ঢাকা, শুক্রবার,২৮ জুলাই ২০১৭

মতামত

তেলের মূল্যহ্রাসে সাধারণ মানুষের স্বার্থ কোথায়?

আবদুল মোনেম

০৩ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:০৮


প্রিন্ট

দুই-তিন বছর যাবতই বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য ক্রমহ্রাসমান। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এ খাতে প্রদত্ত ভর্তুকির টাকা উসুল করার লক্ষ্যে বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে তেলের মূল্যহ্রাসের দাবিকে সরকার দীর্ঘ দিন পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে তেলের মূল্যহ্রাস ঘটানো হলো। ১৬ নভেম্বর ২০১৬ দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার পুনরায় জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। রিপোর্ট থেকে আরো জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সময়ই বলা হয়েছিল, জনজীবনে দাম কমানোর প্রভাব পরিলক্ষিত হলে আবারো দাম কমানো হবে। কাজেই পুনরায় যেহেতু জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে, সেহেতু ধরে নেয়া যায়, সরকারের দৃৃষ্টিতে জনগণের ওপর পূর্ববর্তী মূল্যহ্রাসের প্রভাবও সুফলদায়কই ছিল। তাই প্রথমেই পর্যালোচনা করে দেখা দরকার- পূর্ববর্তী মূল্যহ্রাসে জনজীবনে কিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। তারপর আলোচনায় আসা যেতে পারে প্রস্তাবিত মূল্যহ্রাস ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে।
মূল্যহ্রাসের প্রক্রিয়ায় প্রথমে কমানো হয়েছিল ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা। দেশের সাধারণ মানুষ এ ফার্নেস অয়েল নামক জিনিসটা সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না। এ জিনিসটা কী কাজে লাগে, তার ধারণা থাকার প্রশ্নই আসে না। এ বস্তুটি এ দেশে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনেই ব্যবহৃত হয়। এ বস্তুটির মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দেয়ার সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছিলেন, এর ফলে সাধারণ্যে বিদ্যুতের মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা না থাকলেও তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তেলের নতুন মূল্যের সমন্বয় করা হবে। ইতোমধ্যে এ সমন্বয়-বিষয়ক আর কোনো আলোচনা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। এরূপ সমন্বয় আদৌ হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে কিরূপ সমন্বয় হয়েছে, এ বিষয়ে দেশবাসী কিছুই জানতে পারেনি। ফার্নেস অয়েলের মূল্যহ্রাসের পরও যেহেতু বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ও প্রক্রিয়া উভয়ই অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু ধরে নেয়া যায়, কুইক রেন্টাল নামক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কুইক প্রফিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই এ মূল্যহ্রাসের অন্তর্নিহিত কারণ।
কিছু দিন পর লিটারে ১০ টাকা হারে কমানো হয়েছিল পেট্রোল ও অকটেনের দাম, ৩ টাকা হারে কমানো হয়েছিল ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। অকটেন ও পেট্রলের মূল ব্যবহার হচ্ছে প্রাইভেট কারে এবং কিছুটা মোটরসাইকেলে। দামি গাড়িগুলো সাধারণত সিএনজিতে কনভার্টেড নয়, তাই এগুলোর জ্বালানি শুধুই অকটেন বা পেট্রল। সিএনজিতে কনভার্টেড প্রাইভেট কারগুলোতেও বরাবরই অকটেন বা পেট্রল ব্যবহারেরও ব্যবস্থা আছে। সিএনজির ব্যবহার আবার এসব গাড়ির আয়ুষ্কালও কমিয়ে দেয়। ফলে অকটেন ও পেট্রলের মূল ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই হচ্ছেন সমাজের উঁচুতলার মানুষ। আগে যে গাড়িতে মাসে ১০ হাজার টাকার পেট্রল-অকটেন পোড়ানো হতো, এখনো তাতে একই অঙ্কের টাকায় আগের চেয়ে ১০-১১ শতাংশ বেশি পেট্রল-অকটেন পোড়ানো যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় দামি গাড়ির চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার সিএনজিতে কনভার্টেড প্রাইভেট কারগুলো সিএনজির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে কিংবা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তাদের গাড়ির আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির রাস্তা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রাইভেট কারের মালিকরা সামান্য (গাড়ির মালিকদের হিসাব মতে সামান্য, কিন্তু সাধারণ মানুষের হিসাব মতে বিরাট অঙ্কে) লাভবান হচ্ছেন। পেট্রল ও অকটেনের অন্যতম ব্যবহারকারী মোটরসাইকেল মালিকরা যাদের বেশির ভাগ নিম্নমধ্যবিত্ত এবং সামান্য কিছুসংখ্যক উচ্চমধ্যবিত্ত। তাদেরও মাসে এক-দুই শ’ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
অন্য দিকে ডিজেল বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয় গণপরিবহন তথা বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ইত্যাদিতে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচপাম্প, ট্রাক্টর ইত্যাদিরও প্রধান জ্বালানি হচ্ছে ডিজেল। কাজেই ডিজেলের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ফলাফল বর্তায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তসহ ৯৫ শতাংশ মানুষের ওপর। লিটারপ্রতি ৩-৪ টাকা করে ডিজেলের মূল্যহ্রাসের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছার কোনো সুযোগই নেই। ডিজেলে লিটারপ্রতি ৩ টাকা মূল্যহ্রাসের পরপরই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রতি কিলোমিটারে ৩ পয়সা করে ভাড়া হ্রাসেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ভেবে-চিন্তেই কি তিনি এ নির্দেশ দিয়েছিলেন, নাকি শুধু অমৃত বচনে তিনি জনগণকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন, তা তিনিই ভালো জানেন। কিলোমিটারে ৩ পয়সা হারে ভাড়া হ্রাসে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার ভ্রমণে ভাড়া কমতে পারে ১ টাকা, ১০০ কিলোমিটারে কমতে পারে ৩ টাকা। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী ১ টাকা ও ২ টাকার মুদ্রাগুলো বাতিল করে দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। বর্তমানে বাজারে ১ টাকার নিচের মুদ্রা দেখতে পাওয়া যায় না। ১ টাকার মুদ্রাও অতি দু®প্রাপ্য। কোনো ক্রেতা বা সেবাগ্রহীতা বিক্রেতা বা সেবাদাতার কাছে ১ টাকা প্রাপ্য হলে তাকে সাধারণত ১ টাকার পরিবর্তে একটি চকলেট ধরিয়ে দেয়া হয়। ১, ২, ৩ কিংবা ৪ টাকা কম ভাড়া দেয়ার বা রাখার ব্যবস্থা সাধারণত দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে থাকেই না। কাজেই দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৫ টাকার নিচে ভাড়া হ্রাসের কোনো গুরুত্ব নেই। ৫ টাকা ভাড়া হ্রাসের জন্য দেড়-দুই শ’ কিলোমিটার ভ্রমণ দূরত্ব অতিক্রান্ত হওয়া দরকার। কাজেই স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণে ডিজেলের মূল্য হ্রাসের কিংবা পরিবহন ভাড়া হ্রাসের কোনো সুফল সাধারণ মানুষের ওপর নেই। ফলে ডিজেলের মূল্যহ্রাসের সুফল ৯৫-৯৭ শতাংশই যাচ্ছে পরিবহন মালিক তথা উপর তলার মানুষের পকেটে। গ্রামে ডিজেলচালিত সেচপাম্পের সেবাগ্রাহকরা তথা ক্ষুদ্র কৃষকরাও এ সামান্য মূল্যহ্রাসের কোনো সুফল পাম্প মালিকদের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারছেন না। কাজেই সুফল যে সামান্য আসছে, সেটাও বেশির ভাগ পাম্প মালিকদের।
বিদ্যুৎহীন এলাকার সাধারণ মানুষ তথা দরিদ্র গ্রামবাসী বাতি জ্বালানোর কাজে কেরোসিন ব্যবহার করে থাকেন। কোথাও কোথাও রান্নার কাজে চুলা জ্বালানোর জন্য কেরোসিন ব্যবহার করা হয়। লিটারপ্রতি ৩ টাকা মূল্য হ্রাসে কেরোসিন ব্যবহারকারীদের মাসিক ১০ থেকে ৪০ টাকার উপরে সাশ্রয় হওয়ার সুযোগ নেই।
২৯ অক্টোবর ২০১৬ পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) বাদ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে শুল্কমুক্তভাবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে, যা কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কুইক প্রফিটকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করবে, কালোবাজারে বিক্রির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার সুযোগও করে দেবে।
১৬ নভেম্বরের রিপোর্ট থেকে আরো জানা যায়, প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রল ১০ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সন্দেহ নেই, পুনরায় পেট্রল ও অকটেনের ১০ টাকা মূল্যহ্রাসে উপরোল্লিখিত সুবিধাভোগী শ্রেণীর লোকদের সুবিধা প্রাপ্তির হার দ্বিগুণ হবে। পুনরায় ৩ টাকা হারে ডিজেলের মূল্যহ্রাসের কারণে পরিবহন মালিকরা দুইবারের মূল্যহ্রাসকে একত্র করেও পরিবহন ভাড়া হ্রাসের কোনো উদ্যোগ নেবে না, বরং তাদের পকেটগুলো আগের চেয়ে আরো অনেক বেশি মাত্রায় স্ফীত করে তুলবে। ৩ টাকা হারে পুনরায় কেরোসিনের মূল্যহ্রাসে ব্যবহারকারী শ্রেণীটি কিঞ্চিৎ লাভবান হবে বটে, যা ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না।
আবাসিক সংযোগে চলতি বছরের শুরু থেকে গ্যাসের মূল্য প্রায় দেড়গুণ করে ৪০০ থেকে ৬০০ এবং ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরায় এটাকে প্রায় দ্বিগুণ করে ১২০০ ও ১২৫০ টাকা করার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। ১৮ নভেম্বরের আরেক রিপোর্টে দেখা যায়, অর্থমন্ত্রী বলেছেন ‘দাম কমবে জ্বালানি তেলের, বাড়বে বিদ্যুতের।’ আমি একাধিক আর্টিকেলেই হিসাব কষে দেখিয়েছি, কোনো পরিবারের মাসিক আয় ২৯ হাজার ২০০ টাকার নিচে হলে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংজ্ঞা অনুযায়ীই সে পরিবার অতি দরিদ্র শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের একটা বিরাট অংশই এই দারিদ্র্যসীমার নি¤œ বেতনভোগী। বেসরকারি চাকরিজীবীদেরও কমপক্ষে ৯৬-৯৭ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নি¤œবর্তী অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে পরিবার নিয়ে দুই রুমের একটি ক্ষুদ্রাকারের বাসায় বসবাস করতে গেলেও মাসে ভাড়া গুনতে হয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। এর সাথে গ্যাস বিল ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল হাজার থেকে এক হাজর ২০০ টাকা, পানি ও ময়লার বিল ৫০০ টাকা এ সবকিছু মিলিয়ে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির বাসারও ভাড়া ও বিল বাবদ মোট খরচ দাঁড়ায় কমপক্ষে ১২-১৩ হাজার টাকা। এই খরচ অনেক পরিবারেরই মোট আয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। গ্যাস-বিদ্যুতের এরূপ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে সন্দেহ নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাস-বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে ও বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়তে থাকবে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের নির্বাচিত সরকার বা গণতান্ত্রিক সরকার বলে দাবি করে থাকে, যদিও গত নির্বাচনে জণগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো সুযোগই পায়নি। নির্বাচিত বা গণতান্ত্রিক সরকার মানেই হচ্ছেÑ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার। জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারের কাজও অবশ্যই জনকল্যাণমুখী হতে বাধ্য। গোটা দেশবাসীকে বঞ্চিত করে সমাজের উঁচুতলার কিছু মানুষের সুখ-সুবিধা নিশ্চিত করার মানে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীলতা নয়। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশেও এ মূল্যহ্রাস যৌক্তিক। কিন্তু এর সুফল যদি শুধু সমাজের উঁচুতলার কিছু মানুষেরই পকেটস্থ হয় এবং বেশির ভাগ মানুষই যদি সুফলবঞ্চিত থাকে, তাহলে এই মূল্যহ্রাসের যৌক্তিকতা কোথায়? অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সমতাভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের প্রচেষ্টার কথা দেশবাসীকে শুনিয়েছিলেন। যদি অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যে সত্যিই সরকারের আন্তরিকতা থেকে থাকে তাহলে সরকারের উচিত হবে ফার্নেস অয়েল, অকটেন ও পেট্রলে ইতঃপূর্বে যে মূল্যহ্রাস করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেয়া এবং ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটারপ্রতি কমপক্ষে ২০ টাকা হ্রাস করা। অন্যথায় তেলের উচ্চমূল্যের গা-সহা ভাবটাকে অটুট রেখে তা থেকে প্রাপ্ত মুূনাফার টাকায় ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যহ্রাস করা কিংবা অন্ততপক্ষে অপরিবর্তিত রাখা।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি
E-mail: abdulmonem.bgp@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫