ঢাকা, শনিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

মুখফুটে রোগের কথা বলেন না আ্যাজমা রোগীরা

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

০৫ জানুয়ারি ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

চট্টগ্রামে অনেক অ্যাজমা রোগী রোগের কথা মুখ ফুটে না বলায় এ রোগের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়াও অপচিকিৎসার কারণে অ্যাজমা রোগীরা এই শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন কিনিক ও সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই অতিমাত্রায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাজমা হলো শ্বাসনালীর অসুখ। যদি কোনো কারণে শ্বাসনালী অতিমাত্রায় সংবেদনশীল (হাইপারসেনসিটিভ) হয়ে পড়ে এবং বিভিন্নভাবে উদ্দীপ্ত হয়, তখন বাতাস চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। ফলে শ্বাস নিতে বা ফেলতে কষ্ট হয়। প্রত্যেক মানুষের শরীরে একটি প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম তাকে। কোনো কারণে ওই ইমিউন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিলে অ্যালার্জির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমার অন্যতম কারণ ধুলোবালি।
জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় সাধারণত শহরাঞ্চলে অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমার প্রকোপ বেশি। তাছাড়া ঠাণ্ডা বাতাস, পাখির পালক, জীবজন্তুর লোম, তেলাপোকা, অতি ুদ্র জীবাণু, মোল্ড ও পুরনো বই, খাতা, জামাকাপড়, আসবাবপত্র, খাবার, রাসায়নিক পদার্থ, ফুলের পরাগ, রেণু প্রভৃতি থেকে অ্যাজমা দেখা দেয়। ন্যাশনাল অ্যাজমা প্রিভিলেন্স স্টাডি থেকে জানা যায়, বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি লোক শ্বাসনালীর অ্যাজমায় আক্রান্ত। আমাদের দেশে এ রোগীর সংখ্যা ৭০ লাখ। এর মধ্যে ৪০ লাখ শিশু-কিশোর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে অ্যাজমা রোগীরা ভালো চিকিৎসা পান না। এ রোগ সারে না এমন ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে অনেকের মধ্যে। অথচ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ জয় বলেন, শীতকালীন প্রকোপ বাড়ায় এ রোগ বাড়ছে। নতুন রোগী আসছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনেক রোগী এ রোগের কথা মুখ ফুটে বলে না। হাঁপানি শোনে অন্যরা সমালোচনা ও ঘৃণা করবে এ ভয়ে তারা রোগটিকে গোপন করেন। হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে যান। কবিরাজি ওষুধ খান। অনিরুদ্ধ ঘোষ আরো বলেন, অ্যাজমা রোগ প্রতিরোধে ইনহেলারই সবচেয়ে কার্যকর। তাছাড়াও অন্যান্য যে ওষুধ আছে রোগীরা এসব কিছু দিন খেয়ে ভালো লাগলে আর খান না।
ইনহেলার ওষুধটি শ্বাসনালীর যে অংশটায় সমস্যা সেটিই আরোগ্য করে। শরীরের অন্য কোনো অংশে এর প্রভাব পড়ে না। রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যাজমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য জনগণকে জানাতে হবে যে, এ রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩, ১৪, ১৬ নম্বর মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা কম না। শুধু ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেই ভর্তি আছেন ৩০ জনের বেশি অ্যাজমা রোগী। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ রোগীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাঙ্গুনিয়ার মোশফেকা খাতুন ভর্তি আছেন অ্যাজমা সমস্যা নিয়ে। ডাক্তার বলেছেন আরো পাঁচ সাতদিন থাকতে হবে। মোশফেকা বলেন, মাঝে মধ্যেই তার ঠাণ্ডা লাগত। জ্বর আসত। বুকে ব্যথা করত। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে শাশুড়িকে বললে শাশুড়ি বুকে গরম স্যাঁকা দিতে বলেন।
কিন্তু সুস্থ না হয়ে তার আরো শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এখানে চিকিৎসা নেয়ার পর তার অনেকটা ভালো লাগছে। চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাজমা সমস্যায় কোনো অপচিকিৎসা নয়। সাথে সাথে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫