ঢাকা, রবিবার,২৬ মার্চ ২০১৭

ঢাকা

জাজিরায় আ’লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা

শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘর ভাংচুর

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১৭:৩৫


প্রিন্ট

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাজিরায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের সমর্থকরা শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ভাংচুর, তছনছ ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাজিরা ও বড়কান্দি ইউনিয়নের চারটি গ্রামের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও উত্তেজিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও বালতির মধ্যে ককটেল নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

স্থানীয় রুহুল মাদবর, ফারুক মাদবর ও জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম সিরাজ সরদার ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সফি খলিফার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল রোববার রাত অনুমান ৮টার সময় পার্শ্ববর্তী জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা বাজারে সিরাজ সরদার গ্রুপের স্থানীয় মেম্বার রুহুল মাদবরের সমর্থক রহমান হাওলাদার ও সফি খলিফা গ্রুপের ফারুক মাদবরের সমর্থক রফিক মাদবরের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর ফারুক মাদবরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা গ্রামের মেম্বার রুহুল মাদবরের বাড়ীঘরসহ তার সমর্থক সোনামিয়া মাদবর, ধলুমিয়া মাদবর, জাহাঙ্গীর বেপারী ও মেহবুব বেপারীর বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর, তছনছ ও লুটপাট করে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্তরা।

এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বড়কান্দি ইউনিয়নের খলিফাকান্দি, মীর আলী মাদবর কান্দি ও জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা ও পাথালিয়া কান্দিসহ ৫/৬টি গ্রামের দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সিরাজ সরদার গ্রুপের মীর আলী মাদবর কান্দি গ্রামের দিল মোহাম্মদ বেপারীর সমর্থকরা সফি খলিফার সমর্থক বড়কান্দি ইউনিয়নের খলিফা কান্দি গ্রামের লুৎফর খলিফা, মজিদ খলিফা ও মনির খলিফার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে বলে দাবী বড়কান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সফি খলিফার। হামলা-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় রুহুল মাদবরের সমর্থক জাহাঙ্গীর বেপারী, মনজু ফকির ও সফি খলিফার সমর্থক রাজ্জাক খলিফা ও জলিল মৃধাসহ পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ করা হলেও আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে ঐ এলাকায় উত্তেজিত লোকজনদের দেশীয় অস্ত্র রামদা, সেনদা টেটা ও বালতির মধ্যে ককটেল নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে রুহুল মাদবরের সর্মথক সোনামিয়া মাদাবরের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, আমার স্বামী ঢাকা থেকে দুধের পনির বিক্রি করে বাড়ি এসে রাতের খাবার খেতে বসে। এ সময় হঠাৎ অনেকগুলো ককটেল বোমা বিষ্ফোরনের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ফারুক মাদবরের লোকজন বাড়িতে ঢুকে আমার ঘর ভাংচুরসহ ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ ৩৬ হাজার টাকাসহ সবকিছু নিয়ে যায়।

বড়কান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সফি খলিফা বলেন, সিরাজ সরদারের সমর্থকরা জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা বাজারে ধাওয়া খেয়ে এসে আমার সমর্থকদের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ী ভাংচুর ও তছনছ করে। এসময় হামলাকারীরা আমার দুই সমর্থককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। আমি এ বিষয়ে মামলা করবো।

বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ সরদার বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম না। শুনেছি জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা বাজারে স্থানীয় দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রুহুল মেম্বারের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার কোন সমর্থকরা কারো বাড়ী ঘরে হামলা করেনি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটায়। গতকাল রাত থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই মামলা করতে আসেনি। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫