ঢাকা, রবিবার,২৮ মে ২০১৭

বিবিধ

অনলাইন দাপটে বিলুপ্তির পথে সিডি

আলমগীর কবির

২৭ ডিসেম্বর ২০১৬,মঙ্গলবার, ১৬:৪৩


প্রিন্ট

আগের মতো ক্যাসেট প্লেয়ার বাজিয়ে এখন আর গান শোনা হয় না। কম্পিউটার কিংবা অন্য ডিভাইসে সিডির সহযোগিতায় গান শোনার অভ্যাসটাও ভুলতে বসেছেন শ্রোতারা। এর প্রভাটাই লক্ষ করা গেছে দেশীয় অডিও বাজারে। এ বছর প্রকাশিত গানের ৮০ ভাগই প্রকাশ হয়েছে ডিজিটাল ভার্সন অর্থাৎ অনলাইনে। যাকে অনেকেই মনে করছেন সিডি বিলুপ্তির ইঙ্গিত। গান প্রকাশে অনলাইন বেছে নেয়ার কারণ হলো, দেশের বেশির ভাগ সিডির দোকানই বন্ধ হয়ে গেছে। ইউটিউব হয়ে উঠেছে গান শোনার সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় মাধ্যম। পাশাপাশি মোবাইলেও গান শুনছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রোতা। তবে সঙ্গীতবোদ্ধারা মত দিয়েছেন- ডিজিটাল ভার্সনে প্রকাশ পেলেও কিছু সিডি যেন প্রকাশ করা হয়। অন্তত সংরক্ষণের জন্য কিছু সিডি প্রকাশের প্রতি জোর দিয়েছেন তারা।
চলতি বছরের শুরুতে সঙ্গীতাঙ্গন যতটা সরব ছিল, শেষ দিকের অবস্থা ছিল তার উল্টো। তবে সব দিক মিলিয়ে গড় অবস্থাকে মোটামুটি বলে চালিয়ে দেয়া যায়। জানুয়ারি থেকে রোজার ঈদ পর্যন্ত স্টেজ, অ্যালবাম, প্লেব্যাক প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরব ছিল সঙ্গীতাঙ্গন। সিনিয়র ও চলতি প্রজন্মের তারকাশিল্পীদের রেকর্ডসংখ্যক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে ভালোবাসা দিবস থেকে রোজার ঈদ পর্যন্ত। বছরটিকে ইন্ডাস্ট্রির ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হিসেবেও ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। সফলতার ধারাবাহিকতাটা অব্যাহত থাকেনি বছরের শেষে এসে। শেষ দিকের কয়েক মাস অ্যালবামই প্রকাশ হয়েছে হাতে গোনা। কোম্পানিগুলো প্রকাশনা অনেকটাই বন্ধ রেখেছে এ সময়ে। এ কারণে অডিও অঙ্গনে হতাশা ছড়িয়েছে শেষ দিকে। অন্য দিকে জুলাইয়ের ১ তারিখ গুলশান হামলার পর থেকে স্টেজেও নেমে আসে ধীরগতি।
সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে ওপেন এয়ার কনসার্ট বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকে। তবে দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে স্টেজ আয়োজনের সংখ্যা বাড়ছে। শিল্পীদের ভেতর স্বস্তি ফিরছে। এ দিকে, চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফোক উৎসব ও আন্তর্জাতিক উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব বছরের শেষের দিকে বেশ উপভোগ করেছেন শ্রোতারা। অন্য দিকে সিনেমার গান নিয়ে সারা বছরই ব্যস্ত ছিলেন প্লেব্যাক শিল্পীরা। যদিও যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণের নামে চলতি বছর ভারতীয় গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের প্রভাব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল, যেটি নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। স্টেজেও ভারত তথা বিদেশী শিল্পীদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া এ বছর মিউজিক ভিডিওর প্রাধান্য আরো বেড়েছে। কারণ গান এখন শোনার পাশাপাশি দেখারও বিষয়। তাই সিনিয়র ও তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা আরো বেশি করে ঝুঁকেছেন মিউজিক ভিডিওর দিকে। বছরজুড়ে অ্যালবাম, প্লেব্যাক, স্টেজসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আসিফ আকবর, আঁখি আলমগীর যেমন সরব ছিলেন, তেমনি এ প্রজন্মের হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান, ন্যান্সি, আরফিন রুমি, ইমরান, পড়শী, কাজী শুভ, পূজা, ঝিলিক, অটোমুনাল মুন, ঐশী, নদী, নাওমি, প্রতিম, মিনার, শাওন গানওয়ালা, তানজীব, মিলন, এফএ সুমনও ব্যস্ত ছিলেন। সারা বছর গীতিকার হিসেবে ব্যস্ত ছিলেন আসিফ ইকবাল, প্রদীপ সাহা, শফিক তুহিন, দেলোয়ার আরজুদা শরফ, অনুরুপ আইচ, জাহিদ আকবর, স্নেহাশীষ ঘোষ। আর সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সরব ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, হাবিব ওয়াহিদ, হৃদয় খান, ফুয়াদ, আরফিন রুমি, অটোমুনাল মুন, ইমরান, কাজী শুভ, জেকে মজলিশ, রাফি, অয়ন চাকলাদার, রেজওয়ান প্রমুখ।
এ বছর লেজারভিশন, সংগীতা, জিসিরিজ, সিডি চয়েজ, ঈগল মিউজিকের সাথে নতুন করে প্রকাশনায় এসেছে ঐতিহ্যবাহী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক ও সিএমভি।

প্রশংসিত মিউজিক ভিডিও
এ বছর অনেক মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার দিকে এগিয়ে ছিল, মে মাসে প্রকাশ পাওয়া বাপ্পা মজুমদারের নতুন গান ‘জানালার গ্লাস’। গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। গায়কি, মিউজিক ভিডিওর কারণে বেশ আলোচনায় আসে গানটি। বাপ্পা ও প্রসূনের অন্য রকম উপস্থাপনা ভক্তরাও গ্রহণ করেন ইতিবাচকভাবে। এ ছাড়া গেল সেপ্টেম্বরের শুরুতে অনলাইনে মুক্তি পাওয়া মমতাজের গাওয়া লোকাল বাস গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গানের মডেল হয়েছিলেন শৌমিক ও মুমতাহিনা টয়া। ভিডিওতে একঝাঁক তরুণের উপস্থিতি ছিল। প্রীতম হাসানের সুর ও সঙ্গীতায়োজনে গানটি ব্যাপক আলোচিত ও সমাদৃত হয়। এ ছাড়া পুরো বছরেই ছিল মিউজিক ভিডিওর জয়জয়কার। ভালো মিউজিক ভিডিও লুফে নিয়েছেন দর্শক-শ্রোতারা। সেই তালিকায় আছে মিনারের ঝুম শিরোনামের গানটি। শেয়ার ও ভিউয়ের দিক থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এগিয়ে আছে এটি। গেল জুনে মুক্তি পেয়েছে এটি।
তা ছাড়া বছরজুড়ে আরো কিছু মিউজিক ভিডিও নিয়ে হয়েছে আলোচনা। যেমন কুমার বিশ্বজিতের ‘সারাংশে তুমি’, তানজীব সারোয়ারের ‘মিথ্যা শিখালি’, শাওন গানওয়ালার ‘ইচ্ছে মানুষ’, ইমরানের ‘ফিরে আসো না’, ‘বাহুডোরে’ ও ‘সবাই চলে যাবে’, হাবিব ওয়াহিদের ‘বেপরোয়া মন’, শাহতাজের ‘উড়ে যাই’, কনার ‘রেশমি চুড়ি’, তাহসানের ‘কেউ না জানুক’, প্রীতম ফিট কুদ্দুস বয়াতীর ‘আসো মামা হে’, পূজা-বেলালের অবুঝ পাখি, ন্যান্সির ‘বৃষ্টিবিহীন’ এবং ঐশীর ‘মায়া’।

বছরের সফল ও প্রশংসিত অ্যালবাম
বছরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত সিনিয়র ও চলতি প্রজন্মের অনেক শিল্পীর অ্যালবামই শ্রোতামহলে প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি সফল ছিল ব্যবসার দিক দিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে সৈয়দ আবদুল হাদীর ‘দ্য লিজেন্ড সৈয়দ আবদুল হাদী, কুমার বিশ্বজিতের ‘সারাংশে তুমি’, দিলরুবা খানের ‘মনের পাখি বনে’, প্রিন্স মাহমুদের ‘খেয়ালপোকা’, ফাহমিদা নবীর ‘সাদাকালো’, ডলি সায়ন্তনীর ‘একলা হবি’, ন্যান্সির ‘ভালোবাসো বলেই’, আরফিন রুমির ‘তোমারই নামে’ এবং ‘সত্যি করে বল’, কনার ‘রিদমিক কনা’, তপুর ‘দেখা হবে বলে’, ইমরানের ‘বাহুডোরে’, কাজী শুভর ‘দাগা’, মিনারের ‘ঝুম’, ‘দেয়ালে’ ও ‘চাঁদের গল্প’, পূজার ‘অবুঝ পাখি’, এফ এ সুমনের ‘তোর লাগিরে’, তানজীব সারোয়ারের ‘মিথ্যা শিখালি’, নাওমির ‘ইলিভেনথ আওয়ার’, ঐশীর ‘মায়া’ ও ‘হাওয়া’, মমতাজ ও ফজলুর রহমান বাবুর ‘শূন্যবাড়ি’, কাজী শুভ-এফ এ সুমনের ‘তোকে ছাড়া রাত’, কাজী শুভ-রিংকুর ‘পাপপুণ্য’, অদিত ফিচারিং ‘মন দরিয়া’, তাহসান-ইমরানের ‘মন কারিগর’, বাপ্পা মজুমদারের সিঙ্গেল ‘জানালার গ্লাস’, আসিফ আকবর-আঁখি আলমগীরের ‘বেসামাল মন’, শাওন গানওয়ালার ‘ইচ্ছে মানুষ’, পূজার সিঙ্গেল ‘তোমার ছেলে’, অটোমুনাল মুনের ‘তুই আমার মন ভালোরে’, শফিক তুহিনের ‘পরান’, সালমার ‘পরানের বন্ধু’, লুৎফর হাসানের ‘যদি কান্না কান্না লাগে’, তানভীর তারেকের ‘তোমার কিছুটা জানি’ ইত্যাদি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫