ঢাকা, শনিবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

উড়াল দেয়া ব্যাঙ ওড়ে না

রফিকুল আমীন খান

০৭ জানুয়ারি ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ব্যাঙ কিভাবে চলে বল দেখি? সবাই নিশ্চয়ই একসাথে বলবে, এ আর এমনকি। কেন লাফিয়ে! আমিও তোমাদের সাথে একমত। কিন্তু প্রাণিরাজ্যে এখনো যে কত শত বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে, সবই কি জানা সম্ভব! হয়তো সম্ভব, আবার সম্ভবও না। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতেই নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রাণিবিজ্ঞানীরা। তারাই এক বিচিত্র ব্যাঙের সন্ধান দিয়েছেন আমাদের। যার নাম ওয়ালেসেস ট্রি ফ্রগ। ইংরেজিতে ফ্রগ মানে ব্যাঙ। আর ট্রি মানে তো তোমরা জানোই, গাছ। সুতরাং আমরা যে ব্যাঙ নিয়ে আলোচনা করবো সেটা বুঝতেই পারছ, এই গাছে চড়া ব্যাঙ নিয়ে।
তবে মোটামুটিভাবে সব ব্যাঙই কম বেশি গাছে চড়তে পারে বোধ হয়। এটি আমরা হরহামেশাই দেখে থাকি। তবে আমাদের আলোচিত এ ব্যাঙ শুধু গাছেই চড়ে না, উড়েও বেড়ায়। অর্থাৎ এক গাছ থেকে আরেক গাছে উড়ে উড়ে চলে। কি বিচিত্র, তাই না! তবে আমাদের আলোচনা কিন্তু উড়াল দেয়া ব্যাঙ নিয়ে নয়। সেটি তোমরা শিরোনামে আগেই বুঝে থাকবে হয়তো।
এ আলোচনা ব্যাঙেরা আসলে ওড়ে না, তাই নিয়ে। এ ব্যাঙ লাফায় না, উড়েও না তো গাছে গাছে চড়ে কী করে, এখন এ প্রশ্নই করবে তো না! তোমাদের এ প্রশ্নের জবাব আমি না, প্রাণিবিজ্ঞানীরাই বাতলে দিয়েছেন। প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে এই ট্রি ফ্রগ ওড়ে না, বাতাসে ভেসে চলে। ঠিক গ্লাইডারের মতো। গ্লাইডার তোমরা দেখে থাকবে টেলিভিশনে। রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষেরা শরীরে গ্লাইডার বেঁধে বাতাসে ভাসতে ভাসতে পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফিয়ে মাটিতে নামে। ঠিক এ রকমই দেখা যায় ওয়ালেসেস ট্রি ফ্রগের ক্ষেত্রে। তবে মানুষের মতো অ্যাডভেঞ্চার বা রোমঞ্চের জন্য এরা গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ে না। কেবল শিকারের দেখা পেলেই এ কাজ তারা করে। আশপাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পোকামাকড় শিকার করতে অন্য ব্যাঙেদের চেয়ে এরা বেশ দক্ষ।
অবশ্য অনেকে একে প্যারাসুট ফ্রুট ফ্রগও বলে থাকেন। কারণ বাতাসে ভর করে এ ব্যাঙও প্যারাসুটের মতো এক গাছ থেকে আরেক গাছে ভেসে বেড়ায়। মালয়েশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গল ও বোর্নিও দ্বীপে এদের বসবাস। তবে সংখ্যায় বেশি না হওয়ায় কদাচিৎ এদের দেখা পাওয়া যায়।
এদের পায়ের আঙুলগুলো এক পাতলা পর্দা দ্বারা একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে এদের পা-কে ওয়েবড ফিট বলে। আঙুলগুলো পরস্পর যুক্ত থাকায় বাতাসে ভেসে বেড়াতে সুবিধা হয়। এর মাধ্যমে এরা অন্তত ৫০ ফুট (১৫ মিটার) দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তবে লাফ দেয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত উঁচু ডাল ও গাছ বেছে নেয় এরা।
খাবার শিকারের কৌশলও বেশ চমৎকার। এ জন্য এরা গাছের ডালে চুপিসারে অপেক্ষা করে। কোনো খাবার নাগালে এলে ওমনি ঝাঁপিয়ে পড়ে। খাবারের কাছে গিয়ে বিশেষ পর্দাযুক্ত আঙুলগুলো ছড়িয়ে দেয়। শিকার এতে আটকা পড়লে আর রক্ষা নেই। গলাধঃকরণ করতে কোনো দেরি নয়।
কী বিচিত্র প্রাণী তাই না! শিকার ধরতে কত কষ্টই না করতে হয় এদের। এতেই সৃষ্টি কর্তার মাহাত্ম্য। জীবনের বেশির ভাগ সময় এরা গাছেই কাটিয়ে দেয়। কেবল প্রজননের সময় হলেই এরা মাটিতে নেমে আসে। ডিম পেরে আবার গাছে ফিরে যায়।
আকারে এরা পাঁচ ইঞ্চির মতো লম্বা হয়। পিঠের দিকের রঙ উজ্জ্বল সবুজ হওয়া দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এরা। তবে পেটের দিকের অংশে সাদা ও হলুদের মিশ্রণ রয়েছে। উনিশ শতকের খ্যাতিমান ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসের ওয়ালেস নামানুসারে এ ব্যাঙের নামকরণ করা হয়েছে ওয়ালেসেস ট্রিফ্রগ। এই ওয়ালেসই ১৮৬৯ সালে প্রথম এ ব্যাঙের সন্ধান পান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫