ঢাকা, শুক্রবার,৩১ মার্চ ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষকের আবেদন

আবদুল আউয়াল তালুকদার

০৩ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:৫৯


প্রিন্ট

আমি আবদুল আউয়াল তালুকদার, পিতা মৃত আবদুল লতিফ তালুকদার, উপজেলা রাজাপুর, জেলা ঝালকাঠী, ১০৩নং এস ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে সুনামের সাথে চাকরি করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে সব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন এবং প্রথম ধাপে আমার স্কুল সরকারি হয়েছে। সরকারি স্কুল জাতীয়করণের পর ২৯-০৯-২০১৩ইং এ মর্মে গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয়করণকৃত স্কুলের শিক্ষকদের ৩০-১২-২০১৫ মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কিন্তু কী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, গেজেটে-এর তার উল্লেখ নেই। আমি ১৯৭২ইং যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে মানবিক শাখায় দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি এবং ২০০৪ইং সালে পিরোজপুর পিটিআই থেকে দ্বিতীয় বিভাগে সিইনএড পাস করেছি।
ওই গেজেটের ৮নং অনুচ্ছেদে উপবিধি (১) এ উল্লেখ আছে যে, সরকারীকরণের তিন বছরের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষক যোগ্যতা অর্জন না করেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০-১২-২০১৫ইং তার চাকরির অবসান হবে। সেই মতে, ৩০-১২-২০১৫ স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার জন্য দরখাস্ত করি এবং তৎকালীন থানা শিক্ষা অফিসার ওই আবেদন মঞ্জুর করেছেন; কিন্তু থানা শিক্ষা অফিসার তা গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় আরো তিন মাস চাকরির যাবতীয় বেতনভাতা গ্রহণ করেছি এবং ০১-০৪-২০১৬ইং ৫৯ বছর বয়সে অবসরে গিয়েছি। তিন মাসের বেতনভাতা যদি বেশি নিয়ে থাকি তা আমার পিআরএল থেকে সমন্বয় করলেই হয়।
উল্লেখ্য, যারা এখনো যোগ্যতা অর্জন করেননি এবং যাদের চাকরির বয়স আছে, তারা যথারীতি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বেতনভাতা নিচ্ছেন। যোগ্যতাবিহীন শিক্ষক যারা আমার ছয় মাস বা এক বছর আগে অবসরে গিয়েছেন, তারা পিআরএল লাম্পগ্রান্ট এবং পেনশন পাচ্ছেন। আমি পেলাম না, কী দোষ করলাম তা আমার বুঝে আসে না।
‘যোগ্যতা’ অর্জন করে পড়াবে কাকে? যোগ্যতা আইএ পাস করা যদি হয়, তবে তা করতে বাউবিতে ভর্তি হতে হবে। গেজেট করা হল ২০১৩ইং সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সেই বছরের ভর্তির কোনো সুযোগ ছিল না। আমার চাকরি ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর মাসেই তো শেষ হয়ে গেছে। তা যোগ্যতা অর্জন করে কাকে পড়াতাম, ব্যাপারটি বিবেচ্য বিষয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যাদের ১৭ বছর চাকরি হয়েছে এবং পিটিআই পাস করেছেন, তাদের স্মারক নং মপবি/মসম্ম্য/মসবৈ-৩১(০৭)২০০৯/৬০৫(২) যোগ্যতা অর্জন শিথিল করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ মর্মে (অর্থ মন্ত্রণালয় স্মারক নং ৩৮,০০৭, ০১৫-০০০-০৩, ০০, ২০১৫-১১০ তারিখ ০৩-০৩২০১৫ইং) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য চিঠি দিয়েছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অনুমোদন ডিজি অফিস পায়নি। তাই অবসরে গিয়েও প্রায় এক বছর ধরে একটি পয়সাও পাইনি। শুধু থানা শিক্ষা অফিস কাগজপত্র সর্বশেষ ডিজি অফিসে এসে আটকে আছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
১০৩নং এস ইসলাম প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়, রাজাপুর, ঝালকাঠি

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫