ঢাকা, সোমবার,২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পরোক্ষ নির্বাচন সংবিধানের চেতনাবিরোধী

সুশাসন

ইকতেদার আহমেদ

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আমাদের বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রটি সংবিধান ও আইন দ্বারা পরিচালিত। সংবিধান হচ্ছে, প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন মহিলা সদস্য ব্যতীত অপর ৩০০ সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছেÑ একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্য এবং একটি নির্ধারিত মেয়াদ অবধি প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে, নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্যের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বিপরীতে নির্বাচিত ৫০ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩৫০ জন সদস্য সমন্বয়ে সংসদ গঠিত হবে।
গণতন্ত্র অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন; তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দাবিদার বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র একইরূপ নয়। যুক্তরাজ্যে ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির যে গণতন্ত্র অনুসৃত হয়, তাতে কমন্স সভার সদস্যরা একটি একক নির্বাচনী এলাকা হতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটপ্রাপ্তির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে যে দলের আসন সংখ্যা কমন্স সভার সর্বমোট সদস্য সংখ্যার অর্ধেকের অধিক হয়, সে দল এককভাবে সরকার পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করে। যেকোনো নির্বাচনে কোনো একটি একক দল এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে একাধিক দল সমন্বয়ে যৌথ সরকার (কোয়ালিশন) গঠনের একাধিক নজির সে দেশে রয়েছে। এরূপ পদ্ধতির গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো একটি একক নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দু’জন হলে বিজয়ের জন্য একজন প্রার্থীর প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকের অধিক ভোট লাভের আবশ্যকতা রয়েছে। অনুরূপভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা তিন বা চারজন হলে বিজয় লাভের জন্য একজন প্রার্থীর প্রদত্ত ভোটের অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ ভোট প্রাপ্তির আবশ্যকতা রয়েছে। এ পদ্ধতির নির্বাচনে বিজিত প্রার্থীরা প্রদত্ত ভোটের যে সংখ্যক ভোটপ্রাপ্ত হন তা সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে না। এতে দেখা যায়, একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জনমত সর্বতোভাবে উপেক্ষিত। এমন অনেক নির্বাচনে দেখা গেছে বিজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুব কাছাকাছি হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটপ্রাপ্তি বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবদান রাখতে পারছে না। এ ব্যবস্থায় নির্বাচনের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনায় এমনও দেখা গেছে, বিজয়ী দল বিজিত দলের চেয়ে এক বা দু’টি অধিক আসন লাভ করে সরকার পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এতে করে জনমতের একটি বড় অংশ সরকার পরিচালনায় যে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে তা অনেকটা প্রতিকারবিহীন।
বিগত শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটেছে। এ ব্যবস্থায় যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে একটি দল দেশব্যাপী সামগ্রিকভাবে যে হারে ভোটপ্রাপ্ত হয়, তার মাধ্যমে দলটির আসনপ্রাপ্তির হার নির্ধারিত হয়। এতে দেখা যায়, একটি দল দেশব্যাপী প্রদত্ত সামগ্রিক ভোটের ১ শতাংশ প্রাপ্ত হলে দলটি একটি আসনপ্রাপ্ত হয়। এ ব্যবস্থায় প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশের অধিক প্রাপ্ত ভোট একটি দলের একজন প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়Ñ একটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দু’টি দলের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ৫৫ ও ৪৫ হলে দল দু’টির আসনসংখ্যা হবে যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৫। ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্রের সাথে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের গণতন্ত্রের মৌলিক যে পার্থক্য তা হলোÑ প্রথমোক্তটির ক্ষেত্রে বিজিত দল বা বিজিত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দলের বা প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবদান রাখে না। অপর দিকে শেষোক্তটির ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রদত্ত প্রতিটি ভোটই একটি দলের নির্বাচনে আসনপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত একটি দেশ। সে দেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহী। যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক দেশ হলেও সে দেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি সে দেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সিনেটর ও প্রতিনিধি সভার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সে দেশের একটি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে যিনি প্রদত্ত ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ প্রাপ্ত হবেন, রাজ্যটির সব ইলেকটোরাল ভোট তার অনুকূলে যাবে, যদিও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে এদের অনেকেই সিনেট অথবা প্রতিনিধি সভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত নন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এ ধরনের ইলেকটোরাল পদ্ধতির ভোটের ব্যবস্থা পৃথিবীর অপর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে অনুসৃত হয় না। এ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে চারবার দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইলেকটোরাল ভোটে বিজয়ী ব্যক্তির প্রাপ্ত জনভোট (পপুলার ভোট) নির্বাচনে বিজিত প্রার্থীর চেয়ে কম।
আমাদের জাতীয় সংসদ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক একাংশ রয়েছে। এসব প্রশাসনিক একাংশ হলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ। প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশ বিষয়ে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এসব প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার ন্যস্ত থাকবে।
আমাদের সংবিধানের প্রাণ হলো এর প্রস্তাবনা। প্রস্তাবনায় স্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠাÑ যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।
আমাদের এ দেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকাকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক সংসদগুলোর সদস্য এবং ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানেরা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতেন। আইয়ুব খান প্রবর্তিত তথাকথিত এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটিকে বলা হতো মৌলিক গণতন্ত্র, যদিও এর মধ্যে গণতন্ত্রের মৌলিকত্বের লেশমাত্র উপস্থিতিও পরিলক্ষিত হতো না। সে সময় একমাত্র ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বাররা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন এবং চেয়ারম্যানদের ভোটে প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদগুলোর সদস্যরা নির্বাচিত হতেন। পাকিস্তান শাসনামলে আমাদের দেশে রাজনীতিতে এ ব্যবস্থাটি প্রবর্তন-পরবর্তী সরকারি দল কর্তৃক নিজ দলের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য অর্থ বা উপঢৌকনের বিনিময়ে ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বারদের ভোট ক্রয়ের প্রথার প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তী ধাপের ভোটগুলোর ক্ষেত্রে এ প্রথাটি ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের ওপরও সমভাবে কার্যকর ছিল। এ প্রথা প্রবর্তন-পরবর্তী দেখা গেল এ দেশের সর্বনি¤œ ধাপের স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শতভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত ও কলুষিত। এ দেশের সাধারণ জনমানুষ এ ব্যবস্থাটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিদায় ঘটে। অতঃপর ১৯৭০ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি পরিচালনার অধিকারী হলে বিভিন্ন কূটকৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এর ফলে যে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়, তার চূড়ান্ত পরিণতিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় ঘটে।
বাংলাদেশে বর্তমানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রচলিত আছে। এ ব্যবস্থায় সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষভাবে সংসদ সদস্যদের ভোটে বা সমর্থনে নির্বাচিত। ১৯৭৫-১৯৯১ সালের তৃতীয় ভাগ অবধি আমাদের এ দেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা দ্বারা শাসিত হয়েছিল। সে সময় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতির নির্বাচিত হওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল।
বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ২০১৬ সালের শেষ ভাগে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেল অপরাপর স্থানীয় পরিষদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমে এদের নির্বাচিত করার প্রথা প্রবর্তিত হয়েছে। এটি আইয়ুব খান প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ বৈ কিছু নয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর আমরা আইয়ুব খান প্রবর্তিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ায় তা আমাদের ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়, আমাদের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম এবং সর্বোপরি আমাদের সংবিধান ও এর চেতনাকে ম্লান করে দেয়।
পাকিস্তান শাসনামলে যে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ইউনিয়ন কাউন্সিলের মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের বশীভূত করে পক্ষে নেয়া হতো, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে মর্মে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে এমন তথ্যেরই প্রকাশ ঘটেছে।
আমাদের সংবিধানকে দেশের অপরাপর আইনের ওপর প্রাধান্য দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সে ক্ষমতার প্রয়োগ শুধু এ সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে। সংবিধানের এ অবস্থান দ্বারা ব্যক্ত হয়, যারা জনগণের পক্ষে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন, তারা শুধু জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে প্রদত্ত ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া-পরবর্তী এরূপ কাজে নিয়োজিত হতে পারবেন।
গণতন্ত্র বিষয়ে আমাদের সংবিধানের যে অবস্থান তা হলোÑ প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
উপরি উক্ত দু’টি অনুচ্ছেদে বিবৃত বক্তব্য অনুধাবনে প্রতীয়মান হয়, সংবিধান রাষ্ট্র ও এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। সংবিধানের এমন অবস্থানের ব্যত্যয়ে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের কোনো অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যদি পরোক্ষ নির্বাচনের কথা ভাবা হয়, সে ক্ষেত্রে তা যে সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী, এ বিষয়ে কারো মধ্যে কোনো ধরনের সংশয় থাকার কথা নয়। আর এ ধরনের কোনো সংশয় না থাকলে আমাদের সর্বতোভাবে উচিত সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী যেকোনো কাজ থেকে নিজেদের নিবৃত রাখা।
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও
রাজনীতি বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫