ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

ঘটনা-দুর্ঘটনা

চোখের সামনেই পুড়ে গেল রহিমার দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জানুয়ারি ২০১৭,বুধবার, ০৯:১২


প্রিন্ট
রাজধানীর গুলশানে আগুনে পুড়ে যাওযা ডিসিসি মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীর গুলশানে আগুনে পুড়ে যাওযা ডিসিসি মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারি : নয়া দিগন্ত

দাউ দাউ করে জ্বলছে গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেট। ইতোমধ্যে মার্কেট ভবনের এক প্রান্ত ধসেও পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে। এমন সময় নারী কণ্ঠে কান্নার শব্দÑ ‘ভাই, এখানে একটু পানি দিয়ে যান। আমার দোকান পুড়ে শেষ হয়ে গেল।’ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ করে বলছিলেন রহিমা বেগম নামে এক মহিলা ব্যবসায়ী। অন্য ব্যবসায়ীদের মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মার্কেটের কাঁচাবাজারে দুটি দোকান ছিল রহিমার। চোখের সামনে দুটি দোকানেই আগুন জ্বলছে। পুড়ছে তার দোকানের মালামাল। আগুন নেভাতে না পেরে হাহাকার করে কাঁদছেন আর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডাকছেন। কিন্তু কোথায় যাবেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা? এত বড় মার্কেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে থাকে। তারা সেখানে ছুটছেন আগুন নেভাতে। রহিমার কান্না দেখে তার কাছে কোনো তথ্য জানার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লোনের লাখ লাখ টাকা। আমি কী করব! আমি পথের ফকির হয়ে যাচ্ছি! ও ভাই, আমার দোকান বাঁচান।’ কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি রহিমার। চোখের সামনে তার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
রহিমার মতো আরো অনেক দোকানমালিকও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন সাথে আসা স্বজনরা। তারা বলছেন, ‘কী বলে সান্ত্বনা দেবো? চোখের সামনে তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কী বলে সান্ত্বনা দিতে হয় তার ভাষা জানা নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, বেশির ভাগ দোকান মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এখন তাদের কিছুই থাকল না।
গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই মার্কেটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট প্রায় ১৬ ঘণ্টা চেষ্টা করে পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫