ঢাকা, শুক্রবার,২৮ এপ্রিল ২০১৭

সাতরঙ

নতুন বছরে স্কুলে

রঙের ঝলক

জারীন তাসনিম

০৩ জানুয়ারি ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
মডেল : তাফিফ আহসান

মডেল : তাফিফ আহসান

নতুন বছরে অনেকেই প্রথমবার পা রাখবে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আর যারা পুরানো শিক্ষার্থী তারা নতুন ক্লাসে নতুন করে শুরু করবে তাদের শিক্ষা জীবন। সব শিশুর চেষ্টা থাকে তারা যেন পড়াশোনায় খুব সফল হয়। শিশুদের এই সাফল্যের পেছনে কিন্তু অভিভাবকদেরও ভূমিকা থাকে। তারা যদি শিশুদের সাহায্য করেন তাহলে শিশুদের জন্য শিক্ষাজীবনে সফল হওয়া সহজ হয়ে যায়। কারণ বাবা-মা হচ্ছেন সন্তানদের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক। এ জন্য কয়েকটি বিষয়ে অভিভাবকদের লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
প্যারেন্ট টিচার মিটিং : স্কুলে প্যারেন্ট টিচার মিটিংগুলোতে অবশ্যই অভিভাবকদের যেতে হবে। এতে শিক্ষকদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়। আপনার সন্তানের অবস্থান তার দুর্বল দিকগুলো কী, তার পজিটিভ জিনিসগুলোই বা কী সেসব বিষয়ে জানা যায়। ফলে শিশুকে কিভাবে শেখাতে হবে সে বিষয়গুলোও বোঝা সহজ হয়।
স্কুলের ভবন ও এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন : শিশুর স্কুলভবনের কোথায় কী আছে, মাঠটা কেমন এসব বিষয় জানা থাকলে শিশুর সাথে স্কুল নিয়ে কথা বলার সময় সুবিধা হয়। এ ছাড়া স্কুলের ক্যাফেটরিয়া, ওয়াশরুম, অডিটরিয়াম এসবের অবস্থা সম্পর্কে জানা থাকলে শিশুকে গাইড করতেও সাহায্য করা যায়। স্কুলের অফিসরুম, স্টাফদের কন্ট্রাক্ট নাম্বার, টেস্ট শিডিউল, ছুটি প্রভৃতি বিষয়ে ওয়েবসাইটে তথ্য থাকে। সেসব জানতে স্কুলের ওয়েবসাইট চেক করুন।
হোমওয়ার্ক চেক করুন : এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিয়মিত হোমওয়ার্ক শেষ করে যাওয়া স্কুলে শিশুকে শিখতে সাহায্য করে। সে কতটা শিখছে সে বিষয়টি বোঝা যায়। তা ছাড়া ক্লাসে মনোযোগী হতেও সাহায্য করে। তাই শিশুকে তার হোমওয়ার্ক করতে সাহায্য করুন। তবে নিজে করতে যাবেন না। ভুল করা শুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে শিশু নিজেই শিখবে। নিয়মিত শিশুর অ্যাসাইনমেন্ট ডায়েরি চেক করুন। সে অনুসারে তাকে পড়তে সাহায্য করুন।
শিশুকে শেখার জন্য তৈরি করে স্কুলে পাঠান: শিশুকে এমনভাবে তৈরি করে নিন, যেন সে স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা ঠিকভাবে করতে পারে। সে জন্য তাকে পুষ্টিকর ব্রেকফাস্ট দিন। কারণ ব্রেকফাস্ট তাকে এনার্জি জোগাবে একইরসাথে পেটব্যথা বা এ জাতীয় সমস্যাগুলো দূরে রাখবে। শিশুর যেন পর্যাপ্ত ঘুম হয় সে বিষয়েও লক্ষ রাখুন। সে জন্য আগের রাতে তাকে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে দিন। ঘুম ঠিকমতো না হলে শিশু বিরক্ত হতে থাকে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারে না। তাই সময়মতো যেন ঘুমায় সে দিকে লক্ষ রাখুন।
শিশুকে স্কুলের জিনিসপত্র গোছাতে শেখান : শিশু তার বই-খাতা, পেনসিল, কলম, কিভাবে গুছিয়ে রাখবে সে বিষয়টি শিখিয়ে দিন। একইভাবে স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট ডায়রি ঠিকঠাকমতো যেন লিখে নিয়ে আসে সে বিষয়টিও বুঝিয়ে দিন। স্কুলে কিভাবে টিফিন খাবে সেগুলোও শেখানো প্রয়োজন। অর্থাৎ সে তার কাজগুলো কিভাবে গুছিয়ে করবে সে বিষয়গুলো তাকে শিখিয়ে দিন।
পড়ার দক্ষতা বাড়াতে শেখান : পরীক্ষা শব্দটি অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই ভয়ের একটি কারণ। সঠিকভাবে পরীক্ষার জন্য তৈরি করে শিশুদের এই ভয় কাটাতে হবে অভিভাবকদেরকে। পরীক্ষার আগের দিন প্রস্তুত না করে বরং আগে থেকেই পরীক্ষার পড়াগুলো শেষ করিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝে রিভিশন করতে দিন। বাসায় সময় ধরে একটা টেস্ট নিতে পারেন। শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করুন যেন পরীক্ষায় সে ভালো করে।
নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যান : শিশু যেন নিয়মিত স্কুলে যায় সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সেই সাথে সময়টাও মেনটেন করুন। দেরিতে স্কুলে যাওয়া বা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকা শিশুকে শিক্ষা থেকে অনেকটা পিছিয়ে দেয়, যা তার মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী করুন : শিশুকে স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে সাহায্য করুন। যেমনÑ খেলাধুলা, গান, নাচ, ছবি আঁকা, বিতর্ক সায়েন্স ফেয়ার প্রভৃতিতে অংশ নিতে আগ্রহী করুন। এতে স্কুলের প্রতি তার আগ্রহ বাড়বে।
শিশুকে যতœ নিয়ে পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারলে শিক্ষা জীবনে শিশুরা নিশ্চয় সফল হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫