ঢাকা, শনিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৭

মতামত

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষার ধরন

হাসান সাইদুল

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৯:৪৭


প্রিন্ট

ইচ্ছেমতো বেতন, বছরজুড়ে নানা অজুহাতে ফি, ক্যান্টিনে গলাকাটা দাম, এর নাম যেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। লেখাপড়ার মান নেই, সিলেবাসের ধরন অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন, নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। বিদেশী শিক্ষক দেখিয়ে কোথাও ভর্তি করালেও পরে আর দেখা যায় না।
রাজধানীর গুলশান, বারিধারা কিংবা বসুন্ধরায় যারা থাকেন তারা সহসায় চিনবেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি ২৭ হাজার ৩৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। প্রতি ছয় মাসে সেশন ফি ১৭ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্কলাসস্টিকা স্কুলে প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি দেড় লাখ টাকা। মাসিক বেতন ১১ হাজার টাকা। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি ৬০ হাজার টাকা হলেও প্রতি তিন মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর সড়কে রয়েছে আগা খান স্কুল। প্রতিষ্ঠানটিতে কেজি ওয়ানে ভর্তি ফি এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা। উত্তরায় ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর প্লটের দিল্লি পাবলিক (ডিপিএস এসটিএস স্কুল) স্কুল। গ্রেড ওয়ানে ভর্তি ফি তিন লাখ টাকা। মাসিক বেতন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাড়িতে সানিডেল স্কুল। ক্যামব্রিজের সিলেবাস ফলো করা এই প্রতিষ্ঠানে প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি ৬০ হাজার টাকা। মাসিক বেতন তিন হাজার টাকা। রাজধানীর আসাদগেট গ্রিন হেরাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা। মাসিক বেতন সাড়ে তিন হাজার টাকা।
এ ছাড়াও টার্কিশ হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্লে-গ্রুপে ভর্তি ফি ৭০ হাজার টাকা। সি ব্রিজ স্কুলে কেজিতে ভর্তি ফি ৪৫ হাজার। মাসিক বেতন সাড়ে চার হাজার। স্যার জন উইলসন স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি ফি ৩৭ হাজার টাকা। আর মাসিক বেতন সাড়ে ৯ হাজার টাকা।
এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ফির নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।
সরকারি নীতিমালা ছাড়া নিজেদের তৈরি সিলেবাসে দেয়া হয় পাঠদান। অন্যান্য সাধারণ বিদ্যালয়ের সাথে কোনো সাদৃশ্য নেই। দেশীয় সংস্কৃতির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দেশীয় পরিবেশের সাথে কোনো খাপ খাওয়া নেই। বিদেশী তথা ইংরেজি অক্ষরে খোদাই করে নাম লিখে দিলে, আর ইংরেজি অক্ষরের লেখা বই পড়লেই কি ইংরেজি মাধ্যম? বিদেশী শিক্ষক কোনো অনুষ্ঠানে এনে বক্তব্য দিলেই কি কোনো বিদ্যালয় ইংলিশ মিডিয়াম হয়ে যায়? দামি পোশাক পড়িয়ে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে বিদ্যালয়ে আনা-নেয়ার নাম কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখার পূর্ব শর্ত নয়!
এই লেখক দেশের একটি নামীদামি ইংরেজি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিভাকে পড়ান। প্রতিভা অনর্গল ইংরেজি বলতে পারে। প্রতিভাকে প্রশ্ন করেন তুমি কোন ক্লাসে পড়? সে বলে স্ট্যান্ডার্ড টু-তে। লেখক প্রশ্ন করেন, এটা বাংলাতে বলো? প্রতিভা হতভম্ব হয়ে বলে, এটার বাংলা আবার কি? প্রতিভা সহজেই ইংরেজিতে এক থেকে এক শ’ বলতে ও লিখতে পারে, অথচ বাংলা তথা কথাও তার এক থেকে দশ বলাটা হচ্ছে কঠিন।
লাখ লাখ টাকা খরচ করে যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে মাতৃভাষার কথা বলতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়, সেখানে কী মেধা অর্জন করবে ইংরেজি মাধ্যমের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা! ২০১১ সালের বেনবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে তিন ক্যাটাগরির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা ১৫৯টি। এর মধ্যে ও-লেভেল স্কুল ৬৪টি, এ-লেভেল স্কুল ৫৪টি। আর জুনিয়র লেভেলের আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ৪১টি।
বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাময়িক নিবন্ধনপ্রাপ্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা ৭৯টি। তবে সারা দেশে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫