ঢাকা, শুক্রবার,২৮ জুলাই ২০১৭

আগডুম বাগডুম

পাকড়া

তমসুর হোসেন

০৭ জানুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

অপুদের হাঁসের ছানা ফুটেছে। হলদে সাদা আর কালচে রঙের ছানারা কী সুন্দর সাঁতার কাটে! কী অনুপম উল্লাস তাদের! এদের মধ্যে একটি ছানা ভিন্ন রঙের। তার শরীরে সাদার ওপর কালোর লম্বাটে রেখা। বেশ লোভনীয় লাগে অপুর চোখে ছানাটি। অপু মাকে বলে, এই ছানা কাউকে দেবো না।
‘ওটা তুমি কী করবে?’
‘আমি ওকে পুষব।’
‘আগে বড় হোক তারপর নিস।’
‘ওটাকে এখন নেবোই নেবো।’
অপুর সাথে পেরে ওঠা কঠিন। হাঁস পুষে আগুন লাগাবে। মাঝ থেকে যত সব কাণ্ডকীর্তি। বাইরে রাগলেও মা ভাবে অপুর পছন্দ আছে। পরিপুষ্ট ও সবল বাচ্চাটাকে ও বেছে নিয়েছে। কিন্তু অপু বাচ্চাটাকে আলাদা করে রাখতে পারছে না। বারবার ছানা নিতে গেলে মা হাঁসটাও রেগে ওঠে। অন্যদের থেকে আলাদা করে অপু পছন্দের ছানাটাকে খাবার খাওয়ায়।
তিন মাস না যেতেই ছানাটা পুষ্ট হয়ে উঠল। অপু তার নাম রাখল পাকড়া। পাকড়া ওর দারুণ ভক্ত। অপুর সাথে ঘুরতে পাকড়া খুব আনন্দ পায়। অপুর বাড়িটা উঁচু জায়গায়। সকালে পাকড়াকে বাসা থেকে বের করে সে উড়িয়ে দেয়। যার জন্য অন্য হাঁসের আগে সে পুকুরে গিয়ে পড়ে। কার্তিকে পুকুরের পানি কমে এলে হাঁসেরা বিলে গিয়ে সাঁতার কাটে। অপুদের বাড়ি দূরে হলেও পাকড়া ডানা ঝাপটা দিয়ে সহজে বিলে পৌঁছে যেতে পারে। অপুর এ রকম কাণ্ড দেখে মা বলে, ‘ওকে ওড়া শেখাচ্ছো কেন?’
‘দেখি উড়তে পারে কি না?’
‘যে দিন চলে যাবে সে দিন বুঝবে।’
‘আমাকে ছেড়ে ও কোথাও যাবে না।’
‘ওকে ওড়াবে না। সবার সাথে ঘুরে বেড়াক।’
পাকড়াকে ওড়ানো অপুর নেশা হয়ে গেছে। সময় পেলেই ওকে আকাশে ছুড়ে দেয়। তখন সে ডানা মেলে অনেক দূরে চলে যায়। সে শুনেছে দেশী হাঁস কখনোই উড়তে পারে না। অপুর চেষ্টায় পাকড়া ইচ্ছামতো উড়ে বেড়াতে পারে। এভাবে চলতে লাগল বেশ কিছু দিন। একদিন পাকড়া বিলের দিকে না গিয়ে বাতাসে ডানার শব্দ তুলে দূরের খয়ার বনের দিকে চলে গেল। অনেক খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না। অগণিত গ্রাম ছেড়ে সে দিগন্তের অসীমে হারিয়ে গেল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫