ঢাকা, সোমবার,০১ মে ২০১৭

নিত্যদিন

দোন কী

মৃত্যুঞ্জয় রায়

১০ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে দোন সম্পর্কে। এটি আমাদের দেশের বিলুপ্তপ্রায় এক কৃষিঐতিহ্য, একটি প্রাচীন সেচযন্ত্রবিশেষ। আধুনিক কালে শ্যালো, ডিপ, এলএলপি প্রভৃতি যন্ত্রচালিত সেচযন্ত্র আসায় গ্রামীণ কৃষিসমাজ থেকে দোন প্রায় উঠেই গেছে। তবু এখনো ভূপৃষ্ঠের পানি যেসব জায়গায় সহজলভ্য সে রকম কিছু এলাকায় শুকনো মওসুমে দোনের ব্যবহার মাঝে
মধ্যে চোখে পড়ে। লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়

দোন এলাকাভেদে ডোঙ্গা, ডুঙা, কুন্দা, কুন, কোন, জুঁত প্রভৃতি নামে পরিচিত। ডোঙ্গা এ দেশের একধরনের নৌকা। ডোঙ্গার মতোই নৌকা আকৃতির একটি পাত্র দোনের মূল অংশ। দোনের এক দিক বন্ধ থাকে। বন্ধ প্রান্ত থাকে সুচালো খাঁজবিশিষ্ট, অন্য প্রান্ত থাকে সমান ও খোলা। দোনের গোড়ার দিকে ইংরেজি ‘এ’ আকারে দু’টি বাঁশের খুঁটি পুঁতে তার ওপরে একটি লম্বা বাঁশ রশি দিয়ে এমনভাবে টাঙানো হয় যাতে দোন উঠানো ও নামানো যায়। একটি বাঁশের সাহায্যে দোনের উঠানো ও নামানোর কাজ করা হয়। এর সুচালো বা অগ্র প্রান্তে একটি রশি লম্বা বাঁশের মাথায় বেঁধে সেই বাঁশের সাহায্যে এ কাজ চালানো হয়। লম্বা বাঁশের গোড়ায় পাথর বা মাটির বস্তা বেঁধে ভারী করা হয়, যাতে দোন ওপরের দিকে উঠে থাকে। অগ্রপ্রান্তটি পানির মধ্যে নামালে সেই পানিতে দোন ভর্তি হয়ে যায়। তখন রশি বাঁধা বাঁশটি টেনে পানিভর্তি দোনকে উঠানো হয় ও কাত করে সেচনালায় তার পানি গড়িয়ে দেয়া হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে হস্তচালিত একটি যন্ত্র। মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় এখনো দোন দেখা যায়। ছবি : লেখক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫