ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

শিক্ষা

শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল

পাঠ্যবইয়ে ভুল : ওএসডি হলেন এনসিটিবির দুই কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ২০:২৪ | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ২০:৪৫


প্রিন্ট

বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের ভুল আর অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অব্যাহত সমালোচনার মুখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুইজন কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

অপরদিকে, ২০১৭ সালের প্রকাশিত পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও এসব ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে যে দু’জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে তারা হচ্ছেন- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খান।
মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আজ সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে জানান, এনসিটিবির তদন্ত কমিটির প্রাথমিক পর্যালোচনার এবং মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দু’জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লানা হুমায়রা খান তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’ পরিমার্জনের দায়িত্বে ছিলেন। এই বইয়েই ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি ভুলভাবে ছাপা হয়েছে। তাঁর কারণেই এই ভুলটি হয়েছে বলে এনসিটিবির তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান সম্পাদক হিসেবে প্রীতিশ কুমার সরকার তার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেননি। তিনি প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায় এড়াতে পারেন না। তাই তাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ যে আদেশ দেয়া ও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এনসিটিবির তদন্ত কমিটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে হযেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ‘কার কী দায় ছিল’ তা চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে ভুল আর অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কয়েকটি পাঠ্যবই থেকে আলোচিত কিছু গল্প-কবিতা বাদ দিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকায় এবং বর্ণ শেখাতে অসংলগ্ন ও জেন্ডার ইস্যু সামনে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। এর দায় মন্ত্রণালয় নিতে পারে না বলে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আজ আলাপ করে জানা গেছে। তাই এনসিটিবির ‘পর্যালোচনা কমিটি’র প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া সাথে সাথেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অবশ্য এনসিটিবির একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে যে সব ভুল ও বিতর্কিত বলে সমালোচনা হচ্ছে এগুলোকে তারা(এনসিটিবি) মানতে নারাজ। এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল মান্নান নয়া দিগন্তের সাথে আলাকালে প্রাথমিকের বই নিয়ে যে বিতর্ক ও সমালোচনা হচ্ছে তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, প্রাথমিকের বইয়ে কোনো ভুল নেই। যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তা আসলে কোনো ভুলই নয়। যেমন ‘ছাগলে গাছের পাতা খাওয়া’ মোটেই ভুল নয়। একে তিনি চমৎকার দৃশ্যকল্প বলে অভিহিত করে বলেছেন, এটি একটি অসাধারণ ছবি। ‘ওড়না’-র বিষয়টিকে তিনি বলেন, অভিধানে এর বিকল্প কোনো শব্দ না থাকায় এটিকে ব্যবহার করা হয়েছে। মুক্ত মনা সমাজে এটিকে ‘জেন্ডার ইস্যু’ করা হয়েছে। তাই আগামী বছর একে সংশোধন বা বিকল্পভাবে দেখা হবে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ আজ অপর এক আদেশে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও এসব ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ সুপারিশ প্রদানের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ ক্ষতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম-সচিব মাহমুদুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক)। এ কমিটি আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। সেখানে এতে বইয়ের ভুলের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কোনো দায় রয়েছে কি-না এবং এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫