ঢাকা, শুক্রবার,২৩ জুন ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

ভোটারদের সাথে খালেদারও অগ্নিপরীক্ষা

মিনা ফারাহ

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ২০:০০


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

বনবাসী সীতা কিংবা সুচিত্রা-উত্তমের সুপারহিট অগ্নিপরীক্ষা সিনেমা নয়, এটা খালেদার রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। সদ্যসমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনের আলোকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ক্রাইসিস বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা লেখাটির থিম। জানি বাংলাদেশ আর আমেরিকা এক নয়। কিন্তু গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এবং ব্যবহার সারা বিশ্বেই অভিন্ন হওয়ায় দুই দেশের বেলায় একই বিধিব্যবস্থা প্রযোজ্য। সরকারসমর্থিত পেপারগুলো লিখেই যাচ্ছে, মারা গেছে বিএনপি। আমার কথা, যেভাবে বেঁচে উঠবে, সেটা বোঝাতেই ট্রাম্পকে আবারো প্রসঙ্গ করা। নির্বাচনে তার ভরাডুবি হওয়ার কথা কমপক্ষে ২০ শতাংশ ভোটে, তিনিই কিনা ভোটবিপ্লবের ঐতিহাসিক উদাহরণ? যেভাবে অবহেলিত ভোটারদের কান্না শুনতে পেরে যোগাযোগটি করে ফেলেছিলেন, তেমন একটা ক্ষেত্রে মার খাচ্ছে বিএনপি। তবে উত্তরণের সুযোগ শতভাগ।
দেশী নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতো পণ্ডিত নই, কিন্তু মূর্খের কথাই নাকি কাজে লাগে। ঘুণে ধরা পল্টনি রাজনীতি চলতে দিলে ২০ দলের পক্ষে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। কেউ যদি ভাবেন, পল্টনে বসে থাকলেই ভোটাররা ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, সম্পূর্ণ ভুল। নাসিক নির্বাচনের বার্তা এই রকম, শুধু বিএনপিই নয়, জোটের অভিমানী শরিকের ভোটও বোধ হয় অনেক ক্ষেত্রে হাওয়া। ট্রাম্পের নির্বাচনে ভোটবিপ্লব থেকে বিএনপির শিক্ষণীয় কী?
শর্তহীন আইনের দেশ বলেই রক্ষা। নতুবা রাজনীতিতে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হিলারি, ট্রাম্পের অবস্থা হয়তো যেনতেন করে ছাড়তেন। মানে, যেকোনো উপায়ে নির্বাচন দখল করে ওভাল অফিস দখল। ঘটনাটি এ রকম, অঙ্গরাজ্যগুলোতে হাজার হাজার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিয়ে, চাকরিগুলোকে বিদেশে পাচার করে ওয়াশিংটনের ট্রেড পলিসি। ফলে ফ্যাক্টরিগুলোতে ভূতের রাজ্য। বেকার, অর্ধ-বেকারের ছড়াছড়ি, কিন্তু তাদেরকেই উপেক্ষা করে, বিলিয়নিয়রদের চাঁদায় বরং সংখ্যালঘু ইস্যুতে অতিরাজনীতির মাশুল দিলেন হিলারি। আর বুর্জোয়া নীতিকে ধূলিসাৎ করে, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উত্থানের অন্যতম উপাখ্যান ট্রাম্প।
২০ দলকেও আগাগোড়া বদলে যেতে হবে। খালেদার টুইটারের খবরে যতটা আশান্বিত করা হয়েছিল, ততটাই আশাহত হতে হলো। একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্তের নায়কেরা হয়তো ভাবছেন, ভোটাররা বোকা এবং রাগ-অনুরাগ নেই। খবরে প্রকাশ, ট্রাম্পের সমাবেশে হাজার হাজার মার্কিনির আগমন দেখে নির্বাচনের ছয় মাস আগেই ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আশঙ্কা করেছিলেন, নির্বাচনটি হাতছাড়া হতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের। বাংলাদেশে একে তো আইনহীনতা, তার ওপর যোগাযোগহীনতা। ভোটবিপ্লবীদের সমর্থনপুষ্ট বিরোধী দলের উত্থানের সুযোগের প্রধান অন্তরায় পল্টনের ভুল রাজনীতি।
কিছু কিছু বিষয়ে খোলামেলাই বলা ভালো। যেমন- সাদাকে সাদা, কালোকে কালো। পরিবর্তন করতে গেলেই বিপদ।
২.
ট্রাম্প উত্থানের গবেষণার বদলে বিএনপিকে সতর্ক করাই উদ্দেশ্য। ২০ দলের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত সোস্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ। এ কেমন বিএনপি, যাদের সব কর্মকাণ্ড পল্টনেই সীমাবদ্ধ? মরহুম সাইফুর রহমানদের বিএনপিকে জানি, কিন্তু ২০ দলের বিএনপি এলিয়েন না উপগ্রহ, পরিষ্কার নয়। কারণ, অন্যান্য আঞ্চলিক নির্বাচনের মতোই নাসিক নির্বাচনের মাঠেও ২০ দলের তেমন উপস্থিতি দেখা গেল না। তদ্রুপ, যেকোনো আন্দোলনেই খুঁজে পাওয়া যায় না জোট নেতাদের। কর্মী থাকলে, তাদেরকেও চোখে দেখা যায়নি। এ দিকে বিএনপির সংগ্রামে যারা সব সময়ই জোটের প্রথম সারিতে, রক্ত যারাই দিতো, নাসিক নির্বাচনে তাদের ভোট ছিল কি না, দুর্ভাবনার বিষয়।
পল্টনের আওয়াজ নারায়ণগঞ্জে না পৌঁছলে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে পৌঁছবে কিভাবে? তাদের ধারণা, যেন আকাশ থেকে পরী এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে আর ২০ দলের সিইওরা মন্ত্রী হবেন। শুধু নিজস্ব ভোটব্যাংকই নয়, ‘নিষ্কর্ম পল্টন’ হারাতে পারে গুরুত্বপূর্ণ শরিকের ভোট। মনে রাখা উচিত, বিএনপিকে জেতাতে প্রতিটি ভোটই মূল্যবান।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে কফিনে পাঠাতে প্রতিপক্ষের ‘মুগাবে’ স্টাইল রাজনীতির ব্যাখ্যা এই লেখার প্রসঙ্গ নয়। ক্ষমতাসীনদের তৃতীয় শ্রেণীর রাজনৈতিক ভাষার ব্যাখ্যাও লিখব ভবিষ্যতে। তবে ক্ষমতা কেন ২০ দলের হাতছাড়া হয়ে আছে, দায়ী করব শীর্ষ নেতৃতের নিষ্ক্রিয়তাকেই। প্রায় এ জন্যই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ৫৬ হাজার বর্গমাইল। ভুল সিদ্ধান্ত ছাড়াও রাজনীতিতে স্বনির্বাসন, পরাশক্তির ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করা। মহাসচিবের বেশির ভাগ বক্তব্যই অহেতুক এবং অগুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। হয়তো ভীত কিংবা অদূরদর্শী। আমার কথা, মগজ তো হাইজ্যাক করতে পারেনি রুশ-মার্কিন সেবাদাসেরা। অনেক সময় অস্ত্রের বদলে বাক্যই মিসাইলের মতো। উদাহরণস্বরূপ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ‘উই শ্যাল মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানটি। এটাই ওভাল অফিসে বসানোর জাদু। এই রকম একটি সেøাগান ১০ বছরেও কেন খুঁজে পায়নি ২০ দল? যেকোনো দুর্ঘটনায় মুখপাত্রদের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই ক্রিকেটের ধারাবাহিক ভাষ্যকারের মতো। ক্ষমতা ক্রিকেট খেলা নয়। ভোটবিপ্লবীরা চায়, অগ্নিপরীক্ষায় পাস করুক নেত্রী। তবে সম্ভব করার দায়িত্বও তারই। কিন্তু নিষ্ক্রিয় থাকলে অনিবার্য ভরাডুবি।
অনেকেরই অভিযোগ, নেত্রীর চার পাশে অনির্ভরযোগ্য লোকজন দিয়ে ভরা। মনে হয়- তাদের কাজ, কয়েকটা সিটে বিরোধী দল বসিয়ে ৫ জানুয়ারির লজ্জা ঘোচানো। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাইওয়েকে পুরোপুরি দুর্ঘটনামুক্ত রাখা। বার্নিকাটের সর্বশেষ বক্তব্যে সব কারসাজি এককথায় প্রকাশ। এসব লোকের বিরুদ্ধেই বারবার সতর্ক করছি। চীন-রাশিয়া-ভারত-জাপান-আমেরিকা সবাই হাসিনার পক্ষে থাকার কারণ, প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছাড়াও ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ‘সমুদ্র সম্পদের’ স্বার্থে ইরাক-আফগানের মতোই সরকার পরিবর্তন করা বার্নিকাটদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর অনাহূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মতোই একমাত্র জনগণ ছাড়া বিএনপির সাথে কেউ নেই। কিন্তু সেই জনগণকেই যেন মাইনাস করে দেয়া হচ্ছে!
যদিও নৃশংস পুতিন কিংবা শি জিনপিংয়ের দেশ হওয়ার কথা কল্পনাও করি না, কিন্তু একই পদ্ধতিতে বিনাশ হচ্ছে জোট। এর নেত্রীকে বানাতে চায় রোবট নেত্রী। তবে একমাত্র ভোটবিপ্লবীরাই হতে পারে সমাধানের হাতিয়ার। এ দিকে খালেদার সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের জরুরি বৈঠকের ভাষা এখন পর্যন্ত বুঝতে পারল না সাধারণ মানুষ।

৩.
কোনো দল করি না। তবুও বলব, গণতন্ত্রপ্রত্যাশীরা সবাই রাজনীতিবিদদের হাতে বন্দী। বিএনপি সমর্থকদের সমস্যা, নিজেরা কিছু করবেন না, সমালোচনা করলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। যুগ বদলেছে, তারা বদলাননি, অতীত থেকে কেন শিক্ষা নিতে হবে। ম্যাডামের দুর্দিনে পাশে তো দাঁড়ায়ইনি, দুরবিন দিয়ে খুঁজলেও রাস্তায় দেখা যায় না ‘আবাল’দের। অবশ্যই নেত্রীকে নির্যাতনের সমালোচনা করি। সমবেদনা জানাই পুত্রশোকে কাতর মাকে। বুঝতে হবে, ব্যক্তি খালেদা থেকে রাজনৈতিক খালেদা ভিন্ন। রাজনৈতিক নেত্রীর ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগ রাজনীতিতে অচল। উদাহরণস্বরূপ, ২৭ বছর জেলে থাকা অবস্থায় ১৪ বছরের সন্তানসহ পরিবারের প্রায় সাত জন ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েও পরাশক্তির কাছে মাথানত করেননি ম্যান্ডেলা। পুত্রশোক হতে পারতো ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি। বিষয়টি হলো, রাজনীতি করবেন কিন্তু জেলে যাবেন না, কী করে হয়?
জেলে যাওয়ার ভয় থাকলে অবশ্যই রাজনীতি ছেড়ে দেয়া উচিত। বারবার জামিন নিয়ে ঘরে বসে কোনো অর্জন তো নেই-ই বরং কুপ্রভাব পড়েছে দলের ইমেজে। গালিগালাজের মাস্টারেরা এটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অবশ্যই নেত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ওপর মামলার রেকর্ড গড়া হয়েছে। কিন্তু বক্তব্যে কোনটা ফুটে ওঠল? উদাহরণস্বরূপ, আওয়ামী লীগের সাড়ে ৭ হাজার এবং হাইকমান্ডের ১৫টি একই ‘নাইকো’ ধরনের মামলা খারিজ করিয়ে নেয়ার জবাবে বিএনপির আইনবিদদের অবদান কী? ক্যান্টনমেন্ট থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে স্টে-অর্ডারটি পর্যন্ত নেয়নি। আইনবিদদের আইন শেখাতে গেলেই বিপদ। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করতেই জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরকে পরিকল্পিতভাবে দণ্ডিত করলেও আইনের শক্তিকে ব্যবহার করেননি কেউই। তখন থেকেই রাজনৈতিক পচন ধরেছে জোটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে। প্রতিটি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেই ব্যর্থ। অথবা স্কাইপ কেলেঙ্কারির পর দণ্ড কার্যকর না করতে ঢাকাকে পশ্চিমাদের অনুরোধে সন্দেহাতীত বার্তা কী ছিল? আওয়ামী লীগের কাজ অপকর্ম ভুলিয়ে দেয়া। জোটের কাজ শত শত স্বৈরাচারী অঘটনগুলোকে বারবার আমজনতার সামনে উপস্থাপন করা। বারবার মনে করিয়ে দেয়া, ব্যাংক লুট, সাগর-রুনি, সাত মার্ডার কিংবা ৫ জানুয়ারি ...। এখানেই ব্যর্থ এই জোট। বলছি, কারাবরণ এবং প্রতিবাদ, দুটোই এই উপমহাদেশে সমানতালে। বিপ্লবও এখান থেকেই শুরু। সুতরাং মামলার মোকাবেলা সাপেক্ষে পলিটিক্যাল শেইকআপ জরুরি।
একদা প্রাণচঞ্চল পল্টনের দিকে তাকালেই ভয় করে। তারপরেও বলব, ২০ দলের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই জিতে গেছে রুশ-মার্কিন মাফিয়ারা। তাদের রাজনৈতিক চামড়া এত মোটা কবে হলো, গবেষণা প্রয়োজন। প্রয়োজন, বিচক্ষণ নেতাকর্মী দিয়ে দলের ভেতরে পলিটিক্যাল শেইকআপ। অন্যথায় ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। চুনোপুঁটি দিয়ে বৌভাত হবে না। কথায় বলে, আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড।
ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরাই জোটের জন্য অশনি সঙ্কেত। অধিকাংশ জেলায় নিষ্ক্রিয় ২০ দল। সোস্যাল মিডিয়ার রায়, পল্টন অফিসে রাজনৈতিক তালা ঝুলিয়ে, নেতাদেরকে দ্রুত আরাম-আয়েশমুক্ত করতে হবে। গ্রামেগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতে হবে। অন্যথায় বারবার নাসিক নির্বাচনের মতো হবে।
পল্টন অফিসের ‘ভৌতিক’ কর্মকাণ্ডের আরো নমুনা। জিয়ার কবর সরানোর আয়োজন সত্ত্বেও প্রতিক্রিয়াহীন। পদক, ফলক, খেতাব, বসতবাড়ি... সব নেয়ার পরেও, রিজভীদের অদ্ভুত ব্যাখ্যা। কবর উঠালে নাকি ঘরে ঘরে জিয়ার মাজার বানাবেন। সব নিয়ে গেলেও নাকি জিয়ার সুনাম নিতে পারবে না। মাঝে মাঝেই নেতারা সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে অনুরোধ করেন; কিন্তু করতে না পারার দায় নেন না। এদের কথায় হাসবো না, কাঁদবো! এ দিকে দলের শেষ ঠিকানায় পর্যন্ত রাজনৈতিক আগুন দিলো বলে। এই কাজে গরিবের চার লাখ ডলার ধ্বংস করে লুই কানের নকশাটি আর্কাইভে রাখার নাটক সত্ত্বেও পল্টনের অবস্থা, পোড়া ঘরে বসে বাঁশি বাজানো নিরোর মতো।
সঠিক রাজনীতি না করার পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে, এখনো কিছুই দেখেননি বিরোধী নেতারা।

৪.
উত্তরণ চাইলে ট্রাম্পের মতোই প্রতিটি ভোটকে মূল্য দিতে হবে। উগ্রবাদ, শ্বেতাঙ্গবাদ, খ্রিষ্টানবাদ, ধর্মবাদ... সব কিছুই ট্রাম্পের নির্বাচনের অংশ। বিজেপির ভোটবিপ্লবেও উগ্র হিন্দুত্ববাদ, হিন্দুস্থানবাদ, উপনিবেশবাদ, ধর্মীয় উগ্রবাদের ব্যবহার ...। তবে, বিএনপিকে কাবু করতে প্রধান শরিকের ওপর সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই যেভাবে দণ্ড কার্যকর হলো, ট্রাম্প-বিজেপির উত্থান সেই মান্ধাতা রাজনীতিকেই নাকচ করে। বৈশ্বিক রাজনীতিতে উগ্রবাদ, যুদ্ধবাদ, নাৎসিবাদ ... চলমান প্রক্রিয়া। এগুলো বাদ দিয়ে কোথাও কোনো রাজনীতির প্রমাণ নেই। বিজেপির কর্মকাণ্ডে নাৎসি, পার্টির চেহারা লেখার বিষয় নয় যদিও, কিন্তু তাদেরকেই ক্ষমতায় বসায়নি ভারতীয়রা? অতএব ‘পল্টন’ হচ্ছে, পাড়ার সবচেয়ে ভালো সেই ছেলেটি, যে নাকি কারো কথারই প্রতিবাদ করে না।
ট্রাম্প-বিজেপির নির্বাচনে নানান ‘ইজমের’ উপস্থিতি থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়া হলো না। পাশ্চাত্যে ট্রাম্পইজমের জয়জয়কার। আগেও লিখেছি, জনগণ নয়, ২০ দলের পছন্দ যেন টকশো।
ভোটবিপ্লব যেভাবে সম্ভব : একটি রাজনৈতিক সেøাগানকে সামনে রেখে গ্রামেগঞ্জে ঝাঁপিয়ে পড়া। অপশক্তির অতিশক্তিকে অতিক্রমের দূরদর্শিতা অর্জন। অপশক্তির সব কিছুই অবজ্ঞা করে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মানসিক শক্তির ব্যবহার। প্রতিটি ভোটকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে যোগাযোগ শুরু। পল্টনের ভেগাবন্ড রাজনীতি বন্ধ করে অতীতের জাতিয়তাবাদী নেতাদের রণকৌশল অনুসরণ। কিছুই না পারলে, শুধু ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সফল একজন খালেদা জিয়াকে অনুসরণ। 

ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫