ঢাকা, বুধবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

শিশু নির্যাতনের শেষ নেই

মো: তোফাজ্জল বিন আমীন

২৬ ডিসেম্বর ২০১৬,সোমবার, ১৮:২০


প্রিন্ট

দেশে শিশু হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়ে বা কুপ্রস্তাবে রাজি না হলেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ও আহত করা হচ্ছে স্কুলপড়–য়া শিশুদের। সেই সাথে ঘটছে গণধর্ষণের মতো অমানবিক ঘটনা। শিশু নির্যাতনের হাজারো কারণের মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষাকে সঙ্কুচিত করে ভিনদেশীয় সংস্কৃতিকে লালন করা।
অপরাধ ঘটার পরে অপরাধীকে শাস্তি দেয়া একটি কাজ, আর অপরাধ ঘটতে না দেয়া সমাজকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখা আর একটি কাজ। নারী ও শিশু নির্যাতনের কঠিন শাস্তির বিধান আমাদের রাষ্ট্রে রয়েছে। সেই বিধানে খুব কম ক্ষেত্রেই অপরাধী এ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করেছে। ধর্ষণ-গণধর্ষণ হত্যা ঘটার পরে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন করে লাভ নেই। যৌনবর্বরতার শিকার যাতে শিশুরা না হয়, সে ব্যবস্থাটাই সবার আগে নিশ্চিত করা দরকার।
একাত্তরের অঙ্গীকার ছিল নারী-পুরুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে নিজেদের জাহির করে তারা কি পেরেছেন শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে? একটি শিশু নিপীড়নে রক্তাক্ত হলে গোটা সমাজই রক্তাক্ত হয়। কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা প্রয়োজন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০১০ সালে ৫৯৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয় ২০১১ সালে তা বেড়ে ৬৩৫ জন, ২০১২ সালে কিছুটা কমে ৫০৮ জন হলেও পরের বছর ২০১৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৯৬ জন। ২০১৪ সালে ৬৬৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে ৮০৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯৮৭ জন নারী ও শিশু। এই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৪৬ জনকে এবং ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করা হয় ৭৩২ জনকে। বাড়ছে শ্লীলতাহানি ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও। বিগত পাঁচ বছরে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৯০৬টি এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৫১৭ জন নারী ও শিশু। ২০১০ সালে এক হাজার ১১৮ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৮৮৬ জন, ৯০০ জন, ৮২৯ জন এবং ৭১৪ জন নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশে ৩২৫টি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। শুধু ধর্ষণ নয়, গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অনেক শিশুকে। ৩২৫ জনের মধ্যে ৩১ জন ছিল শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী। পাঁচজন ধর্ষিত হয়েছে কর্মস্থলে কোনো কারখানা অথবা বাসাবাড়িতে।
এর বাইরে ৫৪ জন ধর্ষণের উদ্দেশ্যে লম্পটদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। ওই সব ঘটনা জাতীয় পত্রপত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এ যদি হয় সমাজ বা রাষ্ট্রের অবস্থা তাহলে শিশুদের নিরাপদে বেঁচে থাকাই কঠিন হবে।
বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সামনের দিনে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। কারণ একটি শিশুর দেহের রক্তক্ষরণ হলে ১৬ কোটি মানুষের মানবিকতার রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম ওলামা, ইসলামি স্কলারসহ সমাজের সব মানুষকেই সচেতন হতে হবে। নিতে হবে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সঠিক উদ্যোগ, যাতে প্রতিটি শিশু নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নির্যাতনের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন
চেয়ারম্যান, এমসি ও প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

ব্যবস্থাপনা পরিচালক : শিব্বির মাহমুদ

১৬৭/২-ই, ইনার সার্কুলার রোড, ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৭১৯১০১৭-৯, ৭১৯৩৩৮৩-৪

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫