ঢাকা, মঙ্গলবার,২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ঢাকা

গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কক্ষের তালা ৭ দিনেও খোলেনি

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৭:৫৬


প্রিন্ট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাবরক্ষকের কক্ষে গত এক সপ্তাহ যাবত তালা ঝুলছে। এতে করে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় দুদকের ফরিদপুর কার্যালয় থেকে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফাইল ও তথ্যের জন্য সোমবার পৌর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে পৌরসভার কাউন্সিলর আলাউদ্দিন মৃধা, নিজামউদ্দিন শেখ, আ. রশিদ ফকির, নাসির উদ্দিন, রাসেল মোল্লা, কুদ্দুস আলম ও কুব্বাত কাজী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওমর আলীকে অফিস থেকে বের করে অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়।

গোয়ালন্দ পৌরসভার সচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, পৌরসভার হিসাবরক্ষণ অফিস বন্ধ থাকায় স্বাভাবকি কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান কয়েকটি কাজের বিল দিতে না পারায় কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ২৫ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর বেতনের টাকা হিসাবরক্ষণ কক্ষে আটকে আছে। তারা প্রতিদিন অফিসে এসে ধর্ণা দিচ্ছেন। পৌরসভার স্থায়ী ও অস্থায়ী ৭ জন কর্মচারীর বেতনও একইভাবে কক্ষে আটকে আছে। দৈনন্দিন রাজস্ব আয়ের টাকা আপাতত ব্যাংকে জমা করে আলাদভাবে হিসাব সংরক্ষন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফরিদপুর দুদক কার্যালয় থেকে এক কর্মকর্তা সোমবার পৌর কার্যালয়ে এসে পৌরসভার বেশকিছু ফাইল ও তথ্যের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে তাদের চিঠি দিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যেই সেগুলো তাদের হাতে পৌঁছাতে বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ফাইল হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে আটকে আছে।

পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলাউদ্দিন মৃধা ও ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন শেক জানান, পৌর মেয়র এখনও পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে তাদেরকে ডাকেননি। এ বিষয়ে তার আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।

গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র শেখ মো. নিজাম বলেন, আগামী সোমবার পৌরসভার সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সকল কাউন্সিলরকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। সভায় বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও ১নং ওয়ার্ডের কমিশনার নিজামউদ্দিন শেখ এবং বিএনপি নেতা ও ৪নং ওয়ার্ডের কমিশনার রাসেল মোল্লা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য কয়েক কমিশনারকে প্রভাবিত করে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা দাবি দাওয়ার ব্যাপারে তার সাথে কখনো আলোচনা করেননি। সকল কেনা-কাটাও যথাযথ নিয়মের মধ্য দিয়ে করা হয়েছে। তারা হিসাব চাইলে যে কোন সময় দেখতে পারেন। এছাড়া পৌর রাজস্বের ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া আছে। একটি প্রভাবশালী বিশেষ মহলের কারণে সে টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। কমিশনাররা তাকে সে বিষয়ে কোন সহযোগিতা করছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দুদক কর্মকর্তা একরাম আলী জানান, আজ সোমবার গোয়ালন্দ পৌর কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছুৃ ফাইল ও তথ্যের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে সেগুলো আমাদের হাতে পৌঁছাতে হবে।

বেশিরভাগ ফাইল হিসাবরক্ষণ কক্ষে আটকে থাকার ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কায়দায় কাউন্সিলররা এভাবে অফিস কক্ষে তালা মারতে পারেন না। এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও তাদেরকে চিঠি দিয়ে অবগত করতে পৌর কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫