ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

দেশ মহাদেশ

২০১৬ সঙ্ঘাত রক্তপাতের বছর

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট
ছবিতে সিরিয়ার আলেপ্পোয় বিমান হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সন্তানের লাশ হাতে এক পিতা

ছবিতে সিরিয়ার আলেপ্পোয় বিমান হামলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সন্তানের লাশ হাতে এক পিতা

প্রতিটি দিন নতুন, প্রতিটি বছর নতুন। কিন্তু প্রতিটি নতুনত্বের মধ্যেও এমন কিছু নতুন থাকে, যার ফলে তাকে বিশেষভাবে চেনা যায়। ২০১৬ সালই সম্ভবত ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বছরটিতে একের পর এক ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে, যা আগামী বছরগুলোতে ভালোভাবেই অনুভূত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে অন্য কোনো বছর এত সুদূরপ্রসারী ঘটনা নিয়ে একটার পর একটা নাটক মঞ্চস্থ হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন, সিরিয়া সঙ্কট, ব্রেক্সিট, তুরস্কে অভ্যুত্থান, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, চীন-রাশিয়া-তুরস্ক-ইরান-পাকিস্তান জোটের অভ্যুদয়, ভারতের আরো বেশি করে মার্কিন বলয়ে ঢুকে পড়ার মতো ঘটনা এই এক বছরের মধ্যেই ঘটেছে। ইউরোপে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বাস্তু, বাংলাদেশ এবং আরো কয়েকটি দেশে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ঢলও শিরোনামে এসেছে বারবার। আবার ইউরোপের দেশে দেশে উগ্রবাদীদের অবস্থানও সুসহংত হয়েছে এ বছরই। এগুলোর যেকোনো একটিই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে যথেষ্ট। এ বছরই কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো, মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিওরোস্তামি, লেখক মহাশ্বেতা দেবী, তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারামের মতো ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান ঘটেছে।

ট্রাম্পের উত্থান
ধনকুবের এবং বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়াটা ছিল চলতি বছরের সম্ভবত সবচেয়ে বড় চমক। একে কী বলা হবে : ভূমিকম্প না সুনামি? সম্ভবত ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি।
তিনি যখন রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন, তখন কেউ পাত্তাই দেয়নি। স্রেফ জোকার হিসেবেই তাকে গণ্য করা হয়েছিল। একটার পর একটা চটুল মন্তব্য করে তিনি লাইমলাইটে থেকে একের পর এক হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পর্যন্ত হাসিল করে নেন। তারপরও সবাই ধরে নিয়েছিল, হিলারি ক্লিনটনের মতো মহীরুহ প্রার্থীর সামনে তার জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হবে। অনেক রিপাবলিকান নেতা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে চলে যান। কিন্তু সেই তিনিই বিপুল ব্যবধানে হিলারিকে হারিয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের লেবার নেতা জেরেমি করবিন এইর ফলকে ব্যাখ্যা করেছেন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে জনগণের প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে। এখন তিনি যদি একের পর এক তার চটুল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে থাকেন, তবে দ্রুত বদলে যেতে থাকবে দুনিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন, জলবায়ুনীতি পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ নীতিতে পরিবর্তনÑ অনেক কিছুই তিনি বদলে দিতে চেয়েছেন। এখন তিনি কতটুকু করেন তা-ই দেখার বিষয়। সেটা নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগে থাকতে হচ্ছে। কারণ বদলে যাওয়া দুনিয়ায় ‘আদার ব্যাপারিকে এখন জাহাজের খবর’ রাখতেই হয়।

ব্রেক্সিট
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরেকটি বিরাট বিষয়। সব প্রচারমাধ্যমের ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করে, শক্তিশালী বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্যের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পক্ষে রায় দেয়।
ভোটের মানচিত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের উত্তর অংশ ইইউতে থাকার পক্ষে থাকলেও দক্ষিণের প্রায় পুরো অংশ ছিল জোট ছাড়ার পক্ষে। এ জন্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিচ্ছেদপন্থীরা জয়ী হলেও স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।
ভোটের আগে ব্রেক্সিটপন্থীরা বলছিল, অভিবাসীদের ব্রিটেনে আসা বন্ধ করতেই মনোযোগ তাদের। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে কেউ যাতে অবাধে যুক্তরাজ্যে এসে বসবাস করতে না পারে। আর ‘রিমেইন গ্রুপ’ এর ভাষ্য ছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে ৫০ কোটি মানুষের বাজার হারাবে ব্রিটেন। তাতে অর্থনীতিতে আবার ‘ধস’ নামবে, যা এক যুগেও কাটিয়ে ওঠা যাবে না।
তবে কেবল ব্রিটেনের মধ্যেই তা সীমিত থাকবে না। ফ্রান্সে ইতোমধ্যেই ব্রেক্সিটের ঢেউ উঠেছে। ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশও একই পথে এগোতে পারে। অর্থাৎ অখণ্ড ইউরোপ টুকরা টুকরা হয়ে যাচ্ছে।

তুরস্কে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’
তুরস্কের অভ্যুত্থানচেষ্টার খবরটি ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। ১৫ জুলাইয়ের ওই অভ্যুত্থানচেষ্টাটি সারা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তুর্কি পুলিশ ও জনগণ রাস্তায় নেমে ওই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। এরদোগান এই অভ্যুত্থানচেষ্টার জন্য স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। এই অভ্যুত্থানচেষ্টা অনেক সমীকরণ বদলে দেয়। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এরদোগান এরপর রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েন। রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করা নিয়ে তুরস্ক-রাশিয়ার সম্পর্কে অবনতি হলেও এ ঘটনার পর তা উল্টে যায়; দুই দেশ নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। অবশ্য বছরের শেষভাগে এসে তুরস্ক আবারো আলোচনায় এসেছে রাজধানী আংকারায় এক প্রদর্শনীতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায়।

নোটকাণ্ড না সার্জিক্যাল স্ট্রাইক!
ভারতের দু’টি ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কাশ্মিরের একটি সেনাঘাঁটিতে কথিত সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে ভারত জানায়, তারা পাকিস্তানের মাটিতে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। এর পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অব্যাহত গোলাবর্ষণ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে। এর প্রভাব আশপাশের দেশগুলোতেও পড়েছে।
এর রেশ মিটতে-না-মিটতেই মোদি ঘোষণা দেন ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের। দেশটির অর্থনৈতিকব্যবস্থায় সুনামির সৃষ্টি হয়। এর ধকল কত দিন ধরে চলবে, কে জানে? প্রথমে মোদি বলেছিলেন, কর ফাঁকি রোধ, দুর্নীতি দমন, জাল মুদ্রা প্রতিরোধের জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এখন তিনি বলছেন, দেশকে নগদবিহীন অর্থব্যবস্থায় পরিণত করবেন। তিনি কী করবেন কেউ কি বলতে পারে? তিনি যখন নোট বাতিলের ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন, সীমান্তে সৈন্যরা জীবন দিচ্ছে, কত কষ্ট করছে, দেশবাসীকেও কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তারা সেটা মেনে নিয়েছিল। এখন কিন্তু তাদের দুর্ভোগ কাটছে না। অনেকে তাই প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে, নোট বাতিলের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য করার জন্যই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল কি না।

উদ্বাস্তু সঙ্কট
সিরিয়া আর রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা বিদায়ী বছরে বারবার শিরোনামে এসেছে। উগ্রখ্রিষ্টানরা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম উদ্বাস্তুদের গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। ফলে উদ্বাস্তুদের জীবন হয়ে পড়েছে আরো করুণ।
আবার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরাও নৃশংসতার শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়েছে। তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চেয়েছে। কিন্তু পারেনি।

সিরিয়া সঙ্কট
বছরের শেষ দিকে সিরিয়া সঙ্কটের অপ্রত্যাশিত একটা সমাধান দেখা যাচ্ছে। সেটা হতে যাচ্ছে ওবামার নীতির বিপরীতে।
বাশার আল আসাদ সরকারকে উৎখাতে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য দেশগুলো। তাদের সাথে যোগ দিয়েছিল তুরস্ক, সৌদি আরবও। কিন্তু বছর শেষে জয়ী হয়েছে রাশিয়া।
তাদের সাথে যোগ দিয়েছে তুরস্ক, ইরান। ফলে সেখানে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। সেটা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্লাবিত হতে পারে। বদলে যেতে পারে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
বিমান দুর্ঘটনা
বিদায়ী বছরে বিশ্ব বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বছরের শেষ প্রান্তে এসে।
মে মাসে প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়ে ইজিপ্ট এয়ারের একটি বিমানের ৬৬ আরোহীর সবার মৃত্যু হয়। নভেম্বরে কলম্বিয়ার মেদেইনে ব্রাজিলের একটি ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের বহনকারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ জনের মৃত্যু হয়।
৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা পিআইএ-র একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে ৪৮ আরোহীর সবাই মারা যান। আর রাশিয়ার একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৯২ আরোহীর মৃত্যু হয় ২৫ ডিসেম্বর।
এর বাইরেও নেপাল, কলম্বিয়া, একুয়েডরসহ বিভিন্ন দেশে আরো দুই ডজন বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে সারা বছরে।

সন্ত্রাসবাদ
বিশ্বজুড়ে ২০১৬ সালে সন্ত্রাসবাদের বিপুল বিস্তার দেখা গেছে। আইএসকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারলেও যে আশঙ্কা ছিল, সেটাই যেন প্রমাণ করে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে।
এই বছরের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো চরমপন্থী আইএসের পিছু হটা। ইরাক ও সিরিয়ার যে বিশাল এলাকায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা থেকে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে যে পরিমাণ জায়গা আইএসের দখলে ছিল, তার এক-চতুর্থাংশ তারা গত দেড় বছরে হারিয়েছে। কমে গেছে তাদের আয় এবং যোদ্ধার সংখ্যাও। দুই বছরে আইএস প্রায় ৫০ হাজার যোদ্ধা হারিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর।
গত বছরই অনেকে আশঙ্কা করেছিল, আইএসকে সিরিয়া-ইরাক থেকে হটিয়ে দেয়া হলে তারা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়বে। সেটাই দেখা গেছে বিভিন্ন ঘটনায়।
এর মধ্যে লিবিয়ায় জানুয়ারিতে গাড়ি বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক; মার্চে বেলজিয়ামের বিমানবন্দর-মেট্রো স্টেশনসহ তিনটি স্থানে একযোগে হামলায় ৩২ জন; লাহোরের একটি পার্কে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৭৫ জন এবং জুনে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে হামলায় ৪৫ জন নিহত হন।

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন
বিদায়ী বছরে ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। আর তাতে য্ক্তুরাষ্ট্রের অবস্থান বড় রকমের কমে গেছে বলেই মনে হয়েছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী মিত্র পাকিস্তান, তুরস্ক হাতছাড়া হয়ে গেছেই বলে মনে হচ্ছে। দুটি দেশই এখন রাশিয়া-চীন বলয়ে যোগ দিয়েছে। চীনের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ বহু আগে থেকে। চীনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গাঁটছড়া বাঁধতে সমস্যা হয়নি তাদের। এর একটি কারণ ছিল ভারতের রাশিয়াপ্রীতি। ভারত এখন রাশিয়ার কাছ থেকে সরে এসে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জোট বেঁধেছে। ফলে পাকিস্তানের এখন অনেকটাই গুরুত্ব কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। চীন এই সুযোগটিই নিয়েছে। তারা রাশিয়াকে ভিড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের সাথে। ফলে বদলে গেছে সমীকরণ। এই পরিবর্তন আরো অনেক স্থানে অনুভূত হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫