ঢাকা, রবিবার,৩০ এপ্রিল ২০১৭

ইসলামী দিগন্ত

তাকদিরের ওপর আস্থা স্থাপন করতেই হবে

এ জে ইকবাল আহমদ

৩০ ডিসেম্বর ২০১৬,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তাকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের অঙ্গ। সাধারণত তাকদির বলতে আমরা বুঝি ভাগ্য, বরাত, নিয়তি, কিসমত, অদৃষ্ট ইত্যাদি। তাকদিরের শব্দমূল হচ্ছে কদর। কদর বা কাদরুন শব্দের অর্থ হচ্ছেÑ পরিমাপ, পরিমিতি, সীমা, মূল্যায়ন, অদৃষ্ট ইত্যাদি।
কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে, ‘যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, সার্বভৌমত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাবৎ কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে।’ (সূরা ফোরকান : ২)।
অনেকেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে বাবা-মাকে বলে, তোমরা আমাকে ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠালে না কেন, তাহলে জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারতাম। এ দেশে থেকে কী লাভ হলো ইত্যাদি। এটা ঠিক নয়।
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার মহান রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যিনি সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও পথনির্দেশ করেন।’ (সূরা আলা : ১-৩)।
এ দুটো আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, জগতের স্রষ্টা আল্লাহ পাক সব কিছুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ দান করেছেন এবং সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পবিত্র কালামে পাকে তাকদির নিয়ে অনেক আয়াত রয়েছে। হাদিসেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। তাকদির সংশ্লিষ্ট এসব আয়াত ও হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, তাকদির বা ভাগ্য হলো মহান রবের একটা নিয়ম। এ নিয়মনীতির অধীনেই জগৎ সংসার পরিচালিত হচ্ছে।
আল্লাহর নির্দেশেই ফসল, ফলমূল ও অন্যান্য জিনিস উৎপন্ন হয়। তাকদিরের সাথে তদবির বা চেষ্টার কোনো বিরোধ নেই, কোনো সঙ্ঘাত নেই। তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করতে হবে। কাজ করার জন্য উপায় অবলম্বনের মধ্যেই তদবিরের মর্ম নিহিত। কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে, ‘সে (মানুষ) ভালো যা উপার্জন করে তা তারই এবং সে মন্দ যা উপার্জন করে, সেটাও তারই।’ ( সূরা বাকারা : ২৮৬)।
আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেনÑ এ চেতনা মনের ভেতর থাকাই শান্তি। মঙ্গলময় কিছু ঘটলে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত, তেমনি কপালে খারাপ কিছু হলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং তাওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমল করতে হবে।
মানুষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাকদির পরিবর্তন করতে পারে আল্লাহর দরবারে যথাযথভাবে দোয়ার মাধ্যমে। হজরত সালমান রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কিছুই তাকদির রদ করতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া আর কিছুই বয়স বৃদ্ধি ঘটায় না।’ (তিরমিজি)।
আল্লাহ পাক মানুষকে ভালো-মন্দ, গুনাহ-সাওয়াব ইত্যাদি বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান দান করেছেন। ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। সৎ পথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন কেউ যদি মহান রবের সুযোগের অপব্যবহার করে ক্ষমতার দম্ভ দেখায়, মানুষকে বিপদে ফেলে, তাহলে সে দুনিয়াতে নিন্দিত হবে, কর্মফল ভোগ করবে এবং আখেরাতেও জাহান্নামে যাবেÑ এটাই স্বাভাবিক। তখন বলতে পারবে না যে, আমার তাকদিরে এত দুঃখ লেখা কেন?
পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ মানুষকে অবাধে চলার স্বাধীনতা দিয়েছেন বলে সে যা ইচ্ছে তাই করতে পারবে না। এ ক্ষমতা তাকে দেয়া হয়নি। অপকর্ম করার পর বলবে, তাকদির ভালো হলে আমার কোনো সমস্যা হবে না, তা সঠিক নয়। সে অত্যাচারী হতে পারবে না, মানুষের কল্যাণে নিজের শক্তি ব্যয় করবে, এটাই কাম্য। তার পর তাকদিরের ওপর ভরসা করতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫