের ভেজিটেবল বক্সে সঠিক আর্দ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজাইন ও রঙ : শোবার কিংবা রান্নাঘর যাই হোক না কেন ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফ্রিজের ডিজাইন ও রঙ গুরুত্বপূর্ণ। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করে দুই দরজা, ডোর ইন ডোর বা সাইড বাই সাইড ডিজাইনের ফ্রিজ কেনা যেতে পারে। ফ্রিজের দৈনন্দিন ব্যবহার কতটুকু এবং ঘরের আকার অনুযায়ী ডিজাইন পছন্দ করতে হবে।
ওয়ারেন্টি: ফ্রিজ একটি দীর্ঘমেয়াদি পণ্য। তাই অবশ্যই এটি কেনার আগে যতটুকু সম্ভব দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি নেয়া ভালো। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিজের কম্প্রেসারের ওপর ৫, ৮ ও ১০ বছর মেয়াদি ওয়ারেন্টি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে এলজি ইলেকট্রনিক্স।
এ ছাড়া ডিপ ফ্রিজের মধ্যে জিসি ১৭৫ (১৪২ লিটার), জিসি ২২৫ (১৯৮ লিটার) এবং জিসি ৩৩৫ (২৯৫ লিটার) মডেলের ডিপ ফ্রিজগুলোর চাহিদা বেশি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫