ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

রাণীনগরে তৈরি লেপ-তোষক যাচ্ছে অন্য অঞ্চলেও

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ)

০৯ জানুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ১২:৩৩


প্রিন্ট

নওগাঁর রাণীনগরে পৌষ মাসের শেষের দিকে ঘনকুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে শীত নিয়ে গ্রামীণ জনপদে হানা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ শীত জেঁকে বসায় লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা। তাদের অনেকে আবার পাড়া-মহল্লায় হাক-ডাক করে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন।

পৌষ মাসের শেষ ভাগে সকাল হলেই ঘন কুয়াশার আচ্ছন্ন আর শীতের দাপটে গত দুই দিন ধরে দুপুর গড়ালেও সূর্যের মুখ দেখা মিলছে না। ঘন্টা দুই রোদের তাপের একটু অনুভূতি হলেও শীতের কাপনী আর কুয়াশা দূর হচ্ছে না। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারা রাত ধরেই ভাড়ি ও মাঝারী ধরনের শৈত্যপ্রবাহের কারণে অনেক বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে। পাশাপাশি লেপ-তোষক তৈরি ও এ ব্যবসার সাথে জড়িতরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের পানিপথ এলাকা, শীতপ্রবণ ও বিশেষ করে উত্তর জেলাগুলোতে ট্রাক যোগে এখানকার লেপ-তোষক সরবরাহ করা হচ্ছে। এবং তারা ব্যবসাও ভালো করছেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন যতই গড়াচ্ছে শীত ততই বেশি পড়ার আশংকায় উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা নতুন নতুন লেপ তৈরি করছে। লেপ তৈরির কারিগররা শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে অর্ডার নিলেও যথাসময়ে সরবারহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। লেপ-তোষক অর্ডার দিতে আশা মানুষের তাড়াহুড়ার কারণে উপজেলা কোবরাতলী, বিএনপি’র মোড়, স্টেশন রোড, বেতগাড়ী বাজার ও আবাদপুকুর হাটের শোরুমের পাশে ফাকা জায়গাই ক্রেতাদের উপস্থিতি আর কারিগরদের ধুনুক দিয়ে তুলা ফাটানোর সরগরমেই যেন বলে দিচ্ছে লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে।

শীতের কারণে তুলার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ত্রিমোহনী-কুবরাতলী এলাকায় ৭ টি তুলার মিলে উৎপাদিত মানসম্পন্ন তুলা দোকানীদের কাছে সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতি কেজি শিমল তুলা ২শ’ ৮০টাকা থেকে ২শ’ ৯০টাকা, মিলের তুলা ভাল মানের ৪০ টাকা, কারপাস তুলা ১শ’ ৬০টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণীভেদে তুলার দাম মিল মালিকরা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা লেপ-তোষক পাইকার ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন জানান, শীত আসলে আমি কুবরাতলী থেকে তৈরি লেপ-তোষক নানান মাপের বিভিন্ন দামে কিনে নিয়ে আমার এলাকায় নিজস্ব গুদাম ঘর থেকে ভ্যানযোগে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রয় করি। এতে করে সব খরচ বাদ দিয়ে শীতের দুই মাস আমার ভালই ব্যবসা হয়।

উপজেলার বেলবাড়ি গ্রাম থেকে লেপ তৈরি করতে কোবরাতলী মোড়ে আশা আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, গত বছর শীতে আমি যে লেপ বানিয়ে ছিলাম তার চেয়ে এবারে বেশি দাম চাচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে একটু চড়া দাম দিয়েই বানাতে হচ্ছে।

লেপ-তোষক তৈরির সাথে জড়িত রাণীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এখানে তুলার মিল স্থাপনের পর থেকে আমি সহ পরিবারের সদস্যরা মিলে ২৯ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। তুলা, কাপড়, সুতা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬/৭ ফিট মাপের মিলের তুলা দিয়ে তৈরি তোষক ১৮শ’ টাকা এবং একটু কম মানের তুলা দিয়ে তৈরি করলে ১৫শ’ টাকার মত খরচ পড়ে। আমাদের তেমন লাভ না হলেও পেশার তাগিদে এই কাজ করে আসছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫