ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

মিথ্যার সায়রে ডুবে ছিল, এখন শুধু ভাসছে

আলমগীর মহিউদ্দিন

০৩ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:২৭


আলমগীর মহিউদ্দিন

আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রিন্ট

নয়া বছরের সালতামামির কথা আগে বলেছি। এ আলোচনা চলবে আরো কিছু দিন। তবে বারবার যে কথাটি একস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো- আশার আলো কি আছে, স্বস্তির নিঃশ্বাস কি ফেলা যাবে? এ লেখার শিরোনাম বিখ্যাত লেখক রবার্ট ফিস্কের লেখা থেকে ধার করা। কোনো এক বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করার সময় তিনি নয়া বছর এবং আগামী দিনগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা সদ্য সত্য-উত্তীর্ণ সময়ে বাস করছি না, আমরা সর্বদাই মিথ্যার বিশ্বেই ছিলাম।’
ফিস্ক মধ্যপ্রাচ্যকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে এই মিথ্যার সায়রের কথা বলেছেন। সবাইকে নির্মোহভাবে ইতিহাস পড়তে, বুঝতে এবং তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন ক্ষমতাবানেরা কেমনভাবে মিথ্যার জাল বুনে মিথ্যার সাগরের সৃষ্টি করেছে। আর সব মানুষকে সে সায়রে ডুবিয়েছে এবং এখন সেখানে তারা ভাসছে। মানুষ সত্য-মিথ্যা নিয়ে ভাবনারও সময় পাচ্ছে না। অবশ্য এটা জার্মানির হিটলারের একটি নীতিও ছিল। তিনি বলেছিলেন ‘ক্ষমতায় নিশ্চিতভাবে থাকতে চাইলে, কখনো জনগণকে গতকাল বা আগামীকালকে নিয়ে ভাবার অবকাশ দেবে না। এমন অবস্থার সৃষ্টি করো, তারা যেন আজকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে।’ অবশ্য তিনি সাবধান করেছেন যে, তুমি জনগণকে তাদের অতীত বা ভবিষ্যৎ ভাবতে দিচ্ছ না, তা বুঝতে দেবে না। সেজন্য তিনি কৌশলী প্রচারণার পরামর্শ দিয়েছেন। হিটলারের আরেকটি মোক্ষম উপদেশ ছিল, ‘ক্ষমতায় থাকলে কখনো সত্য বলবে না। তবে সাবধান ছোট মিথ্যা বলো না, কারণ জনগণও ছোট ছোট মিথ্যা বলে। তাই ধরা পড়ে যাবে। মিথ্যা এমন বিচিত্র এবং বিশাল হবে জনগণ তা বুঝে উঠতে পারবে না। আর কাউকে এর প্রতিবাদ করতে দেবে না। তা হলে নিশ্চিতভাবে ক্ষমতা উপভোগ করবে।’
রবার্ট ফিস্ক এ কথার প্রায় পুনরুল্লেখ করে দেখিয়েছেন, ক্ষমতাসীনেরা কেমন ভয় দেখিয়ে, প্রতারণা করে মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করছে জনগণকে। এই কর্মকাণ্ডে পশ্চিমা বিশ্ব নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় ডিক্টেটররা পরমানন্দে সেই পথ অনুসরণ করছে। কারণ তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ, গোষ্ঠীপ্রীতি অতি সহজেই আপ্লুত হচ্ছে। সবাই ফিস্কের সাথে হয়তো একমত হবেন না এবং তা সম্ভবও নয়। কেননা কোনো সম্পূর্ণ সত্য কোনো মানুষের পক্ষে এককভাবে অবলোকন করা সম্ভব নয়। এ জন্যই সব যুগে প্রতিটি সত্যের ভগ্নাংশ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গত কয়েক যুগের হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধ্বংসযজ্ঞের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে ফিস্ক বলেছেন, ‘যারা বলেছেন এখন সেখানে শান্তির পথের দিশা মিলেছে, তারা বিশাল মিথ্যাচার করেছেন। পশ্চিমারা বলেছিল, জিহাদিদের কাছে ১০ লাখ মানুষ জিম্মি। তাদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ চলছে। এখন মসুলসহ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বিরানÑ কোথায় সেই উদ্ধারকৃত মানুষগুলো। ফিস্ক লিখেছেন, ‘মার্কিনিরা দাবি করছে, ইরাকিরা আবার নতুনভাবে মিলিত হচ্ছে। তাই সেখানে অভিযান চালাতে হবে।’ এ কথা বলে ব্রিটেন, আমেরিকা গত তিন যুগ ধরে বোমাবর্ষণ করছে। বিভিন্ন সংস্থা হিসাব করে দেখিয়েছে, এই বোমাবর্ষণে শুধু ঘরবাড়ি, স্থাপনা নিশ্চিহ্নহ্নই হয়নি, প্রায় বিশ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছে। এদের কথা পশ্চিমাশক্তি কখনো উচ্চারণ করে না। তা করলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে তাহলে কাদের উদ্ধার করলো! সবই যদি ধ্বংস হলো যুদ্ধের কী প্রয়োজন ছিল? কার স্বার্থে এ যুদ্ধ?
আইরিশ টাইমসের এক সাংবাদিক ফিনটান ও’টুলে ২০১৬ সালের ঘটনাবলি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বক্তব্যগুলো নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘মিথ্যেগুলো মহা আরামে ভাসছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে কোথাও নঙ্গর করার ইচ্ছে নেই।’ কেউই ও’টুলের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করবে না, যদি সে চারদিকের ঘটনাবলির দিকে একটু নিবিড় দৃষ্টিপাত দেয়। ফিস্কের মতে, বিশাল ভয়াবহ ঘটনাবলির নায়ক কোনো ছোট অপরাধী নয়। এর নায়ক যাদের নিকট সত্য-মিথ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আছে, সাধারণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি তারা এবং তারা তাদের এই ভয়াবহ কর্মকাণ্ডগুলো ঢাকার জন্য অবিরত মিথ্যাচার করছে।
মিথ্যাচারের এক নমুনা অভিবাসী নিয়ে। হাজার হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর এলাকা থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাচ্ছে। প্রতিদিন তাদের মর্মান্তিক ঘটনাবলির ক্ষুদ্রাংশ সংবাদমাধ্যমে আসছে। কিন্তু কেউই একটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিচ্ছে না। তা হলো, কেন এই মানুষগুলো অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছে? কারণ এর জবাব সবাই জানে। যারা না জানার ভান করে, তারা শিকারকেই দায়ী করে। মধ্যপ্রাচ্যের কথাই ধরা যাক। তারা হানাহানি করছে। এটা নিবৃত্ত করতে তাদের আক্রমণ করা হচ্ছে। অথচ কে তাদের এই হানাহানিতে বাধ্য করছে তা বলা হয়নি। তাদের এই হানাহানি নাকি বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি? এই মধ্যপ্রাচ্যের গোষ্ঠীগুলো মহাশক্তিধরের কোন হুমকি? তারা কি উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের সব দেশের ওপর বোমাবর্ষণ করতে পারবে? তারা কি তাদের ওপর যেমন আট হাজার বার বোমাবর্ষণ করা হয়েছে তা কি পারবে? সত্য এখানে নীরব। কারণ সত্য কখন কাদের ওপর বর্তায়, তারা তা বলতে নারাজ। কেননা তাতে তারা ফেঁসে যাবে।
এ অবস্থার চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন প্রখ্যাত লেখক জন রাইন তার ‘ড্রিমস দ্যাট ডাই’ বইতে। সম্প্রতি তিনি সিরিয়ার ওপর লিখতে গিয়ে জাতিসঙ্ঘে মার্কিন দূত সামান্থা পাওয়ারের সাথে ইরান, সিরিয়া এবং রাশিয়ার জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত দূতদের আলোচনার উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটনের বক্তব্য ‘নৈতিক চোরাবালির’ ওপর ভিত্তি করে। তিনি দাবি করেছেন সিরিয়ার এই দীর্ঘসূত্রী যন্ত্রণার জন্য তারা দায়ী। উইকিলিকসকে উদ্ধৃত করে তিনি দেখিয়েছেন কেমন করে ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসাদ সরকারকে সরাতে প্রকাশ্যে সেখানে অভিযান চালায় এবং কয়েক বছরে ৬০ হাজার সিরীয় সৈন্য হত্যা করে। এই যুদ্ধ বা হস্তক্ষেপ আজো চলছে এবং তার সাথে হত্যা-ধ্বংসের মিছিল।
তবে কেউ কেউ সত্য বলেই ফেলছেন। যেমন লেখক জন গ্রান্ট। তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাঁচ লাখ সেনার মার্কিন বাহিনীর অংশ হিসেবে ক্যাম্বোডিয়া দখলে অংশ নেন। তিনি তার আত্মকথায় লেখেন, ‘আমরা কেন এই জংলা চাষিদের দেশ দখল করতে এসেছি?’ গ্রান্ট লিখেছেন, ‘এ সময়েই খবর পেলাম ইসরাইল জর্ডানের পশ্চিম তীর দখল করেছে। আমাদের ইউনিটের এক ইহুদি সহযোদ্ধা আনন্দে নাচতে শুরু করল। অবশ্যই স্বীকার করব, তখন পর্যন্ত আমি ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন বা পশ্চিমতীর সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, যতটা না ভিয়েতনাম সম্পর্কে জানতাম। ... আমি ভাবতে লাগলাম এই ইহুদি মার্কিন সৈন্যের এত আনন্দের কী কারণ? পরে বুঝলাম ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের উত্থানকে দৃঢ় করার জন্য এই দখল, যুদ্ধ এবং আক্রমণ।’ জন গ্রান্টের বক্তব্য সত্য বলে গ্রহণ করতেই হয় এ জন্য যে, তার দীর্ঘ নিবন্ধের শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বক্তব্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘ইহুদিবাদ সময়কে নিয়ন্ত্রণ করছে।’ কেরি ইসরাইলকে ফড়িয়া রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভিয়েতনামের উপর সর্ব প্রথম স্মৃতিচারণ করেছেন ভার্জিনিয়ান পাইলট সাংবাদিক মাইক হিক্সেনবার্গ এবং প্রো-পাবলিকার সাংবাদিক চার্লস ওর্নস্টেইন। তারা বলেছেন, কত ভিয়েতনামি এই মার্কিন আগ্রাসনে মারা গেল তা বাদ দিয়ে কত মার্কিনি এতে ক্ষতিগ্রস্ত বা রাষ্ট্রের কত লোকসান হলো তার হিসাব করা যায়। সরকারি হিসাবে ভিয়েতনামের ওপর নয় কোটি টন (৯০ মিলিয়ন টন) বোমা বর্ষণ করা হয়। খরচ হয় ৭ হাজার ৬০০ কোটি (৭৬০ বিলিয়ন) ডলার এবং মারা যায় ৫৮ হাজার ২২০ জন। যারা (মার্কিনিরা) বাঁচল তাদের জন্য আজো প্রতি বছর দুই হাজার ৩০০ কোটি (২৩ বিলিয়ন) ডলার খরচ করতে হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসার জন্যও ব্যয় হচ্ছে। ভিয়েতনামের যুদ্ধে ‘এজেন্ট অরেঞ্জ’ বলে এক প্রকারের বিষাক্ত তরল পদার্থ জনগণের ওপর ছিটানো হয়। এতে সৈন্যরাও আক্রান্ত হয়। এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখা দেয়। প্রথম দিকে এই অবস্থার কথা স্বীকার করতে চাইত না মার্কিনিরা। ড. র‌্যালফ এরিকসন (ভেটারানস অ্যাফের্য়াসের প্রধান) বলেছেন, বিশাল চাপে পড়ে তাদের দায়-দায়িত্ব নিতে হয়। অস্বীকারের কারণ, এই বিশাল অর্থব্যয় এবং জীবন ক্ষতি কেন, এ প্রশ্ন ক্ষমতাসীনদের সামনে আসে।
এ ঘটনাগুলো বিশ্বব্যাপী বারবার ঘটছে। ২০১৬ সালেও ঘটেছে। শেকসপিয়ার বলেছেন, ‘যা চলে গেল তা শুধু প্রস্তাবনা (হোয়াটস পাস্ট ইজ প্রোলগ)। অর্থাৎ নতুন বছরের প্রস্তাবনা হবে গত বছরের ঘটনাবলি। রাদারফোর্ড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট লেখক জন ডব্লিউ হোয়াইটহেড ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অবস্থার উল্লেখ করে ২০১৬ সালকে চারভাবে আখ্যায়িত করেছেন- শোচনীয়, ভয়াবহ, ভালো না এবং খুব খারাপ (টেরিবল, হরিবল, নো গুড, ভেরি ব্যাড)। আর ১৯টি অবস্থা কী? চলমান যুদ্ধ (এন্ডলেস ওয়ার), নোংরা রাজনীতি (টক্সিক পলিটিকস), সহিংসতা (ভায়োলেন্স), ক্ষুধা (হাঙ্গার), পুলিশ হত্যা (পুলিশ শুটিং), গণহত্যা (মাস শুটিং), অর্থনৈতিক মন্দা (ইকোনমিক ডাউনটার্ন), রাজনৈতিক খেলা (পলিটিক্যাল সার্কাস), অপ্রয়োজনীয় বিয়োগান্ত নাটক (সেন্সলেস ট্রাজেডি), ক্ষতি (লস), বিয়োগান্ত (হাটএক), অসহিষ্ণুতা (ইন্টলারেন্স), পছন্দ-অপছন্দ ( প্রেজুডিস), ঘৃণা (হ্যাট্রেড), উদাসীনতা (অ্যাপাথি), হীনম্মন্যতা (মিননেস), নিষ্ঠুরতা (ক্রুয়েলটি), দারিদ্র্য (পোভার্টি), অমনুষ্যতা (ইনহিউম্যানিটি), লোভ।
হোয়াইটহেড এর নমুনা লিখেছেন- কোথাও নির্বাচন সঠিক হয় না, সামরিক খরচ বাড়ানো হচ্ছে, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে অর্থ ও প্রাণহানি হচ্ছে, পুলিশ সাধারণ সীমা ছাড়িয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, বিচারব্যবস্থা চলছে ক্ষমতাসীনদের অঙ্গুলি হেলনে, কেউ আবহাওয়ার কথা ভাবছে না, সরকার সব মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে, জনগণ যন্ত্রণায় কিন্তু ক্ষমতাবানেরা আনন্দে, অনির্বাচিতরা ক্ষমতায়, জনগণের সম্পদ নির্বিঘ্নে এরা কুক্ষিগত করছে। আসলে হোয়াইটহেড সারা বিশ্বের, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের চিত্র স্পষ্টভাবে এঁকেছেন। তিনি আহ্বান করেছেন, ‘এখনই শুরু করতে হবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।’
আর তার সাথে সুর মিলিয়েছেন ক্রিয়েটিভ ননভায়োলেন্সের সমন্বয়কারী ক্যাথি কেলি। তিনি এখন সবাইকে ‘ভয়, লোভ ও হিংসার’ বিরুদ্ধে বিরামহীন প্রতিরোধ শুরু করতে বলেছেন। এর শুরু হয়েছে শিকাগোতে। সেখানে ৭৫০টি বড় কাঠের ক্রুস এক মিছিল বহন করে সারা রাস্তা ঘুরে ২০১৬ সালের ৭৫০টি হত্যার প্রতিবাদ জানায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি স্টেটের একটির রাজধানী শিকাগো। এমন প্রতিবাদ সর্বত্র প্রয়োজন নতুন বছরের প্রতিভা হিসেবে। এখানে বিশ্বাসকে পাথেয় করতে হবে। কারণ বিশ্বাসই শুধু মানুষকে সহজ, সত্য এবং সঠিক পথ দেখায়। বিশ্বাস খ্রিষ্টীয় বা ইসলাম হতে পারে।
ধরা যাক, খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসের কথা। বিশ্বাস কেমন করে সবাইকে ক্ষণিকের জন্য হলেও একত্র করতে পারে তার মজার নমুনা। সেদিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর ১৯১৪। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। জার্মান ও ব্রিটিশ সৈন্যরা যুদ্ধ করছে। হঠাৎ একদল জার্মান সৈন্য খ্রিষ্টীয় ক্যারল গাইতে শুরু করল গোলাগুলির মাঝে। এটা ব্রিটিশ সৈন্যদের কানে গেলে, তারা গুলি বন্ধ করে ক্যারল গাইতে শুরু করল। আর বেরিয়ে এলো আড়াল থেকে। জার্মানরা ‘হ্যাপি ক্রিসমাস টু ইউ ইংলিশম্যান’ বলে চিৎকার করে উঠল। যুদ্ধের সাময়িক বিরতি ঘটল। ব্যত্যয় ঘটাল কমান্ডাররা, তারা সৈন্যদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলল। অবশেষে জানুয়ারি পর্যন্ত তা বন্ধ রইল এবং এই সুযোগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধও সমাপ্তির দিকে এগুলো। উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিন কোটি ৮০ লাখ লোক নিহত হয়। এটা শুরু করে ইউরোপিয়ানরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও তারাই শুরু ও শেষ করে।
নতুন বছরে তাই সবার প্রতিজ্ঞা হোক দারিদ্র্য, জাত বিভাজন এবং সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলবে সব প্রচেষ্টা। জনকল্যাণ হবে প্রথম লক্ষ্য, অস্ত্র ও অস্ত্রের ব্যবসা বন্ধ করার আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ হবে স্বতঃস্ফূর্ত। গত বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৩৩ শতাংশ অস্ত্র বিক্রেতা ছিল। দাবি করা হয় এই অস্ত্র দিয়ে প্রতিদিন দু’টি শিশু হত্যা হচ্ছে। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মুনাফা অন্যত্র খোঁজার দাবি করা হোক। সারা বিশ্বে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করে মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রচেষ্টায় সবাই অংশগ্রহণ করবে, এই হোক ইচ্ছা এবং প্রতিজ্ঞা। মিথ্যার পরাজয় এবং সত্যের জয়ের জন্য এ প্রতিজ্ঞা আরো দৃঢ় হোক। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫