ঢাকা, শনিবার,২১ জানুয়ারি ২০১৭

ধর্ম-দর্শন

দাম্পত্য জীবনে রাসূল সা:-এর আদর্শ

মোজাফফর হোসেন

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩৭


প্রিন্ট

পরিবারের গুরুত্ব : যেসব সামাজিক সংগঠন লক্ষ করা যায় তার মধ্যে পরিবার অন্যতম। গুরুত্বের দিক দিয়ে পরিবারের রয়েছে সামাজিক তাৎপর্য। পরিবারের প্রভাব সমগ্র সমাজ জীবনের ওপর পতিত হয় ও পারিবারিক পরিবর্তন পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই পরিবারের ভিত্তির ওপর সমাজ কাঠামো তৈরি হয় এবং সমাজের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি রচিত হয়।
পরিবার হলো এমন একটি সামাজিক একক যার সদস্যরা একত্রে বসবাস করে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেয়। সাধারণত এখানে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সন্তান-সন্তুতির লালন-পালন ও শিক্ষাদানের দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে। পরিবারকে একটি প্রতিষ্ঠানও বলা যায়। এটিই মানব ইতিহাসের প্রথম প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান সভ্যতার প্রত্যেক যুগে এবং প্রতিটি সমাজে বিদ্যমান। প্রত্যেকটি পরিবার তার সদস্যদের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে থাকে এমনকি পরিবারভুক্ত সদস্যদের চরিত্র গঠন হয়ে থাকে পরিবার থেকে। সন্তান পরিবার থেকে শিখতে পারে আদব-কায়েদা, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ, নীতি-নৈতিকতাবোধ প্রভৃতি মানবজীবনের মৌলিক আদর্শগুলো।
পরিবার থেকে জীবনদর্শনের ধারণা লাভ : ব্যক্তি তার জীবনকে যেভাবে দেখতে ইচ্ছুক সেটি হলো তার জীবনদর্শন। অর্থাৎ জীবন যেভাবে চললে একজন ব্যক্তির কাছে ভালো মনে হয় সেটিই সেই ব্যক্তির জীবন দর্শন। ব্যক্তিভেদে জীবনদর্শনও ভিন্ন হতে পারে। কেউ হয়তো মনে করতে পারেন বাড়ি-গাড়ি, ধনসম্পদ টাকা-পয়সা ইবাদতবন্দেগি এসবের কোনো কিছুরই দরকার নেই। কোনো রকমে খেয়েপরে জীবন চললেই হলো- যেমন লালন আখড়ার বাউলদের জীবন; এটি বাউলদের জীবনদর্শন। অনেকেই ভাবতে পারেন বাড়িগাড়ি, সুন্দরী নারী, টাকা-পয়সা, শান-শওকত প্রভৃতি জীবনের জন্য দরকার আছে। এরা ভাবতে পারেন দুনিয়ায় যা পাওয়া যায় সেসব দিয়ে সুখ ভোগ করি মরে গেলে তো সবই শেষ। এটিও এক ধরনের জীবনদর্শন। অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন দুনিয়া ক্ষণিকের জায়গা। এরপর আখিরাতে অনন্তজীবন পড়ে আছে, সেখানকার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে শুধু সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের জন্য। সে অনুযায়ী তারা ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। এটিও আরেক ধরনের জীবনদর্শন। এ রকম যেকোনো একটি জীবনদর্শনে বিশ্বাসী যদি স্বামী-স্ত্রী হয়ে থাকেন তাহলে সে পরিবারের সন্তান একই দর্শনে বিশ্বাস করতে পারে। কেননা একটি পরিবারের সন্তানাদি বেড়ে ওঠে সে পরিবারের মা-বাবার আদর্শ, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির আদলে। অর্থাৎ একটি পরিবারের সদস্যদের স্বভাব কেমন হবে সেটি নির্ভর করে ওই পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের ওপরে। পরিবারই প্রথম ঠিক করে দেয় সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মপেশা কী হবে।
বিয়ে ও দাম্পত্য; পরিবার কাঠামোর শর্ত : একটি পরিবারের সূচনা হয় একজন নারী ও একজন পুরুষের বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ে এই নতুন একজোড়া নারী-পুরুষকে পরিচিত করে দেয় স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে। পরিবার গঠনের প্রথম পদক্ষেপটি (বিয়ে) পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। মুসলিম সমাজে পরিবার গঠনের প্রথম পদ্ধতিটির নাম (আকদ) বিয়ে। অভিভাবকের সম্মতিক্রমে পুরুষ কর্র্তৃক নারীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (দেনমোহর) পরিশোধের বিনিময়ে সাক্ষী নিযুক্ত করে কোনো নারীর যৌন সম্পর্ক লাভ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করে নেয়াকে বিয়ে বলে। এই বিয়ের মাধ্যমেই তারা নারী-পুরুষ থেকে হয়ে ওঠে স্বামী-স্ত্রী। পৃথিবীর প্রথম স্বামী-স্ত্রী ছিলেন আদম-হাওয়া (আ:)। বেহেশতে তুয়া বৃক্ষের নিচে আদম-হাওয়ার বিয়ে পড়ানো হয়। আল্লাহ নিজেই এ বিয়ে পড়ান এবং খুতবা পাঠ করেন। আদম-হাওয়ার বিয়েতে মোহরানা ছিল আদম আ:-এর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ সা:-এর ওপর দশবার দরুদ শরিফ পাঠ করা। এ বিয়ের খুতবাতে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা: প্রশংসা করা হয়। বিয়েতে মেহমান হিসেবে আসমান এবং জমিনের ফেরেশতা সবাই উপস্থিত ছিলেন। পরে এই আদম-হাওয়া দম্পতির সন্তান-সন্তুতি পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে হজরত মুহাম্মদ সা: বলেন, ‘হে যুবসমাজ তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে কারণ এটি দৃষ্টি সংবরণ রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে আর যে সামর্থ্য রাখে না তার সিয়াম পালন করা উচিত’। অন্য এক হাদিসে পাওয়া যায় রাসূল সা: বলেছেন, ‘বিয়ে করা আমার সুন্নাত, যে আমার সুন্নাত বর্জন করবে সে আমার দলভুক্ত নয়’। রাসূল সা: আরো বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা বিয়ে করে তখন সে অর্ধেক দীন পূর্ণ করে আর অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে আল্লাহকে ভয় করুক’।
স্বামী ও স্ত্রীর অধিকারের স্বরূপ : বিয়ে পবিত্র বন্ধন। ধর্মীয় নির্দেশ পালনের মাধ্যমে এ বন্ধন সামাজিক রূপ গ্রহণ করে। এই বন্ধনের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ঘোষণা করেছে ‘তোমাদের স্ত্রীর ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তোমাদের স্ত্রীর অধিকার রয়েছে’ [সূরা ]। এ অধিকার পারস্পারিক দয়া ভালোবাসা ও সাহচার্যের। মানুষ একান্তে ও নিভৃতে ব্যক্তিগত কিছু পরিচর্যার প্রয়োজন অনুভব করে। স্বামী-স্ত্রী সেই একান্ত নিবিড় নিভৃতে পরিচর্যারও সহযোগী হয়ে ওঠতে পারে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,‘ আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন; চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে’ [সূরা রূম : আয়াত ২১]। স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিগমন থাকলেও স্ত্রীর বাবার সম্পত্তিতে স্বামীর অধিগমন নেই আর যৌতুকও স্বামীর অধিকারভুক্ত বিষয় নয়। অথচ কিছু স্বামী অতিরিক্ত অর্থের জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা কমে যেতে পারে। মনে রাখা জরুরি অর্থবিত্তের ভালো এবং মন্দ দু’টি ক্রিয়াই রয়েছে। বেশির ভাগ সময় টাকার মানুষ আর মনের মানুষ এক না-ও হতে পারে।
মুহাম্মদ সা:-এর দাম্পত্য জীবন : পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে স্বামী-স্ত্রী। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যখন পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, মায়া-মমতা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও জবাবদিহিতা অক্ষুণœœ থাকে তখন সেই পরিবারে শান্তিও অটুট থাকে, এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনটন পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করতে পারে না। আর্থিক অভাব-অনটন থাকলেও রাসূলের আদর্শে পরিচালিত পরিবারগুলোতে শান্তির অভাব হয় না। দাম্পত্য জীবনে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত দেখা দিলে সমাধান খুঁজতে গিয়ে সাহায্য নেয়া যেতে পারে কুরআন হাদিসের। মুহাম্মদ সা:-এর দাম্পত্য জীবন, তাঁর বিবিদের জীবন পদ্ধতিও অনুশীলন করা যেতে পারে। কুরআন হাদিস থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে সংসারে ও ব্যক্তিজীবনে কার সম্মান কোথায় কতটুকু, কার অধিকার কী, উদ্ভূত দ্বন্দ্বের বিষয়গুলোতে কুরআন হাদিসের ফয়সালা কী। দাম্পত্য জীবনে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে অনেককেই মনোবিজ্ঞানীদের শরণাপন্ন হতে দেখা যায়। ভাবতে হবে হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন বিশ্বনবী। আকাশচুম্বী যার সম্মান ও মর্যাদা। এত বড় মাপের মানুষ তিনি; ইচ্ছে করলে স্ত্রীদের ব্যাপারে উদাসীন থেকে যেতে পারতেন বা স্ত্রীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য অবজ্ঞা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখলেও দেখতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। স্ত্রীদের কাছে তিনি নিছক স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো আমিত্ব দেখানোর চেষ্টা ভুলেও করেননি। কোনো স্ত্রীই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ আপত্তি করতে পারেননি। হজরত আয়েশা রা:-কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিশ্বনবী কোনো ধরনের কার্পণ্য করেননি। আয়েশার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্যের মধ্যে যেমন ‘ছরিদ’ (আরবের এক ধরনের খাদ্য বিশেষ) সর্বশ্রেষ্ঠ নারীদের মধ্যে আয়েশা শ্রেষ্ঠ’ [বুখারি]। হাদিস শরিফে এসেছে হজরত আয়েশা রা: পেয়ালার যেখানে মুখ রেখে পান করতেন মুহাম্মদ সা:-ও সেখানে মুখ রেখে পান করতেন এবং হাড্ডির গোশত আয়েশা রা: খেয়ে মুহাম্মদ সা:-এর হাতে দিলে মুহাম্মদ সা:-ও সেখান থেকে খাওয়া শুরু করতেন আয়েশা রা: যেখান থেকে খেয়ে রেখে দিয়েছেন’ [নাসাঈ]। নাসাঈর আর এক হাদিসে পাওয়া যায় ‘রাসূল সা: তাঁর আরেক স্ত্রী মাইমুনা রা:-এর সাথে একই পাত্রের পানি দিয়ে একসাথে মগ দিয়ে গোসল করতেন’। বুখারির এক হাদিসে দেখা যায় রাসূল সা: ইতিকাফ করার সময় স্ত্রী ছাফিয়া সাক্ষাতের জন্য এলে সাক্ষাৎ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় রাসূল সা: তাঁকে সম্মান প্রদর্শন কল্পে একটু এগিয়ে দিয়ে আসেন’। আল্লাহর রাসূল স্ত্রীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদনের পর রাসূল সা: সাহাবাদের কুরবানি ও মাথা মুণ্ডন করতে বললে সাহাবারা তাতে সম্মতি দিলেন না (কারণ হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পূর্ণভাবে মুসলমানদের বিপক্ষে গেলে সাহাবিরা তাতে ব্যথিত ও হতাশ হওয়ায় রাসূল সা:-এর নির্দেশ থেকে বিরত ছিলেন) এতে মুহাম্মদ সা: আশাহত ও মনঃক্ষুণ্ন হলেন। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি স্ত্রী উম্মে সালমা রা:-এর সাথে পরামর্শ করেন। স্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী মুহাম্মদ সা: নিজে কুরবানি ও হলক করলে সাহাবিরাও নিজেদের কুরবানি ও হলক (মাথামুণ্ডন) করলেন’ [বুখারি]। দাম্পত্যে একজন পুরুষের ভালোমন্দের নিশ্চয়তা দেয়ার ক্ষমতা রাসূল সা: স্ত্রীদের ওপর ন্যস্ত করেছেন। রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম’। যদি কারো একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে ‘তাদের সাথে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা স্বামীর জন্য আবশ্যক’ [সূরা : নিসা : ১২৯ ]।
স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য : স্ত্রীর দায়িত্ব কেবল পার্লার থেকে সেজেগুজে স্বামীর অবর্তমানে পার্টি, সেমিনার, ক্লাব, সমিতি প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে বেড়ানো নয়। মনে রাখা যেতে পারে বেশি বেশি পুরুষঘেঁষা স্ত্রী এবং বেশি বেশি নারীঘেঁষা স্বামীদের দাম্পত্য অশান্তি ও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব প্রকট হতে পারে। দাম্পত্য জীবনকে স্থিতিশীল (ব্যালেন্স) করার জন্য স্বামীর প্রতিও স্ত্রীর কিছু দায়িত্ব রয়ে গেছে। স্বামীর আনুগত্য করাও স্ত্রীর জন্য আবশ্যক। রাসূল সা: ঘোষণা করেন, ‘কোনো মানুষের জন্য কোনো মানুষকে সিজদা করা বৈধ নয়। যদি কোনো মানুষকে সিজদা করা বৈধ হতো তাহলে স্ত্রীর জন্য স্বামীকে সিজদা করা বৈধ হতো’। তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো পাপ কাজ করাতে বাধ্য করতে চায় তবে স্ত্রীর জন্য সে কাজ বা নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার স্ত্রীর রয়েছে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী নিজেকে যাবতীয় অশ্লীল অপকর্ম থেকে বিরত রাখবে এবং স্বামীর অর্থসম্পদ মানসম্মান যত্নসহকারে হেফাজত করবে। আল্লাহ বলেন ‘সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত হয় এবং আল্লাহ যা হেফাজতযোগ্য করে দিয়েছেন তা লোকচক্ষুর অন্তরালে হেফাজত করে’[ নিসা : ৩৪]। স্বামীর দাবি পূরণ করা স্ত্রীর জন্য জরুরি। দাম্পত্য সুখের চাবিকাঠি এবং শান্তির নিশ্চয়তা হতে পারে রাসূল সা:-এর জীবনাদর্শ। নবী পত্মীদের স্বভাব ও চরিত্র কেমন ছিল, নবী কন্যাদের দাম্পত্যজীবন কেমন ছিল সেসব অনুসন্ধান করা জরুরি। হজরত খাদিজা, হজরত আয়েশা, হজরত সুমাইয়া, হজরত আছিয়াসহ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত নারীদের জীবনী অধ্যয়ন করা। দাম্পত্য জীবনকে সুখীসমৃদ্ধ করতে মনবিজ্ঞানীদের পরামর্শের প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস। এই মহৌষধই দাম্পত্য বিশৃঙ্খলার পরিবেশ থেকে বের করে আনতে পারে অনায়াসে।
বাবা-মার সাথে সন্তানদের আচরণ : বাবা-মা বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছালে সন্তান তাদের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করবে এটি রাসূলের আদর্শ। বৃদ্ধ বয়সে বাব-মা শিশুদের মতো অসহায় হয়ে যায়। সন্তানদের দায়িত্বভার বহন করতে করতে বাবা-মা ক্লান্ত হয়ে গেলে সন্তানদের কর্তব্য হয়ে যায় বাবা-মার কাঁধে অবস্থিত দায়িত্ব প্রত্যাহার করে নেয়া। বাবা-মার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ সরাসরি ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের প্রতি উফ্ শব্দ করো না। তাদের ধমক দিয়ো না, তাদের সাথে নরম ব্যবহার করো’ [সূরা : বনি ইসরাইল : ২৩ ]। রাসূল সা: বলেন, মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের যেমন কর্তব্য তেমনি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করাও মা-বাবার জন্য কবিরা গুনাহ। এভাবে রাসূল সা:-এর জীবনাদর্শ অনুযায়ী দাম্পত্যজীবন ও পরিবার পরিচালনা করলে এবং স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি রাসূলে আদর্শ চরিত্রে ধারণ করতে পারে তাহলে পরিবারে শান্তিশৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে বলে আশা করা যেতে পারে।
লেখক : গবেষক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫