ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শিক্ষা

মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই পরিমার্জনে দুটি কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জানুয়ারি ২০১৭,রবিবার, ২১:৪১


প্রিন্ট

শিক্ষার্থীদের কাছে মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক আরো সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে দুটি কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির একটি ২০১২ সালের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে পাঠ্যবই আরো পাঠযোগ্য করতে সুপারিশ করবে। অপর কমিটিকে নবম-দশম শ্রেণীর কয়েকটি বই পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মান বাড়াতে কিছু বিষয় বাদ দেয়া, সব শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা, সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন তৈরিতে আইটেম ব্যাংক তৈরিসহ ১৫ দফা সুপারিশ করেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাবিদদের ওই সুপারিশের আলোকে এই কমিটি গঠন করে গত ৪ জানুয়ারি আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে গত বছরের ২৫-২৭ নভেম্বর কক্সবাজারে তিন দিনের এক কর্মশালায় পাবলিক পরীক্ষার সময় চাপ কমাতে মাধ্যমিকে বিষয় কমানোর সুপারিশ করেন তাঁরা। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, চারু ও কারুকলা, এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোকে পাবলিক পরীক্ষায় অন্তর্ভূক্ত না করে বিদ্যালয়ে নিচু শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে পাঠ্যক্রমে রাখতে বলা হয়। সব শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ আসে ওই কর্মশালায়। পাশাপাশি পরীক্ষার এমসিকিউ ও সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরির জন্য আইটেম ব্যাংক তৈরি, বইপড়া দিবস পালন, যথাসময়ে শিক্ষকদের টিচার্স গাইড সরবারহেরও সুপারিশ করেছে শিক্ষাবিদরা।

২০১২ সালের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই অধিকতর পাঠযোগ্য করে সুপারিশ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদকে সমন্বয়ক করে কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনজুর আহমদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তানজীল আশ্রাফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা।
এই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান। কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন ও পরিমার্জনের বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ পর ২০১২ সালে নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে সরকার। ওই পাঠ্যক্রমের আলোকে ২০১৩ সালের মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেয়া হয়।

অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির নির্বাচিত কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজ করার লক্ষ্যে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম, উদ্দীপন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহাক। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ইনামুল হক সিদ্দিকীকে এই কমিটির সদস্য সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, কমিটিকে নবম-দশম শ্রেণীর কয়েকটি পাঠ্যবই নির্বাচন করে সেগুলোকে পরিমার্জনের জন্য একটি ‘টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করবে। যাতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো যায়। নির্বাচিত পাঠ্যপুস্তকগুলো পরিমার্জনের মাধ্যমে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজ করে তোলার জন্য এই কমিটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিলেও জাতীয় কারিকুলাম কো-অর্ডিনেটর কমিটি (এনসিসিসি) পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন করবে। উভয় কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে জানিয় আদেশে বলা হয়েছে, কমিটির সভায় বিষয় বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো যাবে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নবম ও দশম শ্রেণীর নির্বাচিত কয়েকটি পাঠ্যবই পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করা হবে। এজন্য দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং লেখকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল তৈরি করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শ্রেণী শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে। পরিমার্জনের জন্য একটি টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে যাতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো নিশ্চিত হয়।

শিক্ষাবিদদের অন্যান্য সুপারিশ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে তা কো-কারিকুলাম একটিভিটির (সহ-শিক্ষা কার্যক্রম) অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বছরের একদিনকে বই পড়া দিবস হিসেবে পালন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। শিক্ষকদের পাঠদানে সহায়তার জন্য উপযুক্ত টিচার্স গাইড যথাসময়ে প্রণয়ন ও মানোন্নয়ন করা প্রয়োজন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫