ঢাকা, বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭

মজা.কম

শীতপ্রেমিক গেদু চাচা

মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৬,বুধবার, ১৪:৫৪


প্রিন্ট

প্রাতঃভ্রমণ শেষে ফিরে আসছি। এমন সময় দেখলাম গেদু চাচা করিমের দোকানে বসে ভাপা পিঠা খাচ্ছে। তার পাশে গিয়ে বসলাম। বললাম, চাচা আপনি দশতলার মালিক হয়ে গাছতলায় বসে ভাপা খাচ্ছেন! বললেই হতো, আমরা বাসায় পিঠা নিয়ে যেতাম। চাচা মুচকি হেসে বললেন, ভাতিজা, আজ ভোর রাতে এক মধুর স্বপ্ন দেখেছি। তাই খুব খুশি খুশি লাগছে, বলেই তিনি খিলখিল করে হেসে উঠলেন। আমি গেদু চাচার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি, কারণ তিনি হাসছেন না কাঁদছেন বুঝতে পারছি না। শুনেছি খুশিতেও মানুষ কাঁদে। বললাম, চাচা আপনি খুশিতে কেঁদে ফেললেন? চাচা বললেন, ভাতিজা, আমি কাঁদছি না হাসছিই। তবে হয়েছে কী, শীতে ঠোঁট ফেটে যাওয়ায় হাসিটাকেও এখন কান্নার মতো দেখায়। আমি স্বাভাবিক হয়ে বললাম, ওহ, আচ্ছা। আমি চাচার আনুকূল্য পেতে বললাম, আসলেই শীত ঋতুটা কুফা। শীত এলেই মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। কথায় বলে নাÑ যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর। চাচা আমার কথা মুখ থেকে টেনে নিয়ে বললেন, এমন কথা আর বলবে না। আল্লাহ নারাজ হবেন। শীত আমার কত উপকার করছে জানো? আমি বললাম, না চাচা, জানি না। তিনি বললেন, তাহলে শোনো। গরমকালে ভাড়াটিয়াদের জন্য মোটর দিয়ে পানি তুলতে তুলতে আমি ক্লান্ত হয়ে যাই। পানি তোলার ১০ মিনিটের মাথায় পানি শেষ। আবার মোটর স্টার্ট দেই। মোটরের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে আমার হার্টবিট। আর চান্দি দিয়ে টপ টপ করে ঘাম ঝরে। কেন জানো? টেনশনে। আর এখন একবার পানি তুললে তিন দিন তিন রাত চলে যায় পানি শেষ হয় না। তাই আমার মাথা থাকে এক্কেবারে ঠাণ্ডা। আর মাথা ঠাণ্ডা মানে দুনিয়া ঠাণ্ডা। চাচা আমার দিকে মাথা হেলিয়ে বললেন, দেখো তো আমার মাথার চুল একটাও কি অবশিষ্ট আছে? আমি চাচার তেলতেলে মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, না, একটিও অবশিষ্ট নেই, একেবারে চকচকা। চাচা বললেন, শোনো বেটা, গরমকালে দশতলা বাসার পরিচালনা করতে এমনিতেই মাথা হট থাকে। তার ওপরে প্রখর রোদে হাঁটতে গেলে গরম সরাসরি মস্তকে গিয়ে আঘাত করে। মস্তক গলে ঘাম বের হয়। শীতকালে কিন্তু এই ভয়টা নেই। তা ছাড়া আরেকটা ইন্টারেস্টিং বিষয় আছে। চাচা আমতা আমতা করে বললেন, তোমাকে কী করে যে বলি। আমি বুঝতে পারলাম চাচা কিছু বলতে আগ্রহী। বললাম, বলে ফেলুন না চাচা। তিনি বললেন, বিকেলের মিষ্টি রোদ পোহাতে যখন ছাদে উঠি। আমার পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে তখন এক রমণীকে দেখতে পাই। নাটোরের বনলতা সেনের মতো কালো কেশ ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। সে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। প্রথম প্রথম তাকাতে লজ্জা লাগলেও এখন আর লজ্জা লাগে না। আমিও উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকি। শোনো ভাতিজা, শরীর বৃদ্ধ হলেও মন কিন্তু বৃদ্ধ হয় না। বয়স হলে কী হবে, মনটা তো আমার সেই সাতাশ বছরের টগবগে এখনো। গেদু চাচা এবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ভাতিজা তুমিই বলো। গরমের রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা কি সম্ভব? তিনি হাতের ইশারা দিয়ে বললেন, শোনো, কানে মুখে একটা কথা বলি। আমি গেদু চাচার দিকে ঝুঁকে বললাম, চাচা বলুন। তিনি আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললেন, দোয়া করো, এবারকার শীতটা যেন বৈশাখ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

 

এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫